পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬

যাদুকর ও মনার ভোঁ দৌড়

মীরপুর ১নং শাহ্ আলী (রহঃ) মাজার গেটের কাছে বেশ একটা জটলা দেখা যাচ্ছে। চারদিক থেকে গোল হয়ে সেই জটলা একটা সময়পর বেশ বড়ো সড়ো আকার ধারণ করলো। মনা পাগলা বেশ আগ্রহ নিয়ে সেই জটলার মধ্যে ছেলেমানুষের মতো বসে বসে দেখছে। কি দেখছে? দেখছে একজন যাদুকর তার যাদু দেখাচ্ছে। যাদুকরের বেশভুষা আহমরি কিছু নয়। দেখতেও খুব একটা সুশ্রী বলা যাচ্ছে না। কিন্ত্তু তার কথা-বার্তার ধরণ এবং যাদু দেখে হাজারো মানুষকে আকৃষ্ট করছে। সেই যাদুকর একটা ডিম বল হাতে নিয়ে সবাইকে দেখাচ্ছে আর বলছেঃ

-বাই আমার আতে এইড্যা কি দেখতাচ্ছেন? একটা ডিম বল। তাই না ? কি বাই ? কতা কন্ন্যা ক্যা ?

জনসমুদ্র হতে অনেকেই চিৎকার করে বলছেঃ

-হ এইডা একটা ডিম বল। 

যাদুকর বললোঃ

প্রয়োজন হইলে আপনেরা হাতে নিয়া দেখতে পারেন। তারপর যাদুকর সেই বলটা নিয়ে জনগণকে হাতে নিয়ে দেখাচ্ছে। মনাও বাদ গেল না। সে বলটা হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখে বললোঃ

-হাচাইতো একটা প্যালাষ্টিকের বল। ডিমের লাহান দেহা যাইতাছে।

যাদুকর মনার হাত থেকে বলটা নিয়ে বললোঃ 

-এইবার দেকবেন আসল খেলা।

এই বলে সে বলটাকে তালু বন্ধি করলো। তারপর সে তুড়ি বাজাতেই বলটা গায়েব হয়ে গেল। তার হাতের মধ্যেই যে বলটি ছিল, তা মুহুর্তের মধ্যেই হারিয়ে গেল। সকলেই অবাক হয়ে সেই যাদুকরের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর সেই যাদুকর বললোঃ

-দেকছেন মুহুর্তের মইদ্যেই বলডা গায়েব হইয়্যা গেল। এহন এই বলটা কই পাই? দেহেন কি করি? বলটাতো আননের দরকার...এই বলে সেই একটি অপরিচিত ছেলেকে বললোঃ

-বাবা হা করতো? ছেলেটা হা করতেই যাদুকর বললোঃ 

-আয়তো...
অায়তো বলার সাথে সাথে বলটা ছেলেটির মুখের মধ্যে চলে এল। সে বলটা সবাইকে দেখিয়ে বললোঃ

-দেকছেন? ডিম মনে কইর‌্যা পুলাডা খাইয়্যা হালাইছিল। আরে বাবা আমার জিনিস তুমি খাইয়্যা হালাইব্যা আর আমি সালাম যাদুকর চাইয়্যা চাইয়্যা দেকমু, হেইড্যা অইবো না....

এবার সে ঐ ছেলেটাকে ডেকে তার কাছে নিয়ে এল। তারপর মুখ খুলতে বললো। ছেলেটা মুখ খুলতেই যাদুকর মুখের ভেতর বলটি ঠেসে ধরে বললোঃ যা গা...বলটা যাদুকরের হাতও নেই ছেলেটির মুখেও নেই। সকলেই মুগ্ধ হয়ে যাদুকরের সেই অভাবনীয় যাদু দেখছে। কারো মুখের দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। সকলেই অবাক বিষ্ময়ের সাথে যাদুকরের যাদুর প্রশংসা করছে। এরপর যাদুকর ছেলেটিকে বসতে বললো। ছেলেটা বসলো। যাদুকর ছেলেটির পিঠের উপর দুইটা থাপ্পর মেরে বললোঃ বাইর অ। কথা বলা শেষ হতেই দেখা গেল বলটি ছেলেটির পশ্চাৎদেশ হতে বের হয়ে এল। এই দৃশ্য দেখে সকলেই হাসিতে ফেটে পড়লো। লজ্জা পেয়ে ছেলেটি দিল ভোঁ দৌড়।

যাদুটি দেখে মনা মনে মনে ভাবছে - এই বিশ্ব বিধাতা তাহলে যাদুকরের মতোই কুন-ফা ইয়া কুন বলে এই জগত সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ "বাদী‘উস্ সামা-ওয়া-তি অল র্আদ্ব অইযা-ক্বাদ্বোয়ায় আম্মান ফা ইন্নামা- ইয়াক্বুলু লাহু কুন্ ফাইয়া-কুন [بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ]।"  অর্থঃ তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা। আর যখন তিনি কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেবল বলেন ‘হও’ ফলে তা হয়ে যায়। দারুণতো....সে বেশ উৎসাহ বোধ করছে....ঠিক সেই মুহুর্তে

যাদুকর মনা পাগলার দিকে তাকিয়ে বললোঃ

-বাজান আপনে একটু এইদিকে আহেনতো?

মনা তখনো হাসছে। সে হাসতে হাসতে সামনের দিকে গেল। তারপর যাদুকর সকলের উদ্দেশ্যে বললোঃ 

-এতক্ষণতো আপনেরা দেকলেন বলের খেলা। এইবার দেকবেন আশেক-মাশুকের খেলা। প্রেমের খেলা। মায়া মোহাব্বতের খেলা। দেহেন আমার আতে দুইডা পুতুল। একটা বেডা। আর একটা মাইয়্যা। এই পুতুল দুইডা একজন আরেক জনরে ছাড়া থাকতে পারে না। দেহেন কেমুন মোহাব্বত! আর আজ কাইল আমাগো মইধ্যে মোহাব্বত নাই বললেই চলে। বাজান আপনে একটু এই দিকটায় আহেন। এ কথা বলে সে মনাকে টেনে একটু দুরে দাঁড় করিয়ে রাখলো। তারপর একটা পুতুল মনার হাতে দিয়ে বললোঃ 

-বাই এই পুতুলটা এইহানে রাখেন। তারপর এই বাডি দিয়্যা চাইপ্প্যা ধইর‌্যা রাকবেন। খবরদার উডাইবেন না। যহন আমি উডাইতে কমু তহন উডাইবেন। তারপর দেখবেন খেলা। 
এ কথা বলেই যাদুকর তার হাতের পুতুলটি নিয়ে আরেকটি জায়গায় রাখলো। তারপর বাটি দিয়ে চেপে ধরে বললোঃ

-এ্যাই মজনু আয়তো বাবা.....

