পৃষ্ঠাসমূহ

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ভাবনার ডানা-পন্ঞ্চম পর্ব


(পূর্ব প্রকাশের পর)
ঘুমের মাঝে কি না জানি না আমি দেখতে পেলাম আমি মীন আকারে ভেসে বেড়াচ্ছি। কোটি কোটি মীন সাঁতার কাটছে। সবার মাঝে একটা প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে। কে কার আগে সেই লক্ষ্যবস্তুটাতে পৌঁছাতে পারবে? লক্ষ্যবস্তুটা দুর হতে সুর্যের আলোক ঝলকানির মতো মনে হচ্ছে। কখনো আমি আগে যাচ্ছি কখনো অন্য কেউ। মারামারি কাটাকাটিতে সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে। লক্ষ্য সবার একটাই। ঐ আলোক পিন্ডের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া। কিন্ত্তু আমি যেন দৃঢ় প্রতীজ্ঞ। আমার আগে আমি কাউকে সেটা স্পর্শ করতে দেব না। সবাইকে ঝটকা মেরে আমি এগিয়ে চলছি। এক সময় আমি সেটা স্পর্শ করতে পেরেছি। আমার সহযোদ্ধারা সবাই কে কোথায় হারিয়ে গেল জানি না। আমি প্রবেশ করলাম একটা সুর্য দীপ্ত আলোক পিন্ডে। মনে হচ্ছে সেটাই আমার স্থান। আমি সেখানে চল্লিশ দিন অবস্থান করলাম। এরপর আমার আকার আবার পরিবর্তিত হচ্ছে। দেখলাম আমি থেকে আরেক আমির সৃষ্টি হলো। আমি এক হতে দুইয়ে পরিবর্তিত হলাম। দুই হতে চারে। চার হতে আটে। এভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছি। বৃদ্ধি পেতে পেতে এক সময় আমি পূর্ণ হলাম। তারপর এ ধরাধামে এলাম।
কি দেখলাম জানি না। আমার ঘুম ভেংগে গেল। আমি উঠে বসলাম। বারান্দায় গেলাম। চারদিকে সুসান নীরবতা। মাঝে মাঝে দু চারটা কুকুরের ডাক শোনা যেতে লাগলো। বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া খানিকটা শীতল। আমি আবার রুমে ঢুকে সিগারেট আনলাম। তারপর আবার বারান্দায় গেলাম। সিগারেট ধরালাম। মনের মধ্যে আবারো উকি দিচ্ছে প্রশ্ন? আবার সেই ভাবনার বিষয়।
আচ্ছা আমি যে মীন রুপে ছিলাম তখন আমাকে সাঁতার কাটার জন্য শক্তিটা কে দিয়েছে? কে আমাকে প্রেরণা দিয়েছে সেই লক্ষ্যবস্তুতে যাওয়ার? কে আমাকে বিভাজন ঘটিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হতে পূর্ণাংগ রুপ দিয়েছে? শুনেছি লোকমুখে বাউলগণ মীনকেই ঈশ্বর বলে থাকেন। যদি তাই হয় তাহলেতো দেখা যায় সেই ঈশ্বরের সৃষ্টির উপকরণ হচ্ছে খাদ্য। খাদ্যের কারণেই বীর্য তৈরী হয়। তাহলে এখানে রিজিকের ভুমিকা অপরিসীম। কিন্ত্তু সেই মীনের মধ্যে আমার যে খুবী ছিল তাতো অস্বীকার করার কোন কারণই দেখছি না। আবার মীনের শক্তিকে সেটাকেওতো অস্বীকার করতে পারছি না। এতো দেখছি মহা ঝামেলা।
চিন্তা ভাবনার কারণে অঘুমোই রয়ে গেছি। মনে হচ্ছে রাতে আর ঘুম হবে না। আবার ঘুমেরও প্রয়োজন। না ঘুমালেতো সকালে স্কুলে যেতে পারবো না। ছেলে-মেয়েদের ক্লাসও করাতে পারবো না। সিগারেটটা শেষ করে আবারো ঘুমাতে গেলাম। দেখি ঘুম আসে কি-না?
কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানিনা। জেগে দেখি রুমে কেউ নেই। সবাই যার যার কর্মস্থানে চলে গেছে। শুধু আমি একাই রয়ে গেছি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি এগারোটা বেজে গেছে। আজ মনে হয় স্কুলে আর যাওয়া হবে না।
(চলবে)

