পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব পাঁচ

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

চিন্তাযুক্ত মনা পাগলা হারুণের দিকে তাকিয়ে বললোঃ
- হারুন্যা তুইতো আমারে মহা চিন্তায় ফালাইয়্যা দিলি....

-ক্যান ভাই? কি হইছে....

-এই যে তুই বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম এইডা কোরআনের আয়াত কি-না জানতে চাইছোস...আমিতো লেহা পড়া বেশি করতে পারি নাই..কেমতে জানমু...বই পুস্তক যে পড়মু .....হেই টেক্যা পয়সাও আছিল না...স্কুলেও যাইতে পারি নাই...

-কি যে কন, ভাই? আমিওতো তেমুন লেহা পড়া হিগি নাই....তয় আমিও মসজিদের ইমাম সাবেরে জিগাইছিলাম হেয় যেই কতা কইছে হেডা আপনেরে হুনাইতে পারি?

-ক দেহি...কি কইছে...

- হেয় কইছেঃ
بسم الله الرحمن الرحيم কোরআনের আয়াতের অংশ। সুরা নমলের একটি আয়াত বা অংশ। সুরা ‘তাওবা’ ব্যতীত প্রত্যেক সূরার প্রারম্ভে بسم الله الرحمن الرحيم লিখা বা পাঠ করা হয়। তাসমীয়াহ সুরা ফাতিহার অংশ, না অন্যান্য সকল সূরারই অংশ এতে ইমাম, মোজতাহিদ ও তাফসীরবিদগণের মতানৈক্য রয়েছে। ইমামে আ’জম আবু হানীফা (রাঃ) বলেছেন, بسم الله الرحمن الرحيم সুরা নমল ব্যতীত অন্য কোন সূরার অংশ নয়। তবে এটি এমন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ আয়াত যা প্রতিটি সূরার প্রথমে লিখা এবং দু’টি সূরার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম হাকেম, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম (রাঃ) এর নীতিমালা অনুস্বরণে বিশুদ্ধ হাদীছ রুপে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম প্রথম দু’টি সূরার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করনে অসুবিধার সম্মুখীন হতেন, তখন ‘বিসমিল্লাহ’ অবতীর্ণ হয়। (মাযহারী)

ইবনে মরদুওয়াইর তাফসিরে রয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আমার ওপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যার মতো আয়াত হজরত সুলাইমান ছাড়া অন্য কোনো নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়নি। আয়াতটি হলো, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। হজরত জাবির রাঃ বর্ণনা করেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন পূর্ব দিকে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, বায়ুমণ্ডলী স্তব্ধ হয়ে যায়, তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ সমুদ্র প্রশান্ত হয়ে ওঠে, জন্ত্তুগুলো কান লাগিয়ে শয়তানকে বিতাড়ন করে এবং বিশ্ব প্রভু স্বীয় সম্মান ও মর্যাদার কসম করে বলেন, ‘যে জিনিসের ওপর আমার এ নাম নেয়া যাবে তাতে অবশ্যই বরকত হবে। (তাফসির ইবনে কাসির)

হেয় আরো কইছেঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, ‘জিবরাইল (আঃ) সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তা হচ্ছে জিবরাইল (আঃ) বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আশ্রয় চান। মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর জিবরাইল (আঃ) বললেন, হে নবী! আপনি বলুন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইকরা বিসমি… অর্থাৎ আপনি পড়ু–ন, আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটাই প্রথম সূরা, যা আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ করেন।’ (ত্বাবারি, তাফসির ইবনু কাছির হা-২৬৩)

-হুম..ভালোইতো কইছে। কিন্ত্তু এইডার হাকীকত কি, হেইডা জানস?

-কেমতে জানমু ভাই? 

-আরে এইডার হাকীকত আরো গুরুত্বপুর্ণ। তুই দ্যাখ, একটা মানুষ, হের মইধ্যে যা কিছু আছে তার সবই আছে হেই মানুষের বীজের মইধ্যে। মানি অইলোঃ প্রত্যেকটা বীজই হাকীকতে পুর্ণাঙ্গ মানুষ তথা ইনসানে কামিল। হেয় অইতে পারে পুরুষ না অইলে মাইয়্যা মানুষ। হেই দিকে লক্ষ্য কইর‌্যা আল্লাহ পাক কইতাছেঃ

"অাফারায়াইতুম মা-তুমনুন। আআনতুম তাখলুকুনাহ আম নাহনুল খালিকুন। নাহনু ক্বাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়ামা নাহনু বিমাসবুক্বীন।"[সুরা ওয়াকেয়া আয়াত নং-৫৮-৬০]। অর্থঃ মানুষ আপন বীজের যে মৃত্যু ঘটায় অর্থাৎ যে বীর্যপাত করিয়া থাকে তার পরিণতি সে দেখে না? স্খলিত বীর্য হইতে মানুষ সৃষ্টি করা বা না করার দায়িত্ব তাহাদের। তাতনুন অর্থ তোমরা নিক্ষেপ/প্রবাহিত করছ। হের পর অন্য আয়াতে ঐ একই সুরার ৬৩নং আয়াতে কইছেঃ আফারায়াইতুম মা- তাহরুছুন? তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সর্ম্পকে (তোমরা) ভেবেছ কি? আআনতুম তাযরাউনাহ আম নাহনুয যা-রিউন। অর্থঃ তোমরাই কি তাকে অন্কুরিত কর না আমি করি? লাও নাশা-উ লাজ্বাআ'লনা-হু মান ফাজালতুম তাফাক্কাহুন। অর্থঃ অামি ইচ্ছা করলে একে চুর্ণ-বিচুর্ণ করতে পারি, তখন বুদ্ধিহীন হয়ে পড়বে।
(চলবে)

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব চার

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

-আপনের কতা আমি কিছুই বুঝবার পারতাছি না। কি কইতাছেন? একবার কইতাছেন এই উনিশ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আবার কইতাছেন সুরা আলাকের কতা? কেমুন জানি প্যাচ খাইয়্যা যাইতাছে গা...

-আরে ব্যাডা, যখন সুরা আলাক নাযিল অয় তখন প্রথম পাঁচটা আয়াতই নাযিল অয়। হেই সুময় আর কোন আয়াত নাযিল অয় নাই।

- না অইলে এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কখন নাযিল অইলো? এইডা কি কুরঅানের অায়াত না?