একথা বলার সাথে সাথে মনাকে বাটিটি উঠাতে বললো। সকলেই অবাক হয়ে দেখলো পুতুলটি সেখানে নাই। সকলেই অবাক হয়ে গেল। যাদুকর তার হাতের বাটি উঠাতেই দেখতে পেল সেই বাটির মধ্যে ছেলে পুতুলটি চলে আসছে। এটা দেখে সকলেই হাত তালি দিতে লাগলো। তারপর সে সেই খেলারই পুণারবৃত্তি করার কথা বলে মনার হাতে মেয়ে পুতুলটি দিয়ে পুর্বের মতোই চেপে ধরে রাখতে বললো। তার পর যাদুকর তার হাতের ছেলে পুতুলটি পুর্বের মতো করেই বললোঃ এ্যাই তরা যা গা। মনাকে বাটি উঠাতে বললো। মনা বাটি উঠালো। যাদুকরও তার বাটি উঠালো। দেখলো কোথাও পুতুল দুটি নেই। 

এটা দেখে তো মনার মাথা খারাপ হয়ে গেল। কেমনে, কি ভাবে হলো?
আশেক মাশুকের টানে থাকতে পারে না। আশেককে ডাকলে অবশ্যই মাশুক হাজির হবার কথা [উচ্চারণঃ"فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ অর্থঃ "অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব, তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং আল্লাহর বিরুদ্ধাচারী হইও না।"]। কিন্ত্তু আমরা যে বলি আমরা নবীর আশেক। আমরা আল্লাহর আশেক। তাহলেতো নবীর আসার কথা। যে নবীর আশেক, সে যদি ডাকে তাহলে তো অবশ্যই নবী আসবে। আবার যে আল্লাহর আশেক, সে যদি ডাকে তাহলেতো আল্লাহপাকেরও আসার কথা।

একটা সামান্য যাদুকর যদি এটা করে দেখাতে পারে, তাহলে যারা সত্যিকারের আশেক, তারা যদি তার মাশুককে ডাকে, তাহলে তার মাশুক আসবে না কেন? যদি না-ই আসে, তাহলে সে কিরুপ আশেক? অামরা বলি আমরা সবাই পীরের আশেক। তাহলে তার পীর যদি তাকে ডাকে আর সে যদি না যায়, তাহলে সে কিরুপ আশেক? ইশকের আগুনে যদি অন্তরই না পুড়লো, তাহলে সেই অন্তর দিয়ে হাজারো ডাকলে মাওলার দিদার পাওয়া সম্ভব নয়। মাওলার দিদার পেতে হলে তার কথা সঠিক ভাবে পালন করতে হবে। তিনি যা বলেছেন, তাই অক্ষরে অক্ষরে বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে হবে। আশেকের মাশুক হওয়া সহজ ব্যাপার নয়। আশেকের মাশুকের খেলা বড়ো সাংঘাতিক খেলা। 

মনার মনে পড়লো তার গুরু তাকে ডেকে ছিল। সে যেতে পারেনি। তার কাছে যাবার মতো টাকা ছিল না। কারো কাছ থেকে যে টাকা নেবে তারও উপায় নেই। তাহলে সে কি আশেক নয়...সে কি সত্যিই আশেক নয়....

মনার বুক ফেটে কান্না আসছে। সে ভীড় ঠেলে বাহিরে বের হয়ে এল। তারপর ইয়া মুর্শিদ বলে একটা ভোঁ দৌড় দিল।

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬

বৃষ্টি নিয়ে ভাবনাঃমনা পাগলার চিন্তা

মনার আজ মন ভালো নেই। সে মন মরা হয়ে বসে আছে। মনে হচ্ছে বাহিরের আবহাওয়ার সাথে তার মনের একটা সর্ম্পক তৈরী হয়ে গেছে। এই শ্রাবণ মাসের বারিধারায় স্নাত হওয়া একটা সময় তার সিজোনাল বাথ থাকলেও তা এখন পাল্টে গ্যাছে। তার এই ধরণ সরণ সম্পর্কে অনেকেই ওয়াকিবহাল নয়। কিন্ত্তু তাকে যারা চেনে,তারা তার এই ধরণ-সরণ সম্পর্কে জানে। তাদেরই একজন হচ্ছেন জামিল ভাই। সেই জামিল ভাই এসে মনার কাঁধে হাত রেখে বললঃ
- কেমন আছেন?
- যেমন দেখছেন?
- দেখছি তো ভালোই আছেন।
- তাহলে ভালোই আছি।
- মন খারাপ কেন?
- ভাবচ্ছি।
- কি ভাবছেন?
- বৃষ্টির কথা...
- বৃষ্টির কথা ! জামিল ভাই কথাটা শুনে অনেকটা ভুত দেখার মতো করে চমকে উঠে বললেনঃ
- মেয়েটা কোথায় থাকে?
-আরে মিয়া, কিয়ের মাইয়্যা...আমি কইতাছি বাইরে যে বিষ্টি অইতাছে,হেইডার কথা..
জামিল ভাই দেখলেন মনা তার আসল রুপে ফিরে গেছে। তাই সে বেশ প্রফুল্ল বোধ করছেন। একটা স্বস্তি পাচ্ছেন। যাক্ শেষ পর্যন্ত মনাকে তার আসলরুপে পাওয়া গেল। তাহলে তার ভাবনার বিষয়টা জানা যেতে পারে....জামিল ভাই আস্তে করে মনাকে বললেনঃ বৃষ্টি সম্পর্কে কি ভাবছেন? সেটা কি বলা যাবে?
মনা দেখলো জামিল কেমন যেন মায়াবি গলায় কথাগুলো বলছে। মনার একটু দয়া হলো। সে ও আস্তে আস্তে করে জামিলকে বললোঃ

- তুমি যদি একটা পাত্রে পানি রেখে জ্বাল দিতে থাকো সেটা বাস্প হয়ে উড়ে যায়। সেটা জমে কখনোই বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে না..তাহলে...কি পরিমাণ পানি বাষ্প হলে সেটা জমে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে....মাঝে ....মাঝে শিলাবৃষ্টিও হয়? সুর্যকে কে নির্দেশ দিল পর্যাপ্ত পরিমাণ তাপ দিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করতে? না-কি মাটির বুক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে তাকে সিক্ত করণের জন্য পানি প্রয়োজন? মাটি কি কান্না করছিল পানির জন্য? যদি কান্না করেই থাকে, তাহলে সেই কান্না আমরা শুনতে পাই না কেন? অার যদি কান্না না করেই থাকে, তাহলে সে কার কাছে পানির জন্য আর্জি প্রার্থনা করছিল?
দ্যাখো,মহান রব মাটির ডাক শুনে বৃষ্টির পানি দিয়ে তাকে সিক্ত করেছেন। যেন শক্ত মাটিগুলো রসালো হয়। রসের জন্য প্রয়োজন পানি। বিধাতা সেই পানি দিয়ে জমিনকে সিক্ত করছেন। কারণ জমিন থেকে যে ফসল উৎপন্ন হবে তা তার বান্দারা আহার করবে। সেই আহার থেকে খাদ্যরস দেহবীজে পরিণত হবে। তারপর নতুন কিছু শিশু দুনিয়াতে আগমণ করবে। কেউ কেউ নির্গমণও হবে। তারপরও কথা থেকে যায়..