ভাবনার ডানা-চতুর্থ পর্ব


(পূর্ব প্রকাশের পর)

এখন বৃষ্টি বেশ জোরে শোরে শুরু হয়েছে। টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দ শুনতে বেশ লাগছে। মনটা কোন সুদুরে হারিয়ে যেতে চাইছে। কিন্ত্তু পারছি না। মনা পাগলা নামক লোকটির একটি কথা বেশ জোরে শোরেই যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। বার বার মনে পড়ছে  " এটা এমন একটা বিষয় - যা দেখা যায় না। ধরা যায় না কিন্ত্তু অনুভব করা যায়। উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। সর্বত্রই তার সরব উপস্থিতি। এই মনের মাঝেই ভাবের আবেশেই সে ধরা দেয় ভাবুকের কাছে। যারা তার ভাবুক তাদেরকেই সে ভাবায়। তাদেরকেই সে চিন্তার রাজ্যে বিচরণ করায়। সেই চিন্তা রাজ্যে তারা সারাক্ষণ ডুবে থাকে। "

আচ্ছা অামি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি? ঠিক মনা পাগলার মতো। আমার কাছে কেন বার বার সে প্রশ্নটা উঁকি দিচ্ছে? কি যে করি? কার কাছে এই প্রশ্নের উত্তরটা পাই? ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। আবার সমাধানও পাচ্ছি না। ভাবনার ডানা কেবল বিস্তৃত হচ্ছে। আচ্ছা ভাবনা কি? ভাবনার প্রকারভেদ কি? কেন ভাবনা আসে? ভাবনার সংজ্ঞাটা জানা দরকার
আমি আর দেরি করলাম না। বারান্দা থেকে রুমে প্রবেশ করলাম। তারপর কাগজ কলম বের করে লেখা শুরু করলামঃ

ভাবনা কি

মনের কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থিত চিত পদার্থ যা অতি সূক্ষ্মকারে বিরাজিত তাই ভাবনার বিষয়। সেই চিত পদার্থই একটি জীব থেকে আরেকটি জীব থেকে পার্থক্য সুচীত করে। এর থেকে উত্তোরণের একমাত্র পথই হচ্ছে-ভাবনা। ভাবনার মুল হচ্ছেঃ ভাব + না = ভাবনা। ভাব হচ্ছে মনের গতি প্রকৃতি। মন হচ্ছে চিত পদার্থ। চিত পরমাণু হচ্ছে ঈশ্বরেরই অংশ। ঈশ্ ধাতুর অর্থ হচ্ছে শক্তি। ঈশ্বর হচ্ছেন সেই শক্তির বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং যে চিত পরমাণু ঈশ্বরের অংশ তা যদি প্রতিটি জীবের মধ্যেই থাকে তাহলে সেতো ঈশ্বরেরই অংশ। আর সেই অংশ বিশেষ যদি পুর্ণভাবে মিলিত না হয়, তাহলে ঈশ্বরকেতো পূর্ণাংগ বলা যায় না। না-কি ঈশ্বর পূর্ণাংগতা প্রাপ্তির জন্যই তার দিকে আহব্বান করে? যাকে আমরা বলি ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন। যেখান থেকে আমাদের আগমণ সেখানেই প্রত্যাবর্তন। ঝর্ণার জল যেরুপ সাগরের সাথে মিলিত হতে ছুটে চলে অনন্ত পানে আমরাও কি মৃত্যু নামক স্রোতধারায় সেই দিকেই গমণ করছি?

-স্যার কি লিখছেন? শরীফ ভাই জিগ্যেস করলেন

-তেমন কিছু না। একটা আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করছি

-তা লিখেন। রাত কয়টা বাজে সেটা কি খেয়াল করেছেন?