হারুনের কথা শুনে মনা কেমন যেন ভ্যাবা চেগা খেয়ে যায়? আসলেই তো এই যে আমরা কোরআন পাঠের সময় তাউজ তথা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইয়াতের রাজিম বলি এবং এরপর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলি...এটা কখন কোন্ সময় নাযিল হলো? কারণ, আল্লাহ পাক বলেছেন, এই সেই কোরআন যার মধ্যে কোন সন্দেহ নাই যারা মুত্তাকি তাদের জন্য। অর্থাৎ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদের জন্য এই কোরআনের মধ্যে কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ তৈরী করা হয় নাই তথা রাখা হয় নাই। তাছাড়া যখন সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত নাযিল হয় তখন সেই আয়াতের উপর অনেকগুলো ঘটনা প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করে। যেমন কথিত আছেঃ যখন মহানবী হেরাগুহায় ধ্যান মগ্ন অবস্থায় ছিলেন তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পান, কে যেন তাকে তার নাম ধরে ডাকছে? তিনি সেই আওয়াজ শুনে ভয় পেয়ে যান এবং তিনি হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) - এর কাছে এ ঘটনা ব্যক্ত করেন এবং বলেন আমাকে আবৃত কর। হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) - এর চাচাতো ভাই খ্রীষ্টান পাদ্রী ওরাকা ইবনে নওফেল এর কাছে এই ঘটনা ব্যক্ত করলে তিনি তাঁকে বলেনঃ যখন আপনার নাম ধরে ডাকা হবে তখন আপনি বলবেনঃ লাব্বাইক...তারপর শুনেন সে কি বলে? নওফেল এর কথা শুনে মুহাম্মদ যখন হেরা পর্বতের গুহায় আবারো ধ্যানের স্থানে যান তখন তিনি শুনতে পান, তাকে তার নাম ধরে ডাকছে , ইয়া মুহাম্মদ, ইয়া মুহাম্মদ...সেই আহব্বান শুনে তিনি তখন লাব্বাইক বলে সাড়া দিলেন। তখন দেখলেন-এক সুন্দর যুবক এসে তাকে বলছেনঃ পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাঁধা রক্তবিন্দু হতে।

মুহাম্মদ (সাঃ) যখন এই ঘটনাটা নওফেল এর কাছে বর্ণনা করেন এবং আয়াতগুলো শুনান, তখন তিনি বলে উঠেন কুদ্দুসুন কুদ্দুসুন। অর্থাৎ পবিত্র আত্মা পবিত্র আত্মা। যাকে আমরা ফেরেস্তা জিব্রাইল বলে জানি। এই ঘটনাটা স্যার সৈয়দ আমির আলী কর্তৃক রচিত দ্যা স্পিরিট অফ ইসলাম নামক গ্রন্থে বর্ণিত আছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোখাখাররুল ইসলাম কর্তৃক রচিত ইসলামের ইতিহাসগত বিভ্রান্তির রহস্য নামক গ্রন্থে বর্ণিত আছে।এই ঘটনাটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে দেখা যায়-মুহাম্মদকে প্রথমেই ছোট করা হয়েছে বকলম বলে। অর্থাৎ তিনি লেখা পড়া কিছুই জানতেন না। যিনি লেখা পড়া জানেন না, তিনি কিভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন? কিভাবে তিনি হিলফুল ফুযুল  নামক ঐতিহাসিক ঘটনার সুত্রপাত করালেন? মুসলমানরা বলবেন-আল্লাহর কুদরতে....আরে গাধার দল...সবকিছুই যদি আল্লাহর কুদরতেই হয়, তাহলে সবকিছুই কুদরতেই হোক...এই কুদরত নামক বিষয়টি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিন্হ এঁকে দিয়েছে। তারা ধরতেই পারছে না যে এ ঘটনা দ্বারা মুহাম্মদ (সাঃ) কতো ছোট করা হয়েছে? তাকে যেতে হয়েছে খ্রীষ্টান পাদ্রীর নিকট। তার কাছে কে আসলো, সেটা সে জানলো না। জানলো-খ্রীষ্টান পাদ্রী। যে খ্রীষ্টান পাদ্রী হেরা গুহা নামক কোন সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কি-না, তাও মুসলমানরা জানলো না। অথচ সেই ঘটনা পড়ে মুমসলমানরা বলে উঠছেঃ সুবহানাল্লাহ...উল্লেখ্য যে এই পবিত্র আত্মা তথা কুদ্দুসুন এসেছিল। সেই ঘটনাটা বর্ণনা করার সময় কিন্ত্তু হযরত মরিয়ম (আঃ)-কে কিন্ত্তু কোন খ্রীষ্টান পাদ্রীর নিকট যেতে হয়নি। কেননা হযরত মরিয়ম (অাঃ) হচ্ছেন খ্রীষ্টানদের মা মেরী। এবং তার পুত্র হযরত ঈসা (আঃ) হচ্ছেন তাদের মান্যবর নবী। কিন্ত্তু মুসলমানদের নবীকে যেতে হয়েছে খ্রীস্টানদের নিকট। কি আজব তাদের কারসাজি যারা এই ঘটনাটা সাজিয়েছেন? কারা করেছেন? সেটা আবার অন্য ইতিহাস...মনা কোন কুল কিনারা করতে পারছে না...এতক্ষণ সে বিজ্ঞের মতো কথা বলছিল। কিন্ত্তু হারুণের প্রশ্ন শুনে সে সত্যিই মহা চিন্তায় পড়ে গেল।

(চলবে)

রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব তিন

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মনা হাঁটতে হাঁটতে সামনের দিকে এগুতে লাগলো। আর পেছেনে তাকিয়ে দেখলো হারুন তার পেছনে পেছনে আসছে। কিন্ত্তু এই মুহুর্তে সে চাচ্ছে না কেউ তাকে সঙ্গ দিক। সে অন্য একটা গলির দিকে দ্রুত ঢুকে পড়লো। কিন্ত্তু হারুন নাছোড়বান্দা। সে দৌড়ে মনার সামনে এসে দাঁড়ালো তারপর বললোঃ

-কি ব্যাপার ভাই? আপনে আমারে হালাই থুইয়্যা অাইয়্যা পড়লেন? আর আমি আপনের পিছনে পিছনে দৌড়াইতে দৌড়াইতে শেষ....

-তরে কি কইছি, তুই আমার লগে আয়? আমার লগে অাহিস না। অাইলে বিপদে পড়বি...আমার কথা শোন্ তুই আমারে ছাইড়্যা যাগা...তোর ভালা অইবো?