- কি কথা?

- যে শিশুটি ভুমিষ্ট হবে সে হবে লাকাদ খালাকনাল ইনসানা ফি অাহসানে তাকবীম। সেই শিশুটিকে তিনি বিভিন্ন ধাপে ধাপে সৃষ্টি করেছেন। যেমন সুরা নুহ আয়াত নং ১৪। বলছেনঃ ওয়াকাদ খালাকা কুম আতওয়ারা.....তিনি (আল্লাহ) গঠন করিয়াছেন তোমাদিগকে উন্নতির নানা মাত্রায় (পর্যায়ক্রমে-বিভিন্ন ধাপে ধাপে)। সেই ধাপগুলো কি কি? একটু চিন্তা করে দেখ। এক সময় তোমার কোন অস্তিত্বই ছিল না। তুমি ছিলে নিরাকার। এরপর তোমার আকার দেয়ার প্রয়োজন হয়েছে। কখন? যখন তুমি নুৎফারুপে ছিলে। সেই নুৎফার উৎপত্তি এই মাটি। ফা ইন্না খালাকনাকুম মিন তুরাবেন [সুরা হজ্জ আয়াত-২২]। তোমাকে গঠন করিয়াছি মাটি হইতে। কিরুপে? ওয়াল্লাহু আনবাতাকুম মিনাল আরদে নাবাতান-সুম্মা ইউয়িদুকুম ফিহা ওয়া ইউখরেজুকুম ইখরাজান [সুরা নুহ আয়াত নং-১৭-১৮]। বরং আল্লাহ তোমাদিগকে উদ্ভুত কয়িাছেন ভুমি হইতে-উদ্ভিদের ন্যায়। অতঃপর তিনি উহাতে তোমাদিগকে ফিরাইয়া লইবেন এবং তিনি তোমাদিগকে সেখান হইতে বাহির করিবেন-এক (নতুন) জাত হিসাবে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো কি জানো? ইনসান সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপটি। যেমন সুরা মোমিনুন আয়াত নং-১৪তে বলা হয়েছেঃ 
সুম্মা খালাকনান নুৎফাতা আলাকাতান মুদগাতান। অতঃপর অামরা সেই শুক্রবিন্দুকে দৃঢভাবে আটকাইয়া রাখি(জরায়ুতে)। ফা খালাকনাল মুদগাতা এজামান। পরে সেই দৃঢ়ভাবে আটকাইয়া রাখা বস্তুটাকে পরিণত করি চিবানো গোশতের পিন্ডরুপে। ফা কাসাওনাল এজামান লাহমান। এবং সেই চিবানো গোশতের পিন্ডকে রুপ দেই হাড়-হাড্ডিতে এবং সেই হাড্ডির উপরে দেই আবরণ-অক্ষত গোশতের দ্বারা।ছুম্মা আনশানা-হু খালক্কান আ-খার। অতঃপর তাকে অন্য একটি সৃষ্টি বানিয়ে দাঁড় করিয়েছি। ফাতাবা-রাকাল লাহু আহসানুল খালিকিন। সুতরাং তোমার সৃষ্টিকর্তা সুন্দরতম বরকতময়। 
দ্যাখো আল্লাহপাক কেবল মানব সৃষ্টির ব্যাপারেই কেবল বলেছেন ফাতাবা-রাকাল লাহু আহসানুল খালিকীন। আর অন্য সবার ক্ষেত্রে রাব্বুল আলামিন। খালিক তিনিই যিনি উপাদান ছাড়াই সৃষ্টি করতে পারেন। এ কথাটা কেবল আল্লাহ পাকের ক্ষেত্রেই খাটে। অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেননা, এই বিশ্ব ভুমন্ডল কেবল মাত্র মহান জাত পাক আল্লাহ পাকের। কাজেই তার উপাদান দিয়েই তুমি সৃষ্টি করছো। এজন্য তুমি হচ্চো সানে মানে দ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তা। যা কেবল ইনসানের ক্ষেত্রেই খাটে। এটা মাজেজি। হাকিকি নয়। পুর্ণ হাকিকি হচ্ছে মহান জাত পাক সুবহান ওয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম। তিনিই হচ্ছেন খালিক। তিনি ব্যতীত আর কেউ এ নামের যোগ্য নন।

মনার কথা শুনে জামিল ভাই মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি ভাবতেই পারেননি বৃষ্টি নিয়ে কেউ এভাবে ভাবতে পারে? মনে মনে তিনি মনার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মাথা অবনত করলেন।

বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব সাত

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মানুষের বাক শক্তি অইতাছে কালাম তথা বাইক্য। এই বাক শক্তির গুণেই শব্দময় জগতের সৃষ্টি অইছে। কলুল্লাহার বাণী হুননের লাইগ্যা কান পাতন লাগে। তাইলেই হুনতে পারবি তার কতা বার্তা। হেয় অইলো বোবাজাতের মতো। নীরব ভাষায় হেয় কতা কয়। হের কতা হুননের লিগ্যাইতো মানুষজন ঘর বাড়ী ছাইড়্যা জংগলের মইধ্যে আশ্রয় লইছে। নীরব সাধন করছে। তার পর হের লগে কতা-বার্তা কইছে। নবী পাক হেরা গুহায় ধ্যান না করলে কি হের কতা হুনতে পারতো? নবী পাক আল্লাহ পাকের সাথে কতা কইছে। হের লগে দেহা সাক্ষাত করছে। মুছা নবীওতো মাঝে মাঝে তুর পাহাড়ে যাইয়্যা আল্লাহ পাকের লগে কতা বার্তা কইছে।

-মুছা নবীর কতা বার্তার কতাতো মোল্লাগো মুকে হুনছি। কিন্ত্তু একটা বিষয় মাতার মইধ্যে ঢুকতাছে না। হেইডা অইলোঃ মুছা নবী যহন আল্লাহর লগে দেহা করতে গেল, তহন তো ফেরেস্তা জিব্রাইল (আঃ) এর কতা হুনি না। ফেরেস্তা জিব্রাইল কি খালি মহানবী (সাঃ) এর লগেই সাক্ষাত দিয়া কইলোঃ ইকরা বিসমি রাব্বিকাললাজি খালাক। আর অন্যান্য নবীগো লগে দেহা সাক্ষাৎ করে নাই?