শরীফ ভাইয়ের কথা শুনে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত প্রায় একটা ছুই ছুই করছে। সবাই যার যার বিছানা পত্র গোছাতে ব্যস্ত। কারো চাকুরি আছে। কারো আছে ব্যবসা। আর আমার আছে স্কুল। আমি লেখাটা বন্ধ করে হাত মুখ ধোয়ার জন্য আবার ওয়াশরুমের দিকে গেলাম। যেয়ে দেখি বিরাট লাইন লেগে আছে। অগত্যা আমি আমার স্বস্থানে ফিরে এলাম। লেখাটায় চোখ বোলালাম। আরো কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে। কিন্ত্তু পারছি কই? কর্ম ব্যস্ততা আমায় দেয় না অবসর। আমি আবার ওয়াশ রুমের দিকে গেলাম। হাত মুখ ভালো করে পানি ওয়াশ করলাম। চোখে পানির ঝাপটা দিলাম। ওয়াশ রুম হতে বের হয়ে বিছানায় সটান শুয়ে পড়লাম। 

রুমের বাতি নেভানো হয়েছে। চারি দিকে হাল্কা অন্ধকার। সবাই ঘুমুতে ব্যস্ত। কারো কারো নাক ডাকার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্ত্তু আমার ঘুম আসছে না। শুয়ে শুয়ে চিন্তা করতে লাগলাম

ঘন অন্ধকারে আমি যেরুপ জেগে আছি। যখন আমি আমার মায়ের পেটে ছিলাম তখনো কি আমার চৈতন্য ছিল? আমি কি জেগে ছিলাম না সেখানেও ঘুমাতাম? যদি সেখানে আমার ঘুমের স্থান হয় আর আমি যদি ঘুমাতাম তাহলে কে আমাকে ডাকতো? খিদে লাগলে কে আমাকে খাওয়াতো? বাথরুমের প্রয়োজন হলে কি করতাম?

আচ্ছা কোরআন বলেঃ একটা সময় তুমি অতিক্রান্ত করেছো যখন তুমি উল্লেখ করার মতো কোন কিছুই ছিলে না। না আমার আকার ছিল না রুপ ছিল? অর্থাৎ আমি ছিলাম নিরাকার। নির+আকার। নিরাকার অর্থ পানির আকার। তার মানে আমি ছিলাম পানির আকারে। তাহলে সেই পানিটা কি? সেটা নিশ্চয়ই আমার পিতার মণি তথা বীর্য। আর সেটা তৈরী হয় খাদ্যবস্তু হতে। খাদ্য পরিপাক হয়ে হয় রক্তরসে। রক্ত হতে বীর্য তথা মণি। অর্থাৎ আমি মণির মধ্যেই ছিলাম। অর্থাৎ অামার স্থান ছিল বীর্যে। যদি তাই হয় তাহলে কাকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছেঃ পড় তোমার প্রভুর নামে। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাঁধা রক্তবিন্দু হতে? কোরআনের বাক্য হচ্ছে আদেশ-নিষেধ মুলক। তথা ইম্পারেটিভ সেনটেনস। সেখানে কর্তা ঊহ্য থাকে। যে পড়ে তাকেই উদ্দেশ্য করে যেন বলা হচ্ছে। তাহলে কাকে উদ্দেশ্য করে বলছে সেই কথা? বিধেয়টা কে? যদি নুর মুহাম্মদকে লক্ষ্য করে বলে থাকে তাহলে কোথ্থথেকে আদেশ আসছে? সেই আদেশ কোথা থেকে উদিত হচ্ছে? কোথা থেকে উরুয হচ্ছে কোথায় নুজুল হচ্ছে?

মাথাটা খারাপ করেই ছাড়বে দেখছি। মনা পাগলার হাত থেকে বাঁচতে হবে। নয়তো সমস্ত উল্টা পাল্টা প্রশ্নে পুরো মাথাটাই খারাপ হয়ে যাবে। আমি আবারো ঘুমাতে চেষ্ট করলাম। কিন্ত্তু ঘুমটা হটাৎই উধাও হয়ে গেছে। খাটে শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করছি। বৃষ্টিও থেমে গেছে। আমিও আমার চিন্তাকে থামানোর চেষ্টা করলাম। উবু হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছি। দেখি ঘুমটা আসে কি-না? কারণ ঘুমটা জরুরী। পরদিন আমার স্কুল আছে

(চলবে)

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ভাবনার ডানা-তৃতীয় পর্ব

(পূর্ব প্রকাশের পর)