-আরে রাহেন ভালা-বুড়া....আগে কন আমারে কেন আপনে বেদটা জানাইতে চাইতাছেন না....

-আরে বেশি বেদ জানন ভাল না....জানলে বিপদ আছে...

-খালি বিপদের কথা কয়...হুনেন বিপদের ভয় দেহাইয়্যা আমারে লাব নাই...আমি ডরাই না...

তারা হাঁটতে হাঁটতে মোড়ের মুল রাস্তা ছেড়ে একটা গলির ভেতর ঢুকলো। সেই গলির প্রথম দোকানটা মাসুমের। এ অন্ঞ্চলে মাসুমের চায়ের দোকানের সুখ্যাতি আছে। গরুর দুধের চা। বেশ ভালো বানায়। দুর দুরান্ত হতে অনেকেই এখানে আসে চা খেতে। দোকানটিতে বসার কোন স্থান রাখা হয় নাই। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই চা খায়। মনা সেই দোকানের ধারের কাছে গিয়ে সবুজকে দেখে বললোঃ

-সবুজ ভাই, দুইডা ফাস কেলাস চা দেন....

সবুজ দুজনের জন্য দুই কাপ বানিয়ে দেয়। চায়ে চুমুক দিয়ে মনা বেশ একটা পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলে

-...আহা..চা ডা দারুণ হইছে। তোর দোকানের চা না খাইলে মনে অয় না যে চা খাইছি...

মনার কথা শুনে সবুজ লজ্জা পায়। বিনয়ের সুরে বলেঃ

-মনা ভাই, আমরার লাইগ্যা দোয়া করুনচে...যেন ভালা কইর‌্যা চা আফনারারে বানাইয়্যা খাওইতাম পারি।

-আরে বেডা চাতো ভালাই বানাস। এর থন আর কি ভালা বানাইতে পারবি...

হারুন দেখলো মনা সবুজের সাথে কথা বলে কাল ক্ষেপন করছে। সে চাচ্ছে হারুন চলে যাক। মনাকে একা করে দিক। কিন্ত্তু তার ভাব ভঙ্গীতো ভালো ঠেকছে না...মনে হচ্ছে সে মুল কথা না শুনে যাবে না...দেখাই যাক না কি হয়...

হারুন চা খেয়ে সিগারেট কিনলো। অার একটা মেছ কিনলো। তারপর মনার দিকে তাকিয়ে বললোঃ

-এই দিকটায় বহেন। এইডা নিরিবিলি আছে। কেউ ডিটাব করবো না।

এই কথা বলে হারুন ম্যাচ আর সিগারেটের প্যাকেটটা মনার দিকে বাড়িয়ে দেয়। তারপর মনা একটা সিগারেট ধরিয়ে হারুণের পাশে আয়েশ করে গা এলিয়ে দিয়ে বসে। তারপর সিগারেটের ধোঁয়ার কুন্ডলি আকাশের দিকে ছেড়ে বলেঃ

-বুঝলি রে পাগলা - মানুষের বীজের মইধ্যেই আছে আসল তত্ত্ব। হেই তত্ত্বটা বুঝবার পারলে মানুষ যে কতো উর্ধ্বস্তরে উইট্যা যাইতে পারতো গা...হেইডা মানুষ জানে না...দেখ সুরা মুদাচ্ছির আয়াত নং ৩০। হেইহানে আল্লাহ পাক কইছেঃ "এরপর উনিশ"। এই উনিশ কইথ্ক্কিা আইলো? প্রথমে যহন সুরা আলাক নাজিল হয় তহন আয়াতের সংখ্যা আছিল ৫। তারপর দীর্ঘদিন ধইর‌্যা আর কোন আয়াত আহে নাই....হেই সুময় মক্কার কাফেররা মহানবীরে দারুণ অপমান আর অপদস্ত করছিল। আল্লায় কইলোঃ "অামি শীঘ্রই আপনার উপর ভারী কালাম নাজিল করুম।" আয়াত নং-৫ সুরা নাম্বার ৭৩। এই উনিশ আর কিছুই না। এইডা অইলো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এইহানে আয়াতের সংখ্যা উনিশ। আবার দ্যাখ, কোরআনে মোট সুরার সংখ্যা ১১৪টা। এইডা ১৯ দিয়া ভাগ দে। দেখবি মিল্ল্যা যাইবো গা। ১১৪/১৯=১৬

প্রথমে যেই সুরা নাজিল করা অয়, হেইডা অইলো সুরা আলাকের পাঁচটি আয়াত। যার মইদ্যে উনিশটা শব্দ আছে। এই উনিশটি শব্দের মইদ্যে ৭৬টি অক্ষর আছে। ৭৬ শব্দটিও ১৯ দিয়া ভাগ দিলে মিল্ল্যা যায় গা..(৭৬/১৯=৪)..যুদিও এই সুরাডা নাযিল অইছিল প্রথমে। এহন আছে ৯৬নম্বর স্থানে। উল্টা দিক দিয়া যদি গনন যায় তাইলে দেকবি এই সুরা অইতাছে ১৯ নাম্বারে। সুরা মুদাচ্ছিরে ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ পাক কইছেঃ "এর উপর রইছে উনিশ"। ঘটনা এইডা না। সুরা নাস যেই সুরাডা সবার শেষ সুরা, হেই সুরার শব্দ সংখ্যাও ১৯ । তার মাইনে কি? এই উনিশের মইদ্যে কি আছে?

-বাই আমারও জাননের ইচ্ছা আছে। এই উনিশের মইধ্যে কি আছে?

-কি আছে? এহনো বুঝবার পারস নাই?

-না...

-গাধা..তাইলে আরো হোন, প্রথম ওহী সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াতের শব্দসংখ্যার মতনই কোরআনের আরো বহু পরিসংখ্যান আছে। যেমন ধর
কোরআন যে আনছে হেরে কয় রসুল। রসুল শব্দটা কোরআনে আইছে - ৫১৩ বার।
যার বাণী রাসুল আনছে হেরে কয় রব। রব শব্দটা কোরআনে আইছে - ১৫২ বার।
কোরআনের কেন্দ্রীয় বাণী অইতাছে ইবাদত। ইবাদত শব্দটা কোরআনে আইছে - ১৯ বার।
কেন্দ্রীয় বাণীর আরেকটা ভাষা অইলো আবদ। এই শব্দটা কোরআনে আইছে - ১৫২ বার।
আবদের কাম যে করবো হেরে কয় আবীদ। কোরআনে আবিদ শব্দটা আইছে - ১৫২ বার।
এই সবই ১৯ দিয়া ভাগ দে। মিল্ল্যা যাইবো গা।
(চলবে)

বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-দ্বিতীয় পর্ব

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

এস. আই জহির কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেনঃ

- এতটুকুন বাচ্চাটাকে থানায় নিয়ে লাভ নেই। তারচেয়ে এক কাজ করা যায়, যদি ঐ মেয়েটা এই নাবালকটিকে দত্তক নিতে চায় তাহলে থানা থেকে তার নামে একটি সাধারণ ডায়েরী করে ওর হেফাজতে দেয়া যেতে পারে। তবে এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষ স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য কতিপয় লোকের স্বাক্ষর লাগবে...