-এইডা তো জানি না। মনা বললো।

-বাই তাইলে তাওরাত যে আল্লাহর বাণী মানে আল্লাহর কতা। বাণী মানেতো কতা। তাই না? তো হেই তাওরাত কার মাধ্যমে নাজিল অইলো? কে আনলো এই বাণী? কোরআনের বাণীতো আনছে হযরত জিব্রাইল (আঃ)। তাইলে তাওরাতও কি হযরত জিব্রাইল (আঃ) আনছে?

-কি কমুরে হারুইন্যা, তুইতো দেহি জ্ঞানীগো মতো কতা বার্তা শুরু কইর‌্যা দিচ্ছস। তর লগেতো বেশিক্ষণ বহন যাইবো না...তুইতো দেহি প্যাঁচে ফালাইয়্যা দিবি...তারপর উল্টা পাল্টা বইল্যা আমারে মানুষের আতে মাইর খাওয়াইবি...

-না বাই। হেইডা পারুম না। এই অঞ্চলে বেবাকতে আপনেরে চিনে। তাছাড়া মনের মইধ্যে প্রশ্নডা গুর গুর করছিল। হেরলিগ্যা কইয়্যা হালাইছি। বাই...ভুল অইলে মাফ কইর‌্যা দিয়েন।

-বেডা হোন। হগলতে সব কতা জানে না। দেহা গেছে কেউ জানে বেশি কেউ জানে কম। আবার যে যেইডা জানে অন্যজন হেইডা জানে না। এর লিগ্যাই কইছে জ্ঞানীরা সর্বদাই একসাথে থাকতে পছন্দ করে। তারা কারো লগে বিবাদ করে না। তারা পরস্পর ভাই ভাই। 

-হের লাইগ্যাইতো আপনে আমার বাই। আপনেরে আমি বেশি পছন্দ করি। আপনেরে পাইলে কাম-কাইজ হালাইয়্যা থুইয়্যা আপনের কাছে ছুইট্র্যা আহি।

-হেইড্যা আমি জানি। তয় তোর মইধ্যে জাননের আগ্রহডা বেশি দেইক্ক্যাই তোরে জানাই। নাইলে দেহস না অন্যডির লগে বেশি প্যাঁচাল পারি না। 

-জানিতো বাই। আপনে আমারে পছন্দ করেন। আমার আমারে দেকতে সইর‌্যা যাইতে চান।

-এই যে তুই একটা ফালতু কতা কইলি। তোরে দেকলে পলাই যের লিগ্যা হেইডা অইলো তুই কামের কতা থুইয়্যা আকামের কতা বেশি কস। আর প্যাঁচাস বেশি। কইতাছিলাম কি আর তুই হেই কতা থুইয়্যা একটা প্যাঁচ লাগাইয়্যা দিলি...

-বাই মনের মইদ্যে যে গাই মারে কি করমু কন? কতার মইদ্যে আইলে কি বাদ দেওন যায়?

-না বাদ দেওন যায় না। তয় আগে গুরুত্বপুর্ণ কতাগুলি হুইন্যা লওন উচিত। নাইলে পরে ভুইল্যা যাইতে পারি..

-আইচ্ছা বাদ দেন। আমরা আমাগো কতায় ফিইর‌্যা যাই।

মনা আবার শুরু করলো তার পুর্বের কথা। কিন্ত্তু সে কতা বলে আগের মতো আর ভাব পাচ্ছে না। কারণটা কি? কারণটা আর কিছুই নয়। কারণটা হলোঃ হারুন তাকে যে প্রশ্নগুলো করেছিল সেগুলো মনার মাথার মধ্যে ঘুর ঘুর করছে। সে না পারছে আগের কথায় ফিরে যেতে না পারছে তার কথা চালিয়ে নিতে। কিন্ত্তু মনার মন না বসলেও সে আবার বলা শুরু করলোঃ
(চলবে)

রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব ছয়

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মনার কথা শুনে হারুন একটু নড়ে চড়ে বসলো। তারপর মনার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলোঃ

-এই যে আপনে কইলেন সুরা ওয়াকেয়ার ৫৮ নং আয়াতে আফারায়াইতুম মা-তুমনুন অর্থঃ ভেবেছ কি তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে । হের পর ৫৯নং আয়াতে আআনতুম তাখলুকনাহ আম নাহনুল খা-লিকুন। অর্থঃ তা থেকে তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি? এইডার কথার মানিডা ঠিক বুঝবার পারলাম না...আমাগো কইলো বীর্যপাত সমন্ধে চিন্তা করতে তারপর কইলো তুমরা সৃষ্টি কর না আমি?

-আরে তুমি যে বীর্যপাত করবা, কার উপর করবা? আগে হেইডা ভাবো? তুমি যদি চিন্তা কর আমি মাইয়্যাডারে ভালোবাসি। হেই ভালোবাসার নাম কইর‌্যা তার স্বতীত্ব হরণ করবা? যেই চিন্তা কইর‌্যা বীজটা ঢালবা, হেই বীজটা ঠিক হেয় হেইরকম কইর‌্যাই তৈয়ারী কইর‌্যা পাডাইবো।  নজরুলের কবিতায় পড়ো নাই...শ্রেফ পশুর ক্ষুদা লইয়্যা হেথা মিলে নর-নারী যতো, সেই কামনার সন্তান মোরা তবুও গর্ব কতো? পশুর ভাব লইয়্যা যুদি বীজ ঢালো তাইলে হেই বীজের যে ফসল অইবো হেইডা অইবো পশুর মতোন। যদিও দেকতে মানুষের মতন। হুন যেই নিয়ামত আল্লায় তুমারে দিছে, হেই নিয়ামতের পাই পাই হিসাব হেয় নিব। তুমি কি ভাবছো, তোমারে এম্মনি এম্মনিই ছাইড়্যা দিব?