মনা পাগলা চলে যেতেই আমার মাথায় যেন চিন্তা ঢুকে গেল। আমিও নিজেরই অজান্তে সেই পথের দিকে তাকিয়ে থাকলাম আর মনে মনে বলতে লাগলামঃ

যেহন দিল পীতা ইশক. দা জাম
সা দিল মাস্ত ও মাস্ত মোদাম
হক্ব মওজুদ সদা মওজুদ।
সূলি তে মানসুর চড়হা কর
আনা আল হক. কালাম
হক্ব মওজুদ সদা মওজুদ।

মনা পাগলা চলতে চলতে হটাৎ মিলিয়ে গেল পথের বাঁকে। অামি হাটছি আর ভাবছি ১ + ১ = ১। এটা কিভাবে সম্ভব? জানি কেবল ভুল হলেই তা সম্ভব। কিন্ত্তু ভুল হলে সে কেন আমাকে ভুল অংক শিখাতে চাইছে..আমি আমার মেছে চলে এলাম। রুমে ঢুকতেই দেখলাম রুমমেটরা সবাই একাট্টা হয়ে কার্ড খেলছে। আমাকে দেখে তুর্য চেচিয়ে উঠলোঃ

-ঐ যে মাস্টার সাহেব আসছেন। তা মাষ্টার সাহেব এত দেরি করলেন কেন?

-বৃষ্টির জন্য দেরি হয়ে গেল।

-তাতো দেখতেই পাচ্ছি। একেবারে ভিজে কাক হয়ে গেছেন। মাথাটা মুছেন মাষ্টার সাহেব। নয়তো ঠান্ডা লেগে জ্বর হতে পারে। সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন।

সে আমার দিকে তোয়ালে ছুঁড়ে দিল। আমি তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছলাম। ভিজে জামাটা খুলে টি শার্ট গায়ে দিলাম। প্যান্টটা খুলে লুঙ্গি পড়ে বাথ রুমে যেয়ে জামা-কাপড় বালতিতে রেখে হাত মুখ ভালোভাবে ধুয়ে বের হলাম। কেমন যেন লাগছে। একটু একটু ঠান্ডা লাগছে। মনে হচ্ছে যেন জ্বর আসতে পারে। সবাই কার্ড খেলছে। আমি সেদিকে গেলাম না। আমার খিদে লেগেছে। আমি দেখতে চাইলাম রাতে খালা কি রান্না করেছে?

দেখলাম আলু দিয়ে ডিম রান্না করেছে। আর ডাল। সস্তা খাবার। ঝামেলা কম। মনে হয় এই রান্নায় খালারা খুব খুশি হয়। আমি খাবার শেষ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। বিছানায় যাবার আগে পাশেই আমার বুক শেল্ফ থেকে একটা বই বের করলাম। নাম জীবনানন্দ দাসের শ্রেষ্ঠ কবিতা। বইটা হাতে নিয়ে পড়তে যা'ব ঠিক সেই মুহুর্তে মনে হল মনা পাগলার কথা ১ + ১ = ১ । একটা পাগল কি বললো না বললো সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবার কোন দরকার নেই। ভাবনার বিষয় হতে পারে পজিটিভ। নেগেটিভ নয়। নেগেটিভ চিন্তা মানুষকে পেছনে ফেলে দেয়। অামি কবিতার বইটি হাতে নিয়ে কবিতা পড়া শুরু করলামঃ

নীলিমা
রৌদ্র-ঝিলমিল
ঊষার আকাশ, মধ্যনিশীথের নীল,
অপার ঐশ্বর্য্যবেশে দেখা তুমি দাও বারে বারে
নিঃসহায় নগরীর কারাগার-প্রাচীরের পারে।

-কি ব্যাপার মাষ্টার সাহেব? শরীর খারাপ না-কি? না মুড অফ। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না?
শরীফ ভাই জানতে চাইলো।

-নাহ তেমন কিছু না। বৃষ্টিতে ভিজেছিতো..তাই খানিকটা জ্বর জ্বর লাগছে। হাল্কা একটু মাথা ব্যাথা করছে।

-তাহলে রং চা খান। ভালো লাগবে। আদা দিয়ে রং চা।

-মন্দ হয় না।
আমি রান্না ঘরে যেয়ে চায়ের পানি বসালাম। আর ঠিক তক্ষুণি আবার মনে পড়লো ১ + ১ = ১। অামি শরীফ ভাইকে বললামঃ
- আচ্ছা শরীফ ভাই ১ + ১ = ১ কখন হয়?