স্বাক্ষ্য দেয়া লাগতে পারে শুনে অনেকেই কেটে পড়তে শুরু করেছে। কিন্ত্তু কেটে পড়তে পারছে না জমির সাহেব। তাকে অবশ্যই স্বাক্ষ্য দিতে হবে। যদি স্বাক্ষ্য না দেয়, তাহলে সে ঝামেলায় পড়তে পারে...কাজেই সে রাজী হয়ে গেল। এস আই জহির বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে...কি যেন মনে মনে বলল। তার পর সে গাড়ীতে উঠতে আদেশ করলো অন্যান্যদের। সবাই গাড়ীতে উঠলে ফোস করে একরাশ ধোয়া তুলে গাড়ীটি ছুটে চললো থানার দিকে। 

লোকজনের জটলার ভেতর একটা মেয়ের দিকে বার বার চোখ আটকে যাচ্ছিল মনার। সে বার বার মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে...দেখছে মেয়েটি তার চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। ওড়নার আঁচল দিয়ে থেকে থেকে চোখ মুছছে। কেউ যেন দেখতে না পায়, সে জন্য সে একটা বড় ঘোমটা টেনে দিয়েছে। মনাকে ঐ মেয়েটার দিকে বার বার তাকাতে দেখে হারুন ব্যাপারী বেশ অবাক হলো। মনা কখনো কোন মেয়ের দিকে বার বার তাকাচ্ছে, সেটা বিরল। তাছাড়া মনার প্রেমে পড়ার বয়সও নেই...সে দেখতেও সুশ্রী নয়। কোন মেয়ে কোন পাগলের প্রেমে পড়েছে..সেটা বিরল...তাহলে ঐ মেয়েটার দিকে বার বার দৃষ্টি দেয়ার কারণ কি? হারুণ ব্যাপারী বেশ কৌতুহলী হলো। সে দেখতে চাইলো মনা আসলে কি করে?
লোকজন চলে যেতেই জায়গাটা বেশ ফাঁকা হয়ে গেল। তছি পাগলী বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে থানায় গেছে। সাথে জমির সাহেব। সাংবাদিক ভাইরাও চলে গেছে...যে মেয়েটি বার বার চোখ মুছছিল, সেই মেয়েটি মাথা নিচু করে চলে যাচ্ছে..অার মনা সেই মেয়েটির যাওয়ার দৃশ্য দেখে বললোঃ

-হায়রে মায়ের মন...দেইখ্যা গেলা তোমার বাচ্চাটার কি অবস্থা অয়? তোমারে কেউ না দেকলেও আমি ঠিকই বুইঝ্যা হালাছি...সাংবাদিকরাও তোমার খবর পায় নাই..পুলিশও চিনলো না...আমি কিন্ত্তু ধইর‌্যা ফালাইছি.....হা...হা....

মনাকে ওভাবে হাসতে দেখে হারুন জিগ্যেস করে

-কেমতে বুঝলেন?

-দেহেন না...কেমুন কইর‌্যা ঘোমটা দিছিলো আর হেই ঘোমটার ফাঁক দিয়া চোক মুছছিল...

-হেইডা দেইখ্যাই ধইর‌্যা হালাইছেন?

-ব্যাডা হোন...মায়ের মন হইল তারই সন্তানের মতো। হেই সন্তান যেমুন কইর‌্যা তারে জানান দেয়, তার নাড়ীর ধন যারে পেটে ধরছে তারও একটা টান হেয় অনুভব করবোই...হেই টানেই মাইয়্যাডা ছুট্রা আইছে...কিন্ত্তু সমাজের ভয়ে কাছে আসতে সাহস পায় নাই....

-হায়রে প্রেম...দেহের টানে মিলনের লিগ্যা যেই বাচ্চাটারে জন্ম দিল....হেই সন্তানডারে ঐ ময়লার মইধ্যে হালাইতে একটুও বিবেকে বাধলো না....

প্রেমের কথা শুনে এবং বিবেকের কথা শুনে মনা কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেল। মনা চিন্তায় মশগুল হলো। মনা মাথা নিচু করে রইলো। মনাকে হটাৎ চুপ করে থাকতে দেখে হারুন বললোঃ

-কি অইলো? হটাৎ কইর‌্যা থুম মাইর‌্যা গেলেন গ্যা

-ভাবতাছি...

-কি ভাবতাছেন?

-কওন যাইবো না...

এ কথা বলে মনা হন হন করে হাঁটতে লাগলো। মনাকে হাটতে দেখে হারুনও মনার পেছনে হাঁটতে লাগলো।
(চলবে)

বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতাঃ প্রথম পর্ব

মনার মন ভালো নেই। আজকে সে যে দৃশ্যটি দেখেছে সেটিকে সে কোন মতেই মানতে পারছে না। বার বার সে একই কথার পুনরাবৃত্তি করছেঃ 

-মানুষের অইলোটা কি? আরে, এ্যাগো আল্লাহয় কেমতে আশরাফুল মাখলুকাত কইর‌্যা দুন্নিইয়্যায় পাডাইলো? কেমতে এগো আশরাফুল মাখলুকাত কওন যায়? আরে এ্যাগো থিক্ক্যাতো রাস্তার কুত্তাও ভালো...

মনাকে বির বির করতে দেখে হারুন ব্যাপারী জিগ্যেস করলোঃ

-কি অইছে? কি কইত্যাছো এ ডি...

-ঐ দ্যাখ। একটা ডাষ্টবিনের দিকে ইশারা করে দেখায় মনা। তারপর বলে

......দ্যাখছোস মানুষের একটা বাচ্চা ডাষ্টবিনের মইধ্যে পইড়্যা আছে...মইর‌্যা গেছে...মনে হয়... মানুষের একটা বাচ্চা.... হেইডা পইর‌্যা আছে ডাষ্টবিনের মইধ্যে......মনে অইলো রাস্তার মইধ্যে যেমুন কুত্তা বিলাই বাচ্চা জন্ম দেয়... হেই রকম...কি কমুরে বাই...মা-বাবার মইধ্যে কোন দয়া মায়া আল্লায় রাখে নাই...এইডা কেমুন বাবা-মা?