আরে বাউল ফকির সাধুগো মুকে হুন না. হেরা কি কয়? হেরা হয়-খবরদার, স্বত্ত্বা খন্ডিত করবা না। স্বত্ত্বা খন্ডিত অইলে তুমি বিপদে পড়বা। হেরা কি করে? হেরা যে কয় স্বত্ত্বা খন্ডিত করবা না....যদি স্বত্ত্বা খন্ডিত না অয় তাইলে হেগো ঘরে পুলা-মাইয়্যা আইলো কেমতে? আবার দেহো অন্যদিকে সুফী-সাধকরা বছরের পর বছর নির্জন সাধনা কইর‌্যা কামেল অওনের পর বিয়া সাদী কইর‌্যা হেগো স্বত্ত্বা খন্ডিত কইর‌্যা মুল খনি থিক্ক্যা জগত বাসীর লিগ্যা যেই সন্তান দিয়া গেছে...হেরাও কালজয়ী পুরুষ অইয়্যা গেছে.....কারণ কি? কারণ আর কিছু না.....বীজের খবর লওন....একটা মানুষের বীজের মইধ্যে  কি থাকে? আগে হেইডা জানো মিয়া?

-কেমতে জানমু?

-কেমতে জানমু মানে? তোমার কি বীজ নাই?

-আছে তো? থাকলে হেইডারে কেমতে জানমু? তাইলে তো বীজ বাহির করন লাগবো....এ কথা বলে হারুন একটু লজ্জা পেয়ে হেসে উঠলো। সেই হাসির সাথে তাল মিলিয়ে মনাও হেসে উঠলো। তারপর হাসি থামিয়ে বললোঃ

-এই মানবদেহডা আল্লাহ পাকের লীলাভুমি। আল্লাহ অইলো যেই উপাদান দিয়া তুমি তৈরী অইছো। যেমুন আরবা আনাছের বা খামছা আনাছের। আব, আতশ, বাত, খাক, নুর। এই পঞ্চ উপাদানে তুমি সৃষ্ট। এইগুলারে কয় পাক পান্ঞ্জাতন। তোমার বীজও হেই পাক পান্ঞ্জাতন দিয়া সৃষ্টি অইছে। হেই বীজের মইধ্যে আছে উনিশটি উপাদান। সেগুলি অইলোঃ ১। হাইউন, ২। আলিমুন, ৩। কুদিরুন, ৪। মুরিদুন, ৫। সামিউন, ৬। বসিরুন, ৭। কলিমুন, ৮। দম,৯। কদম, ১০। অহম,১১।.ফহম,১২। আক্কেল, ১৩। এলেম, ১৪। হেলেম, ১৫। আগুন, ১৬। পানি,১৭। মাটি,১৮। বাতাস এবং ১৯। নুর। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর মইধ্যেও উনিশটি অক্ষর আছে। কিন্ত্তু মুল অক্ষর আছে ১০টি। আর এই ১০টি অক্ষরই মোট ১৯ বার ব্যবহার করছে। যেমুন-১। আলিফ-ব্যবহার অইছে = ৩ বার, ২। মীম-ব্যবহার অইছে = ৩ বার, ৩। বড় হে-ব্যবহার অইছে = ২ বার, ৪। রা ব্যবহার অইছে = ২বার, ৫। লাম-ব্যবহার অইছে = ৪বার, ৬। নুন-ব্যবহার অইছে = ১বার, ৭। ছোট হে-ব্যবহার অইছে = ১বার ৮। বা-ব্যবহার অইছে = ১বার, ৯। সীন-ব্যবহার অইছে = ১বার ১০। ইয়া-ব্যবহার অইছে = ১বার। এই দশ অক্ষর অইতাছে বিসমিল্লাহর প্রাণ বা বীজ অক্ষর। ইলমে তাছাউফের ভাষায় এই বিসমিল্লাহরে কয় নুরে মুহাম্মদ। এই নুরে মুহাম্মদী থিক্ক্যাই ১। কালেব ২। রুহ ৩। ছের ৪।খফি ৫। আগফা ৬। নফস ৭। আব ৮। আতশ  ৯। বাদ এবং ১০। খাকের সৃষ্টি।
প্রথমে তুমি আছিলা তোমার বাবার মাথার মইধ্যে। খায়েশের কারণে তোমার মায়ের গর্ভে তোমারে পাডাইয়্যা দিছে। আর তুমি বন্দী অইয়্যা আইছো এই পৃথিবীতে। হের লাইগ্যাইতো শাহ্ পীর কয়ঃ পাঠিয়ে দিয়েছ তাইতো এসেছি, আমি কি কিছুই জানি? যে পাডাইছে হেরে কিন্ত্তু তুমি দেকতে পারবা না। হেয় আড়ালে থাইক্ক্যাই তোমারে পাডায়ইয়্যা দিছে। হেরে কয় খালেক। মানি সৃষ্টি কর্তা। তুমি তোমার বাবারে সৃষ্টিকর্তা কইতে পারো। কিন্ত্তু কোরআন কইতাছেঃ তুমি সৃষ্টি কর, না আমি? এই অামি হচ্ছে দৃষ্টির অগোচরে থাকা মহা অামি। হেয় রব রুপে সবার মইধ্যেই মুহিত অবস্থায় থাহে। বুঝবার পারছো মিয়া?
আবার দ্যাহো, এই বীজ যহন মাতৃজঠরে যায়, তহন হেরে লালন পালনের লিগা মায়ের বুকের মইধ্যে দুদ আহে। হেই দুদের মইধ্যেই আছে ৫+৭ = ১২ ডা উপাদান। ডাইনধারে ৫ টা। আর বাম ধারে ৭টা। ডাইন ধারের ৫টার নাম অইলো গিয়া ১। নুরী ২। জহুরী ৩। যব্বুরী ৪। সত্তুরি ৫। বে-খুদী। এই পাঁচটা উপাদান দিয়া তৈয়ার অয়ঃ ১। আগুন ২। পানি ৩। মাটি ৪। বাতাস ৫। আকাশ। আর বাম ধারের ৭টার নাম অইলোঃ ১। শনি ২। রবি-সুর্য ৩। সোম-চন্দ্র ৪। মঙ্গল ৫। বুধ-ক্ষুদ্র ৬। বৃহস্পতি-বৃহৎ ৭। শুক্র-বীর্য। এই সাতটি দিয়া যেইগুলা তৈয়ার অয় হেইগুলি অইলোঃ ১। হাইউন-জীবিত শক্তি ২। আলিমুন-জ্ঞান ৩। কুদিরুন শক্তি-কর্মশক্তি ৪। মুরিদুন-যৌনশক্তি ৫। সামিউন-শ্রবণশক্তি ৬। বসিরুন-দর্শন শক্তি ৭। কালিমুন-বাক শক্তি। এই পাঁচ আর সাত মিল্ল্যা অইলো বারোডা রস ভান্ডার যারে কয় কলেমা বা বাক্য। সৃষ্টির মইধ্যে এই কলেমাই সবথিক্ক্যা উত্তম। হেরলিগ্যা এইডারে কয় মুসসফী কলেমা। এই বারোডা থিক্ক্যা আবার আরো বারোডা জিনিসের পয়দা অইছে। হেইগুলা অইলোঃ১.ওয়াজেবুল অযুদ ২। অহেদাল অযুদ ৩। আরেফেল অযুদ ৪। মোমতেনল অযুদ ৫। মোমকেনাল অযুদ ৬। জীবিত শক্তি ৭। জ্ঞান শক্তি ৮। কর্ম শক্তি ৯। শ্রবণ শক্তি ১০। যৌন শক্তি ১১। দর্শন শক্তি ১২। বাক শক্তি।
(চলবে)

শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব পাঁচ

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

চিন্তাযুক্ত মনা পাগলা হারুণের দিকে তাকিয়ে বললোঃ
- হারুন্যা তুইতো আমারে মহা চিন্তায় ফালাইয়্যা দিলি....