- ১ + ১ = ২ হবারইতো কথা। ১ কখন হয়? সেটাতো জানি না। মনে হয় কেউ ভুল করলে তখনই হবার কথা। তাছাড়া অন্য কোন উপায়ইতো দেখছি না।

- আমিওতো জানি তাই। কিন্ত্তু একজন বললো এক + এক = এক। এটা অামার মাথায় ঢুকছে না। এর মানে টা কি?

-মনে হয় কেউ আপনার সাথে ফাপর নিছে?

-আরে না। সেটা না।

-তাহলে কি?

-ঠিক আছে। বাদ দেন। নিন চা খান।

আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বারান্দায় গেলাম। একটা সিগারেট ধরালাম। বৃষ্টি হচ্ছে ঝুম বৃষ্টি। আমি বৃষ্টিটা বেশ উপভোগ করছি। বৃষ্টির পানির ফোঁটার দিকে হটাৎ দৃষ্টি আটকে গেল। অঝোর ধারায় যে বৃষ্টি হচ্ছে সেই পানি পড়ে তা আবার মিলিয়ে যাচ্ছে পানির সাথেই। কিন্ত্তু এর সাথে কি অংকটার কোন যোগ সুত্র আছে? কাকে জিগ্যেস করা যায়...সেটাই ভাবছি মনে মনে...

(চলবে)

ভাবনার ডানা-দ্বিতীয় পর্ব

(পূর্ব প্রকাশের পর)

আমার কথা শুনে তিনি বললেনঃ

-কোন মুসলমান ঘরের সন্তানদের নাম মুসলিম রীতি অনুযায়ী রাখা উচিত। প্রতিটি বস্ত্তুর একটি গুণ থাকে। সেই গুণাবলীর জন্যই তার নামকরন করা হয়। যেমন ধর মরিচ। এটা বললেই মনের মধ্যে একটা ঝাল ভাব ফুটে ওঠে। তাই না?
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম। আমার সম্মতিতে সে যেন একটা অবকাশ পেল। তারপর জানতে চাইলো

-তুই কি করিস, বাবা?

-অামি একটা প্রাথমিক স্কুলে মাষ্টারী করি।

-ভালো। তুইতো একটা স্কুলে মাষ্টারী করিস। ছেলে-মেয়েদের জ্ঞান দিস। আচ্ছা বলতো  ১ + ১ = ১...... এর মানেটা কি?

- ১ + ১ = ১..... এটাতো ভুল। এক যোগ এক সমান হবে দুই।

-আরে বোকা ভেবে বল।

-আমিতো ভেবেই বললাম। ছেলে-মেয়েদের অংক করাই। ওদের তো আর ভুল শেখাতে পারি না। 

-আমি তোকে যে অংকের কথা বললাম সেটা দুনিয়ার অংক না গাধা। এটা হলো আধ্যাত্মিকতার অংক। 

-এটা আবার কি? আধ্যাত্মিকতার অংক? আমি অনেকটা বিষ্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলাম।

-এটা এমন একটা বিষয় - যা দেখা যায় না। ধরা যায় না । কিন্ত্তু অনুভব করা যায়। উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। সর্বত্রই তার সরব উপস্থিতি। এই মনের মাঝেই ভাবের আবেশেই সে ধরা দেয় ভাবুকের কাছে। যারা তার ভাবুক তাদেরকেই সে ভাবায়। তাদেরকেই সে চিন্তার রাজ্যে বিচরণ করায়। সেই চিন্তা রাজ্যে তারা সারাক্ষণ ডুবে থাকে।

-আপনার কথার মাথা-মুন্ডু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।  কি সব বলছেন? ভাব ভাবুক চিন্তা রাজ্য....আর এসব ভেবে আমার লাভ কি?