মনার মুখে এ কথা শুনে হারুন ব্যাপারী বুঝতে পারলো ব্যাপারটা কি? হারুন ব্যাপারী অনুমান করতে পারছে হযতো কোন কপোত-কপোতীর যুগলবন্দীর অবৈধ ফসল। যার মাসুল দিতে হলো ঐ মাসুম বাচ্চাটাকে। হারুন দেখলো - সেখানে একটা ছোট খাটো জটলার সৃষ্টি হয়েছে। লোক জন নানান কথা বলাবলি করছে...হারুন কৌতুহলী হয়ে সে জায়গায় গেল এবং উঁকি দিয়ে দেখলো - কাঁথা দিয়ে মোড়ানো একটা সদ্যপ্রসুত বাচ্চাকে কে বা কারা যেন ডাষ্টবিনে ফেলে রেখেছে। বাচ্চাটিকে মনে হয় রাতের আঁধারের কোন এক সময় ফেলে রেখে গেছে। বাচ্চাটির কান্নার শব্দ শুনে ময়লা কুড়াতে আসা ছোট ছোট বাচ্চারা চিৎকার চেঁচামেঁচি করে উঠে। সেই চিৎকার শুনেই আশে পাশের লোকজন ছুটে আসে এবং তারা দেখে পুলিশে খবর দেয়। আর মনা হয়তো সেই সময় ঐ ঘটনাটা দেখেছে। হারুন আর মনা দুজনেই পাশে দাঁড়িয়ে আবারো সেই বাচ্চাটিকে দেখছে...বাচ্চাটির গায়ের রং ফর্সা...স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয়। রোগা-পাতলা...ঠোঁট দুটো শুকিয়ে গেছে... মনে হয়..পানি বা দুধ কোনটাই দেয়া হয়নি...বাচ্চাটাকে কেউ ধরতে সাহস পাচ্ছে না....সবাই পুলিশের জন্য অপেক্ষা করছে...কিছু মহিলারা মুখে কাপড় টেনে ঘোমটা পড়ে দেখতে এসেছে...তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলছে..আহারে...বাচ্চাটা কতো সুন্দর..কার বাচ্চা...কেডা এমুন কাম করলো....অর মা-বাপ...কে জানে...মানুষ আর মানুষ নাই...বেবাকতে পশু অইয়্যা গেছে গা....

বাচ্চার কান্না শুনে কেউ ধরতে সাহস না পেলেও তছি পাগলী আর সহ্য করতে পারলো না। সে ছুটে এসে বাচ্চাটাকে টেনে কোলে তুলে নিল। তার পর কাউকে কিছু বুঝে উঠতে না দিয়েই নিজের বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করলো। তছি নিজের বুকে তুলে  কাপড় দিয়ে ঢেকে নিজের স্তনের একটা বোঁটা বাচ্চাটার মুখের মধ্যে গুঁজে দিল। বাচ্চাটা সেই বোঁটাটা মুখে পুড়ে টানার চেষ্টা করছে দেখে তছি খুশিতে আটখানা হয়ে চেঁচিয়ে উঠলোঃ

-বাঁইচ্যা আছে...দুত খাইতাছে...

আশে পাশের মুরব্বী স্থানীয়রা লজ্জা পেলেও তছির এই মমত্ববোধ দেখে খুশি হলো। আর মহিলারা তাদের ঘোমটাটা আরো দীর্ঘায়িত করলো। ছোট ছোট বাচ্চারা তছিকে ঘিরে রেখেছে...ব্যাপারটা লক্ষ্য করে মনা হাসলো। ঠিক সেই সময় একটা পুলিশের গাড়ি আসলো। সাংবাদিকরা বাচ্চাটার ছবি তুলল। রিপোর্ট লেখার জন্য সাংবাদিকরা যখন তাদের কাগজ কলম বের করছে তখন পুলিশের এস.আই জহির এসে জিগ্যেস করলোঃ

-দেখি বাচ্চাটা....

তছি পাগলী বাচ্চাটাকে কাপড় সরিয়ে দেখালো।

-কার বাচ্চা...

-কেমতে কমু...তছি বললো।

-কার বাচ্চা...সেটা না জেনে ধরছিস ক্যান...

-আরে না ধরলেতো মইর‌্যা যাইতো গা...

-হুম...তুই কি প্রথম দেখেছিস...

-জ্বে না..অামি খবর পাইয়্যা আছি। অাইয়্যা দেহি বাচ্চাটা এইহানে এই খ্যাতা দিয়া জরাইন্ন্যা আছিল। আমি হেইডা সরাইয়্যা বুকে তুইল্ল্যা নিছি..তারপর দুত দিছি...

-ভালো করেছিস...আচ্ছা থানায় কে ফোন করছিল...

-অামি। জমির সাহেব পাশে থেকে বললেন।

-আচ্ছা...কি হয়েছে..ঘটনাটা খুলে বলুনতো...

-আমরা ফজরের নামাজ শেষ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। সেই সময় ঐ বাচ্চাদের চিৎকার চেঁচামেঁচিতে শুনি একটা বাচ্চা ডাষ্টবিনের মধ্যে পড়ে আছে। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো মারা গেছে..তাই আপনাদের ইনফর্ম করা...

-হুম।

সাংবাদিকরা পুলিশের জেরার ঘটনা সহ সবকিছুই লিপিবদ্ধ করছিল। সাংবাদিক রহমান সাহেব...রিপোর্ট লেখার ফাঁকে জমির সাহেবকে জিগ্যেস করলেনঃ

-আচ্ছা....বাচ্চাটাকে কখন ফালানো হয় সেটা কি অনুমান করে বলতে পারবেন...

-না ভাই। তা পারবো না। মনে হয় মাঝ রাতের কোন এক সময় কেউ ফেলে রেখে গেছে...বুঝতেইতো পারছেন..সমাজে লোক লজ্জার ভয়ে হয়তো রাতের আঁধারকেই কাজে লাগিয়েছে...

-এখন এই বাচ্চাটাকে কি করা যায়? জানতে চাইলেন রহমান সাহেব এস,আই জহিরের কাছে...