-ক্যান ভাই? কি হইছে....

-এই যে তুই বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম এইডা কোরআনের আয়াত কি-না জানতে চাইছোস...আমিতো লেহা পড়া বেশি করতে পারি নাই..কেমতে জানমু...বই পুস্তক যে পড়মু .....হেই টেক্যা পয়সাও আছিল না...স্কুলেও যাইতে পারি নাই...

-কি যে কন, ভাই? আমিওতো তেমুন লেহা পড়া হিগি নাই....তয় আমিও মসজিদের ইমাম সাবেরে জিগাইছিলাম হেয় যেই কতা কইছে হেডা আপনেরে হুনাইতে পারি?

-ক দেহি...কি কইছে...

- হেয় কইছেঃ
بسم الله الرحمن الرحيم কোরআনের আয়াতের অংশ। সুরা নমলের একটি আয়াত বা অংশ। সুরা ‘তাওবা’ ব্যতীত প্রত্যেক সূরার প্রারম্ভে بسم الله الرحمن الرحيم লিখা বা পাঠ করা হয়। তাসমীয়াহ সুরা ফাতিহার অংশ, না অন্যান্য সকল সূরারই অংশ এতে ইমাম, মোজতাহিদ ও তাফসীরবিদগণের মতানৈক্য রয়েছে। ইমামে আ’জম আবু হানীফা (রাঃ) বলেছেন, بسم الله الرحمن الرحيم সুরা নমল ব্যতীত অন্য কোন সূরার অংশ নয়। তবে এটি এমন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ আয়াত যা প্রতিটি সূরার প্রথমে লিখা এবং দু’টি সূরার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম হাকেম, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম (রাঃ) এর নীতিমালা অনুস্বরণে বিশুদ্ধ হাদীছ রুপে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম প্রথম দু’টি সূরার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করনে অসুবিধার সম্মুখীন হতেন, তখন ‘বিসমিল্লাহ’ অবতীর্ণ হয়। (মাযহারী)

ইবনে মরদুওয়াইর তাফসিরে রয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আমার ওপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যার মতো আয়াত হজরত সুলাইমান ছাড়া অন্য কোনো নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়নি। আয়াতটি হলো, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। হজরত জাবির রাঃ বর্ণনা করেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন পূর্ব দিকে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, বায়ুমণ্ডলী স্তব্ধ হয়ে যায়, তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ সমুদ্র প্রশান্ত হয়ে ওঠে, জন্ত্তুগুলো কান লাগিয়ে শয়তানকে বিতাড়ন করে এবং বিশ্ব প্রভু স্বীয় সম্মান ও মর্যাদার কসম করে বলেন, ‘যে জিনিসের ওপর আমার এ নাম নেয়া যাবে তাতে অবশ্যই বরকত হবে। (তাফসির ইবনে কাসির)

হেয় আরো কইছেঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, ‘জিবরাইল (আঃ) সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তা হচ্ছে জিবরাইল (আঃ) বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আশ্রয় চান। মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর জিবরাইল (আঃ) বললেন, হে নবী! আপনি বলুন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইকরা বিসমি… অর্থাৎ আপনি পড়ু–ন, আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটাই প্রথম সূরা, যা আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ করেন।’ (ত্বাবারি, তাফসির ইবনু কাছির হা-২৬৩)

-হুম..ভালোইতো কইছে। কিন্ত্তু এইডার হাকীকত কি, হেইডা জানস?

-কেমতে জানমু ভাই? 

-আরে এইডার হাকীকত আরো গুরুত্বপুর্ণ। তুই দ্যাখ, একটা মানুষ, হের মইধ্যে যা কিছু আছে তার সবই আছে হেই মানুষের বীজের মইধ্যে। মানি অইলোঃ প্রত্যেকটা বীজই হাকীকতে পুর্ণাঙ্গ মানুষ তথা ইনসানে কামিল। হেয় অইতে পারে পুরুষ না অইলে মাইয়্যা মানুষ। হেই দিকে লক্ষ্য কইর‌্যা আল্লাহ পাক কইতাছেঃ

"অাফারায়াইতুম মা-তুমনুন। আআনতুম তাখলুকুনাহ আম নাহনুল খালিকুন। নাহনু ক্বাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়ামা নাহনু বিমাসবুক্বীন।"[সুরা ওয়াকেয়া আয়াত নং-৫৮-৬০]। অর্থঃ মানুষ আপন বীজের যে মৃত্যু ঘটায় অর্থাৎ যে বীর্যপাত করিয়া থাকে তার পরিণতি সে দেখে না? স্খলিত বীর্য হইতে মানুষ সৃষ্টি করা বা না করার দায়িত্ব তাহাদের। তাতনুন অর্থ তোমরা নিক্ষেপ/প্রবাহিত করছ। হের পর অন্য আয়াতে ঐ একই সুরার ৬৩নং আয়াতে কইছেঃ আফারায়াইতুম মা- তাহরুছুন? তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সর্ম্পকে (তোমরা) ভেবেছ কি? আআনতুম তাযরাউনাহ আম নাহনুয যা-রিউন। অর্থঃ তোমরাই কি তাকে অন্কুরিত কর না আমি করি? লাও নাশা-উ লাজ্বাআ'লনা-হু মান ফাজালতুম তাফাক্কাহুন। অর্থঃ অামি ইচ্ছা করলে একে চুর্ণ-বিচুর্ণ করতে পারি, তখন বুদ্ধিহীন হয়ে পড়বে।
(চলবে)

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব চার

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

-আপনের কতা আমি কিছুই বুঝবার পারতাছি না। কি কইতাছেন? একবার কইতাছেন এই উনিশ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আবার কইতাছেন সুরা আলাকের কতা? কেমুন জানি প্যাচ খাইয়্যা যাইতাছে গা...

-আরে ব্যাডা, যখন সুরা আলাক নাযিল অয় তখন প্রথম পাঁচটা আয়াতই নাযিল অয়। হেই সুময় আর কোন আয়াত নাযিল অয় নাই।

- না অইলে এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কখন নাযিল অইলো? এইডা কি কুরঅানের অায়াত না?