আমার কথা শুনে মনা পাগলা ক্ষাণিকক্ষণ নিবিষ্ট চিত্তে হাসলেন। স্মিত্য হাস্য যাকে বলা যায়...তারপর বললেনঃ

-কেন বললাম তাতো জনিঁ না। তবে মনে হলো তোকে জানানো দরকার। তাই জানালাম। একটু ভেবে দ্যাখ। চিন্তা কর। পেয়ে যাবি। আর না পারলেতো আমি মনা পাগলা আছিই। তোকে জানাবো। যা... এই বলে সে হন হন করে হাঁটতে লাগলো। আর বির বির করে গাইতে লাগলোঃ

যেহন দিল পীতা ইশক. দা জাম
সা দিল মাস্ত ও মাস্ত মোদাম
হক্ব মওজুদ সদা মওজুদ।
সূলি তে মানসুর চড়হা কর
আনা আল হক. কালাম
হক্ব মওজুদ সদা মওজুদ।

(চলবে)

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ভাবনার ডানা-প্রথম পর্ব

এ্যাই খোকা শোন.. 
 
অামি তাকিয়ে দেখতে চেষ্টা করলাম কে ডাকছে? কারেন্ট নেই। হাল্কা অন্ধকার। কোন কোন বাড়ীতে চলছে জেনারেটর। কারো বা আইএসপি। সন্ধ্যা হতেই ইলশে গুঁড়ির মতো গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বাহিরে বের হয়েছিলাম একটা কাজে। কাজটি শেষ হতেই বাড়ীতে ফিরছি। চারদিকে কেমন যেন একটা অদ্ভুত পরিবেশ। এই পরিবেশে এই অদ্ভুত নামে কে আমাকে ডাকতে পারে? আমি আবারো চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে চেষ্টা করলাম কে ডাকছে। কিন্ত্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। আমি আবারো হাঁটতে শুরু করেছি ঠিক সেই সময় আবারো শুনতে পেলাম

-এ্যাই খোকা শোন…এইদিকে আয় ….এ্যাই দিকে বাবা..

অামি আবারো তাকিয়ে দেখতে চেষ্টা করলাম..কই কিছুইতো নজরে পড়ছে না। ভালো করে তাকাতেই হটাৎ নজরে পড়লো অন্ধকারে একটা কোণে ঘাপটি মেরে বসে আছে একটি লোক। গায়ে ছিন্ন বস্ত্র। মলিন বেশ ভুষণ। মাথার চুলগুলো উসকো খুসকো। একটা বাড়ীর প্রবেশদ্বারের সামনে ঠ্যায় হেলান দিয়ে বসে আছে লোকটা। পুরো শরীর ময়লা চাদর দিয়ে ঢাকা। কেবল মাথাটা বের করে আছে। তার দিকে আমার দৃষ্টি পড়তেই তিনি আমাকে ইশারায় ডাকলেন। অামি কাছে গেলাম।

-কি নাম তোর?

-জ্বি আমার নাম সোহান।

-সোহান? এটা কোন নাম হলো? তুই হিন্দু না মুসলমান?

লোকটা অদ্ভুত ভংগিতে বললো। বলার ধরণটা কেমন ছিল ঠিক বোঝাতে পারবো না। ঠোঁট বাঁকিয়ে কি রকম করে যেন বললো। তাছাড়া আমি কোন ধর্মের সেটা জানার তার কি কোন প্রয়োজন আছে? প্রথমে ক্ষাণিকটা বিরক্তবোধ করলেও এখন কৌতুহল বোধ হচ্ছে। দেখতে ইচ্ছে করছে সে কি করে? জানতে ইচ্ছে করছে – কেন সে আমার সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছে? দেখি না কি হয় টাইপের আর কি? আমি বললামঃ

-আমি মুসলমান ।

-তাহলে মোহাম্মদ বলিসনি কেন?

আমি তার এ প্রশ্নে অনেকটা হতভম্ব হয়ে গেলাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ

-তু্‌ই কি মুহাম্মদের বংশধর নস?

-জ্বি।

-তাহলে তওবা কর। আর আমার সাথে সাথে বল “অসতাগফিরুল্লাহ রাব্বিমিন….”

আমি সম্মোহিত হয়ে যেন তার সাথে সাথেই বললাম – “অসতাগফিরুল্লাহ….

(চলবে)