(চলবে)

শুক্রবার, ২৭ মে, ২০১৬

মনা পাগলার মৌনতা........এবং শেষ পর্ব

(পুর্ব প্রকাশের পর)

অাজহারের সম্ববিৎ ফিরে এল মনার অন্য আরেকটি কথায়। মনা বলছেঃ

মানব দেহ আধ্যাত্মবাদের এক অপরিসীম ভান্ডার। এই দেহের মধ্যেই আছে সবকিছু। গুরু ধইর‌্যা না জানলে এবং সাধন পদ্ধতি না জাইন্যা সাধন করলে হিতে বিপরীত অইতে পারে। কারণ আধ্যাত্মবাদ কোন ছেলেখেলা নয়। এইডা কোন মামুলী ব্যাপার না। দেহসাধনের লিগ্যা গুরু ধইর‌্যা দেহের লতিফা, মোকাম-মন্ঞ্জিলগুলি চিইন্ন্যা তারপর হেইডা সাধন ভজন করণ লাগে। সুফীবাদের সাধন অনেক কঠিন ব্যাপার। সুফীবাদের সাধন পদ্ধতি অইলোঃ তাজকিয়ায়ে নফস...নফসের পরিশুদ্ধতা অর্জন। আর মান আরাফার সাধন ভজন অন্য জিনিস। মান আরাফার সাধনও দেহের জন্য গুরুত্বপুর্ণ। আপনে যুদি আপনের দেহডার মইদ্যে যে লতিফা (অালোককেন্দ্র) গুলি আছে হেইগুলি চিনবার চান, মোকাম (ঘর বা স্থান) গুলি দেখবার চান, তাইলেই সাধনের প্রয়োজন অয়। আর যুদি মনে করেন দরকার নাই, তাইলে আপনে যে ইবাদত বন্দেগী করবেন, হেইডা অইবো অন্ধের মতন। মাইনে নিরাকার আল্লাহর ইবাদত। নিরাকার মাইলে ন আকার। আকারহীন। ভাইরে, নিরাকার আল্লাহও রবরুপে আপনেরে সাহাইয্য করবো সহায়তা করবো। কোন কমতি অইবো না। কিন্ত্তু আপনে হের দীদার লাব করতে পারবেন না। যেম্ তে আইছেন, হেম্ তেই যাইবেন গা। যুগ যুগ ধইর‌্যা আইবেন আর যাইবেন।

-কিন্ত্তু নিরাকার আল্লাহতো কোরআনেই উল্লেখ আছে...

-ভাইরে আছে। এইডা প্রাথমিক জ্ঞান। তারপর বিশেষ জ্ঞান। বিশেষ রাস্তা..ওয়া জায়ালনা মিনকুম শিঁরাতাও ওয়া মিনহাজ একটা শরীয়ত তথা আইন-কানুন আর একটা অইলো মিনহাজ বিশেষ পথ। এই বিশেষ পথটাই অইলো তরীকত..তরক থিক্ক্যা তরীকত। আর শেষে তে হরফ থাকায় হেইডা দিয়া বুঝায় তৌহিদ মাইনে একত্ববাদের রাস্তা....লা মওজুদা ইল্লাল্লাহ...আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই সবই আল্লাহ। আল্লাহু কুল্লিশাইয়িন মুহিত। তার মাইনে অইলো...জগতটাই আল্লাহময়...
ভাইরে এই দেহডা পন্ঞ্চ উপাদান দিয়া আল্লাহয় বানাইছে। হেইগুলি কি কি? হেইগুলি অইলোঃ আব আতশ বাত খাক ও নুর। এইগুলি অইল এক একটা আল্লাহ। সৃষ্টির উপাদানগুলিতো আল্লাহর বাইরে নয়। আল্লাহর মইদ্যেই। যুদি বাইরে থিক্ক্যা আনতো, তাইলে না হয় বুঝতাম আল্লাহর রাজ্যের বাইরেও আরেকটা জগত আছে। আল্লাহর বাইরে কোন জগতের অস্তিত্ব নাই। যুদি না থাকে তাইলে হেই উপাদানগুলিও আল্লাহর। নামরুপ ধইর‌্যা ভিন্ন নামকরণ করা অইছে। এইগুলিরে কয় ফকিরি ভাষায় পন্ঞ্জ অযুদ। পাক পান্ঞ্জাতন। পাক মাইনে পবিত্র। অযুদ মানে দেহ। পন্ঞ্জ অযুদ মানে পাঁচটা পবিত্র দেহ। তন মানেও দেহ। তাইলে পন্ঞ্চ দেহ লইয়্যা পাক পান্ঞ্জাতন। মুহাম্মদ,আলী, ফাতেমা হাসান, হোসাইন।
এইগুলি লইয়্যাই আল্লাহর পরিবার। কোরআনে হেগো লইয়্যাই নাহনু তথা আমরা শব্দটা ব্যবহার অইছে। সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত যত আয়াতই আছে সব জায়গাই নাহনু ব্যবহার অইছে। কিন্ত্তু একত্ববাদের ক্ষেত্রে অানা শব্দ ব্যবহার করছে। এই তৌহিদে শুধুই তিনিই। এই জগতটারে কয় হুইয়াত বা তিনিত্ব.......অাইনিয়াত থেকেই হুইয়াত আমিত্ব থিক্ক্যা তুমিত্ব..
আলিফ লাম মিম...অানা লতিফা মুনজিল আমি তুমি সে....

আজহার মনা পাগলার কথা শুনে বেশ ঘাবড়ে গেল। কি বলবে-কিছুই বুঝতে পারছে না। সে তো এই কথা নতুন শুনছে। কখনো পড়েওনি কিংবা চিন্তাও করেনি। আর চিন্তা করার অবকাশ কোথায়? চার পাশ থেকে যে ভাবে টিভি চ্যানেল হচ্ছে আর প্রতিটি চ্যানেলের মধ্যে ধর্মবিশারদরা যেভাবে এই মাজার পন্থিদের গালাগাল করছে তাতে মনা যে সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে তা যাচাই বাছাই করাও মুশকিল। মুলতঃ টিভি চ্যানেলের ধর্মীয় বক্তৃতা বিবৃতি শুনে মানুষ জন বিভ্রান্তে পতিত হবে সহজেই। কারটা বিশ্বাস করবে? শহরের অনেকেরই পক্ষে সম্ভব হয় না কোরআন পড়া কিংবা হাদীছ শরীফ দেখা। সত্য-মিথ্যা যাচাই বাছাই করার সুযোগ কোথায়? তারা ধরেই নিয়েছে মোল্লারা যা বলছে তা সবই সত্য।