হারুনের কথা শুনে মনা কেমন যেন ভ্যাবা চেগা খেয়ে যায়? আসলেই তো এই যে আমরা কোরআন পাঠের সময় তাউজ তথা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইয়াতের রাজিম বলি এবং এরপর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলি...এটা কখন কোন্ সময় নাযিল হলো? কারণ, আল্লাহ পাক বলেছেন, এই সেই কোরআন যার মধ্যে কোন সন্দেহ নাই যারা মুত্তাকি তাদের জন্য। অর্থাৎ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদের জন্য এই কোরআনের মধ্যে কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ তৈরী করা হয় নাই তথা রাখা হয় নাই। তাছাড়া যখন সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত নাযিল হয় তখন সেই আয়াতের উপর অনেকগুলো ঘটনা প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করে। যেমন কথিত আছেঃ যখন মহানবী হেরাগুহায় ধ্যান মগ্ন অবস্থায় ছিলেন তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পান, কে যেন তাকে তার নাম ধরে ডাকছে? তিনি সেই আওয়াজ শুনে ভয় পেয়ে যান এবং তিনি হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) - এর কাছে এ ঘটনা ব্যক্ত করেন এবং বলেন আমাকে আবৃত কর। হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) - এর চাচাতো ভাই খ্রীষ্টান পাদ্রী ওরাকা ইবনে নওফেল এর কাছে এই ঘটনা ব্যক্ত করলে তিনি তাঁকে বলেনঃ যখন আপনার নাম ধরে ডাকা হবে তখন আপনি বলবেনঃ লাব্বাইক...তারপর শুনেন সে কি বলে? নওফেল এর কথা শুনে মুহাম্মদ যখন হেরা পর্বতের গুহায় আবারো ধ্যানের স্থানে যান তখন তিনি শুনতে পান, তাকে তার নাম ধরে ডাকছে , ইয়া মুহাম্মদ, ইয়া মুহাম্মদ...সেই আহব্বান শুনে তিনি তখন লাব্বাইক বলে সাড়া দিলেন। তখন দেখলেন-এক সুন্দর যুবক এসে তাকে বলছেনঃ পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাঁধা রক্তবিন্দু হতে।

মুহাম্মদ (সাঃ) যখন এই ঘটনাটা নওফেল এর কাছে বর্ণনা করেন এবং আয়াতগুলো শুনান, তখন তিনি বলে উঠেন কুদ্দুসুন কুদ্দুসুন। অর্থাৎ পবিত্র আত্মা পবিত্র আত্মা। যাকে আমরা ফেরেস্তা জিব্রাইল বলে জানি। এই ঘটনাটা স্যার সৈয়দ আমির আলী কর্তৃক রচিত দ্যা স্পিরিট অফ ইসলাম নামক গ্রন্থে বর্ণিত আছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোখাখাররুল ইসলাম কর্তৃক রচিত ইসলামের ইতিহাসগত বিভ্রান্তির রহস্য নামক গ্রন্থে বর্ণিত আছে।এই ঘটনাটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে দেখা যায়-মুহাম্মদকে প্রথমেই ছোট করা হয়েছে বকলম বলে। অর্থাৎ তিনি লেখা পড়া কিছুই জানতেন না। যিনি লেখা পড়া জানেন না, তিনি কিভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন? কিভাবে তিনি হিলফুল ফুযুল  নামক ঐতিহাসিক ঘটনার সুত্রপাত করালেন? মুসলমানরা বলবেন-আল্লাহর কুদরতে....আরে গাধার দল...সবকিছুই যদি আল্লাহর কুদরতেই হয়, তাহলে সবকিছুই কুদরতেই হোক...এই কুদরত নামক বিষয়টি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিন্হ এঁকে দিয়েছে। তারা ধরতেই পারছে না যে এ ঘটনা দ্বারা মুহাম্মদ (সাঃ) কতো ছোট করা হয়েছে? তাকে যেতে হয়েছে খ্রীষ্টান পাদ্রীর নিকট। তার কাছে কে আসলো, সেটা সে জানলো না। জানলো-খ্রীষ্টান পাদ্রী। যে খ্রীষ্টান পাদ্রী হেরা গুহা নামক কোন সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কি-না, তাও মুসলমানরা জানলো না। অথচ সেই ঘটনা পড়ে মুমসলমানরা বলে উঠছেঃ সুবহানাল্লাহ...উল্লেখ্য যে এই পবিত্র আত্মা তথা কুদ্দুসুন এসেছিল। সেই ঘটনাটা বর্ণনা করার সময় কিন্ত্তু হযরত মরিয়ম (আঃ)-কে কিন্ত্তু কোন খ্রীষ্টান পাদ্রীর নিকট যেতে হয়নি। কেননা হযরত মরিয়ম (অাঃ) হচ্ছেন খ্রীষ্টানদের মা মেরী। এবং তার পুত্র হযরত ঈসা (আঃ) হচ্ছেন তাদের মান্যবর নবী। কিন্ত্তু মুসলমানদের নবীকে যেতে হয়েছে খ্রীস্টানদের নিকট। কি আজব তাদের কারসাজি যারা এই ঘটনাটা সাজিয়েছেন? কারা করেছেন? সেটা আবার অন্য ইতিহাস...মনা কোন কুল কিনারা করতে পারছে না...এতক্ষণ সে বিজ্ঞের মতো কথা বলছিল। কিন্ত্তু হারুণের প্রশ্ন শুনে সে সত্যিই মহা চিন্তায় পড়ে গেল।

(চলবে)

রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬

মনা পাগলার আত্মচিৎকার এবং বাস্তবতা-পর্ব তিন

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মনা হাঁটতে হাঁটতে সামনের দিকে এগুতে লাগলো। আর পেছেনে তাকিয়ে দেখলো হারুন তার পেছনে পেছনে আসছে। কিন্ত্তু এই মুহুর্তে সে চাচ্ছে না কেউ তাকে সঙ্গ দিক। সে অন্য একটা গলির দিকে দ্রুত ঢুকে পড়লো। কিন্ত্তু হারুন নাছোড়বান্দা। সে দৌড়ে মনার সামনে এসে দাঁড়ালো তারপর বললোঃ

-কি ব্যাপার ভাই? আপনে আমারে হালাই থুইয়্যা অাইয়্যা পড়লেন? আর আমি আপনের পিছনে পিছনে দৌড়াইতে দৌড়াইতে শেষ....

-তরে কি কইছি, তুই আমার লগে আয়? আমার লগে অাহিস না। অাইলে বিপদে পড়বি...আমার কথা শোন্ তুই আমারে ছাইড়্যা যাগা...তোর ভালা অইবো?