রাত অনেক গভীর হয়েছে...শুধু কথা বলতে বলতেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে তারা। চারদিকে কেমন সুসান নীরবতা নেমে এসেছে। এর মধ্যে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক আর দুর থেকে ভেসে আসা শেয়ালের ডাক...মাঝে মাঝে দু চারটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ সম্পুর্ণ পরিবেশটাকে করে তুলেছে মায়াময়..সেই মায়াময় পরিবেশটা তাদেরকে শেখাচ্ছে কিছুটা উপলব্দি করার ক্ষমতা...কে তৈরী করলো এই মায়াময় পরিবেশ....কে তাদের শিখিয়েছে...ভোরের আলোয় বিকশিত হবার সাথে সাথে রাতের এই পরিবেশটা তৈরী করা...এম্মনিতেই বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা বিধৌত পরিবেশ পরিশেষে রাতের আবেশ...একটা ঘুম ঘুম ভাব এম্মনিতেই চলে এসেছে...আজহার বললো

-মনা ভাই চলুন ঘুমিয়ে পড়ি...সকালে আবার শুরু করা যাবে

-কিরে ভাই কইলেন হারা রাইত কতা কইবেন....আর এহন দেহি ঘুমাইতে কইতাছেন...আসল কতা তো এহনও কই নাই...

-ভাইরে আপনের আসল কথা শুননের ইচ্ছা থাকলেও আর পারছি না...ক্লান্তিতে ঘুম চলে আসছে...পরে আবার শুরু করা যাবে।

আজহার মনা পাগলার বিছানা ঠিক করে দিয়ে ঘুমাতে চলে গেল। আর মনা তার বিছানায় শুয়ে ভাবছে তার গুরুর কথা.....তার ধ্যানের কথা....
"হারিয়ে আপন করিবে ধ্যান
মিলিবে আপন সোনারই বরন।।
অনন্ত জীবন পাইবে আপন
মরন কখন হবেনা তোমায়।।"

মনা তার সর্বস্ব অর্পণ করার কথা চিন্তা করে ধ্যানের গভীরে হারিয়ে যেতে চাইছে...

মিনকালকুল বিকাল কুল ইলাইকাল কুল ইয়া কুল্লুল কুল। হে সবের সব তোমাতেই সব। তুমিই সব তোমার দিকেই সব।
মনা যখন ধ্যানের গভীরে হারিয়ে গেল ঠিক তখনই মনা দেখলো তার পাশে তারই মতো দেখতে অবিকল চেহারার কেউ একজন তার পাশেই বসে আছে। তা দেখে মনা সজোরে চিৎকার করে উঠলো....ওরে বাবারে....

রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

মনা পাগলার মৌনতা...এবং সপ্তম পর্ব

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মনা এবং আজহার বেশ নিশ্চুপ হয়ে আছে। এদিকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের আঁধারে তলিয়ে যাচ্ছে সময়। চারিদিকে সুসান নীরবতা। আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। একচিলতে হ্যারিকেনের আলোয় পরিবেশটাকে কেমন যেন অচেনা করে তুলেছে। মনা তার পোটলা থেকে একটা ছবি বের করলো। তারপর সেটার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল একদৃষ্টিতে। কোন দিকেই তার দৃষ্টি যাচ্ছে না। সেই দৃষ্টিতে দেখা গেল একচিলতে বারিধারা। সিক্ত এ বারিধারা তার কপোল বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। আজহার এ দৃশ্য দেখে অভিভুত হয়ে পড়লো। কিয়ের সে নিরাকারের চিন্তা করবে..পাগলের এ প্রেম দেখে আজহার আত্মহারা হয়ে গেল। সে মনাকে জড়িয়ে ধরে বললোঃ

-ভাই এইটা কার ছবি?

মনা চোখ মুছতে মুছতে বললোঃ

-আমার গুরুর ছবি।

আজহার কিছুক্ষণ ছবিটির দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু বললো না। সে ভেতর বাড়ির দিকে চলে গেল। আর মনা সেই মনোরম পরিবেশে গুরুর ছবির ধ্যান করতে মনোনিবেশ করলো। কতোক্ষণ এভাবে ছিল-সে খেয়াল নেই। তাকে আজহার ডাকলো

-মনা ভাই..ও মনা ভাই...

-জ্বি...

-খাবেন। চলেন। আগে খেয়ে নেই। তারপর আবার বসা যাবে। 

মনা তার জিনিসপত্রগুলো গুচ্ছিয়ে রাখলো। তারপর একটা পাত্রে পানি দিয়ে নিজের হাতটা ভালোভাবে পরিস্কার করে ধুইলো। এরপর সে ও আজহার একসাথে খেতে বসলো। রমিজ একটা বলে করে ভাত নিয়ে এসেছে। সাথে একটা বাটিতে ঢেরসভাজি, ডিম ভাজা এবং ডাল নিয়ে এসেছে। রমিজ ভাত দিতে দিতে বললোঃ

-দাদা, তোরা কি সারারাত কথা কবি?

-বলতে পারি। ক্যান তোর কি কোন সমস্যা আছে?

-নাহ্। আমারও শুনতে ইচ্ছে করে। 

-তোর শোনার দরকার নেই। ব্যাস আর দিস না। মনা ভাইরে দে...

রমিজ মনার প্লেটটা নিয়ে তাতে ভাত তরকারি দিতে লাগলো। ভাত বেশি দেখে মনা...হা..হা...করে উঠলো। 

-আরে সর্বনাশ। ভাত আরো কমাইয়্যা দেও। 

মনা, আজহার আর রমিজ খাবার শেষ করে প্লেটগুলো গুছগাছ করে উঠিয়ে রাখলো। তারপর সেগুলো ভেতর বাড়িতে নিয়ে গেল। আসার সময় রমিজ চা নিয়ে এল। সেই গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে মনা আজহারের দিকে তাকিয়ে বললো

-বাই কি সত্যই সারারাইত কতা কইবেন?

-বলবো না মানে? দেখেন না কি করি...

-পারবেন তো

মনা হেসে বললো। তারপর দুজন আবার আয়েশ করে বসে পুর্বের কথায় ফিরে গেল। রাতের পরিবেশের সাথে তাদের কথা-বার্তার পরিবেশ এমনটাই মানিয়ে গেল যে আজহারের মনে হলো সে যেন এমন একটা পরিবেশের জন্যই অপেক্ষা করছিল। যার কাছ থেকে কিছু জানতে পারবে। যে জানাতে পারবে। অন্যদিকে মনার মনে হচ্ছিল তাকে এমন করে কেউ কখনো ডেকে আদর যত্ন করে খাওয়ায়নি..এমন আরামদায়ক বিছানায় ঘুমাতে পারবে...সেটা ছিল তার কাছে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কল্পনাতীত। সে ভাবতেই পারছে না..দয়াময় কি খেলা খেলতে চাচ্ছে তার সাথে..

-কি চিন্তা করলারে ভাই...কিছুইতো কইল্যা না...

-আসলে চিন্তা কইর‌্যা কোন দিক-নির্দেশনা পাচ্ছি না...কোরআন মতে একবার মনে হয় সে নিরাকার। আবার মনে হয় সে আকার..

-আসলে তুমি এইভাবে চিন্তা কইর‌্যা কোনদিনও সঠিক নির্দেশনা পাইবা না...একটা বীজের কথা চিন্তা কর। এই বীজের উৎপত্তি অইলো কোথা থিক্ক্যা? কেমতে আইলো এই বীজের উপাদান? কৈ থিক্ক্যা ওর উপাদানগুলি পাইলো? এই দুনিয়ার কথাই ধরো না....অনেকেই কয় পন্ঞ্চ উপাদানে এই দুনিইয়্যা সৃষ্টি...এই উপাদানগুলি আল্লাহয় পাইলো কোইথিক্ক্যা? হেইডা চিন্তা করছো?

-হুম...সবকিছুই আল্লাহর মধ্যেই ছিল...

-কেমতে ছিল...

-সেটাতো বলতে পারবো না...সেটা তো বলা কারো পক্ষে সম্ভবপর না...

-তাই? তাইলে একটা হাদিছ হোনো। হাদিছে বলতাছে আবিদারা নামক এক সাহাবা একবার রাসুলপাকরে কইলোঃ "ইয়া রাসুল্লাহ (সাঃ) সৃষ্টির পুর্বে আল্লাহ পাক কোথায় আছিল? উত্তরে মহানবী (সাঃ) কইলোঃ সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহ পাক আল-আমা নামক একটা কুয়ায় (অন্ধাকারাচ্ছন্ন কুয়াশা) কুচ্ঝটিকারুপে ছিলেন।" তাইলে নবী কইলো কেমতে? হেয় যদি আল্লাহর পরে সৃষ্টি অয়, তাইলে তারতো সৃষ্টির আগের কতা জাননের কতা না? আবার ধরেন আল্লাহ যহন আদমরে বানাইছে হেইসময়তো মহানবী (সাঃ)-র জন্মও অয় নাই। তাইলে কেমতে কইলোঃ "আমি তহনও নবী ছিলাম যহন আদম মাটি ও পানির মইদ্যে মিশ্রিত ছিল।" আবার আল্লাহ পাক নিজেই কইতাছেঃ"কুনতু কানজাম মাখফিয়ান ফা আহবাবতু আনউরাফা ফা খালাকতুল খালক।" আমি অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা কুপে গুপ্তছিলাম। নিজেরে প্রকাশের ইচ্ছায় সৃষ্টি করলাম।

-মনা ভাই..আপনে যে কথাগুলো হাছিস হিসেবে বলছেন, সেটার উৎস কোথায়? অর্থাৎ কোথা থেকে বলছেন? আপনি কি কারো কাছ থেকে শুনে বলছেন? না কোন বই পুস্তকে পেয়েছেন?

-বই পুস্তকেও পাইছি আবার মাইনশের কাছ থিক্ক্যাও হুনছি। আপনে যদি বিশ্বাস না করেন তাইলে আমি আপনেরে দেহাই ।আমার কাছে প্রমাণ আছে। এই দেহেন...মনা একটি বই আজহারের দিকে বাড়িয়ে দেয়

আজহার বইটা হাতে নেয়। বইটির নাম সুফীবাদ ও চার তরীকার পীর। লেখক এম.খলিলুল্লাহ। অনেক পুরোনো বই। পাওয়া যাবে কি-না সন্দেহ। কারণ বইটির আর কোন প্রকাশনা বের হয়েছে বলে জানা নেই। মনা বইয়ের ভাজ করা পৃষ্ঠাটা আজহারের দিকে এগিয়ে দিতেই দেখে...৩৯নং পৃষ্ঠায় মনা যা বলেছে তা ঠিকই উল্লেখ করা আছে। পার্থক্য হলো মনা বলেছে চলিত ভাষায় অর্থাৎ তার কথিত ভাষায় আর বইয়ে আছে সাধুভাষায়।

-ঠিক আছে। আসলে আমিতো তেমন জানি না। তাছাড়া ধর্মের ব্যাপারে আমার জানার আগ্রহ আছে। কিন্ত্তু পুরোপুরি জানিনা। তাই মাঝে মাঝে কারো দেখা পেলে কথা বলতে ইচ্ছে করে। জানতে ইচ্ছে করে সত্য কিছু...

-তাইলে তো আপনের কাছে গভীর কতা কওন যাইবো না..আপনে তো বুজবার পারবেন না...তহন আবার আমার ঝামেলা অইবো..

-না না একেবারেই যে জানি না...তা না। কিছু না কিছুতো জানিই...আর যা জানি তা আপনের মতো অত চিন্তা করে দেখি নাই...তাই হয়তো বুঝতে কষ্ট না হলেও চিন্তা করছি...ভাবছি.....বীজের কথা বলছিলেন

-আইচ্ছা বীজের কতা বলছিলাম...বীজটা কি? একটু ভাইব্যা দেহেনতো...এই একটা লাউয়ের বিচির কতাই ধরেন না...এই বিচির মইধ্যে কতো অগণিত লাউ প্রচ্ছন্নভাবে আছে..হেইডা কি কেউ গইন্ন্যা কইতে পারবো? মানুষের বীজের কথাই ধরেন না...একটা বীজের মইধ্যে অগণিত মানুষ...একটা মানুষের মইধ্যে কি আছে? তার মইধ্যে আল্লাহ আছে। আছে ছয় লতিফা...আছে... মোকাম..মন্ঞ্জিল...আছে আকল...নকল...অারো কতো কি?

মনার মুখে একথা শুনে আজহার একেবারেই হা হয়ে গেল। সে কখনো মানববীজ সর্ম্পকে এভাবে ভাবেনি। আজহার এই বীজের গভীরের কথা শুনে আবারো অপলক দৃষ্টিতে মনার দিকে তাকিয়ে রইলো।
(চলবে)