-আরে রাহেন ভালা-বুড়া....আগে কন আমারে কেন আপনে বেদটা জানাইতে চাইতাছেন না....

-আরে বেশি বেদ জানন ভাল না....জানলে বিপদ আছে...

-খালি বিপদের কথা কয়...হুনেন বিপদের ভয় দেহাইয়্যা আমারে লাব নাই...আমি ডরাই না...

তারা হাঁটতে হাঁটতে মোড়ের মুল রাস্তা ছেড়ে একটা গলির ভেতর ঢুকলো। সেই গলির প্রথম দোকানটা মাসুমের। এ অন্ঞ্চলে মাসুমের চায়ের দোকানের সুখ্যাতি আছে। গরুর দুধের চা। বেশ ভালো বানায়। দুর দুরান্ত হতে অনেকেই এখানে আসে চা খেতে। দোকানটিতে বসার কোন স্থান রাখা হয় নাই। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই চা খায়। মনা সেই দোকানের ধারের কাছে গিয়ে সবুজকে দেখে বললোঃ

-সবুজ ভাই, দুইডা ফাস কেলাস চা দেন....

সবুজ দুজনের জন্য দুই কাপ বানিয়ে দেয়। চায়ে চুমুক দিয়ে মনা বেশ একটা পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলে

-...আহা..চা ডা দারুণ হইছে। তোর দোকানের চা না খাইলে মনে অয় না যে চা খাইছি...

মনার কথা শুনে সবুজ লজ্জা পায়। বিনয়ের সুরে বলেঃ

-মনা ভাই, আমরার লাইগ্যা দোয়া করুনচে...যেন ভালা কইর‌্যা চা আফনারারে বানাইয়্যা খাওইতাম পারি।

-আরে বেডা চাতো ভালাই বানাস। এর থন আর কি ভালা বানাইতে পারবি...

হারুন দেখলো মনা সবুজের সাথে কথা বলে কাল ক্ষেপন করছে। সে চাচ্ছে হারুন চলে যাক। মনাকে একা করে দিক। কিন্ত্তু তার ভাব ভঙ্গীতো ভালো ঠেকছে না...মনে হচ্ছে সে মুল কথা না শুনে যাবে না...দেখাই যাক না কি হয়...

হারুন চা খেয়ে সিগারেট কিনলো। অার একটা মেছ কিনলো। তারপর মনার দিকে তাকিয়ে বললোঃ

-এই দিকটায় বহেন। এইডা নিরিবিলি আছে। কেউ ডিটাব করবো না।

এই কথা বলে হারুন ম্যাচ আর সিগারেটের প্যাকেটটা মনার দিকে বাড়িয়ে দেয়। তারপর মনা একটা সিগারেট ধরিয়ে হারুণের পাশে আয়েশ করে গা এলিয়ে দিয়ে বসে। তারপর সিগারেটের ধোঁয়ার কুন্ডলি আকাশের দিকে ছেড়ে বলেঃ

-বুঝলি রে পাগলা - মানুষের বীজের মইধ্যেই আছে আসল তত্ত্ব। হেই তত্ত্বটা বুঝবার পারলে মানুষ যে কতো উর্ধ্বস্তরে উইট্যা যাইতে পারতো গা...হেইডা মানুষ জানে না...দেখ সুরা মুদাচ্ছির আয়াত নং ৩০। হেইহানে আল্লাহ পাক কইছেঃ "এরপর উনিশ"। এই উনিশ কইথ্ক্কিা আইলো? প্রথমে যহন সুরা আলাক নাজিল হয় তহন আয়াতের সংখ্যা আছিল ৫। তারপর দীর্ঘদিন ধইর‌্যা আর কোন আয়াত আহে নাই....হেই সুময় মক্কার কাফেররা মহানবীরে দারুণ অপমান আর অপদস্ত করছিল। আল্লায় কইলোঃ "অামি শীঘ্রই আপনার উপর ভারী কালাম নাজিল করুম।" আয়াত নং-৫ সুরা নাম্বার ৭৩। এই উনিশ আর কিছুই না। এইডা অইলো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এইহানে আয়াতের সংখ্যা উনিশ। আবার দ্যাখ, কোরআনে মোট সুরার সংখ্যা ১১৪টা। এইডা ১৯ দিয়া ভাগ দে। দেখবি মিল্ল্যা যাইবো গা। ১১৪/১৯=১৬

প্রথমে যেই সুরা নাজিল করা অয়, হেইডা অইলো সুরা আলাকের পাঁচটি আয়াত। যার মইদ্যে উনিশটা শব্দ আছে। এই উনিশটি শব্দের মইদ্যে ৭৬টি অক্ষর আছে। ৭৬ শব্দটিও ১৯ দিয়া ভাগ দিলে মিল্ল্যা যায় গা..(৭৬/১৯=৪)..যুদিও এই সুরাডা নাযিল অইছিল প্রথমে। এহন আছে ৯৬নম্বর স্থানে। উল্টা দিক দিয়া যদি গনন যায় তাইলে দেকবি এই সুরা অইতাছে ১৯ নাম্বারে। সুরা মুদাচ্ছিরে ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ পাক কইছেঃ "এর উপর রইছে উনিশ"। ঘটনা এইডা না। সুরা নাস যেই সুরাডা সবার শেষ সুরা, হেই সুরার শব্দ সংখ্যাও ১৯ । তার মাইনে কি? এই উনিশের মইদ্যে কি আছে?

-বাই আমারও জাননের ইচ্ছা আছে। এই উনিশের মইধ্যে কি আছে?

-কি আছে? এহনো বুঝবার পারস নাই?

-না...

-গাধা..তাইলে আরো হোন, প্রথম ওহী সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াতের শব্দসংখ্যার মতনই কোরআনের আরো বহু পরিসংখ্যান আছে। যেমন ধর
কোরআন যে আনছে হেরে কয় রসুল। রসুল শব্দটা কোরআনে আইছে - ৫১৩ বার।
যার বাণী রাসুল আনছে হেরে কয় রব। রব শব্দটা কোরআনে আইছে - ১৫২ বার।
কোরআনের কেন্দ্রীয় বাণী অইতাছে ইবাদত। ইবাদত শব্দটা কোরআনে আইছে - ১৯ বার।
কেন্দ্রীয় বাণীর আরেকটা ভাষা অইলো আবদ। এই শব্দটা কোরআনে আইছে - ১৫২ বার।
আবদের কাম যে করবো হেরে কয় আবীদ। কোরআনে আবিদ শব্দটা আইছে - ১৫২ বার।
এই সবই ১৯ দিয়া ভাগ দে। মিল্ল্যা যাইবো গা।
(চলবে)