পৃষ্ঠাসমূহ

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০১৭

মহাভারত থেকে কিছু দার্শণিক জীবনদর্শন মূলক তথ্য ও ব্যাখা

পুঁথি ঘেঁটে যা জানা যায়, সে সময়কার জনসংখ্যার আশি শতাংশ পুরুষ মহাভারতের ১৮ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
যুদ্ধ শেষে সঞ্জয় কুরুক্ষেত্রের সেই জায়গায় গমন করেন যেখানে যুদ্ধ হয়েছিল। কুরুক্ষেত্রের জমিতে দাঁড়িয়ে উনি ভাবতে থাকেন, সত্যিই কি সেই জায়গার মাটি যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে, মহাপ্রতাপশালী পান্ডব এবং কৌরবদের রক্তে শুষে নিয়েছে। এই চিন্তা যখন ওনার মস্তিষ্কে বিরাজ করছে, তখন এক কম্পিত কন্ঠ, বৃদ্ধের কোমল ধ্বনি তাঁর কানে বেজে ওঠে। তিনি শুনতে পানঃ

-"তুমি কখনোই সত্য জানতে পারবে না বৎস..!!"

ঘুরে দাঁড়াতে সঞ্জয় গেরুয়া বস্ত্রধারী এক বৃদ্ধকে ধুলোর স্তম্ভ থেকে উঠে আসতে দেখেন।

-আমি জানি বৎস, তুমি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বিষয় জানতে চাও কিন্তু ততক্ষণ তা তোমার বোধগম্য হইবে না, যতক্ষণ না তুমি বাস্তবে যুদ্ধটা কি বস্তু, সেটা বুঝিবে। মৃদু হেসে বৃদ্ধ বলেন।

-তার মানে..?

-মহাভারত একটি দৃষ্টান্ত, একটি মহাকাব্য, হয়ত বাস্তব, হয়ত বা দর্শন। মৃদু-মন্দ হেসে বৃদ্ধ সঞ্জয়ের দিকে তাকান। তাঁর মনে আরও প্রশ্ন উদ্রেক করাই বোধহয় তাঁর লক্ষ।

-আপনি দয়া করে যদি বলেন ওই দর্শন বস্তুটি কি..?? সঞ্জয় অনুরোধ করেন।

-নিশ্চয়, এই বলিয়া বৃদ্ধ আরম্ভ করেন। শুন, তাহলেঃ

-পঞ্চপান্ডব আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় বই কিছু না। দৃষ্টি, ঘ্রাণ, স্বাদ, স্পর্শ ও ধ্বনি।আর কৌরবরা কি, তা কি জান তুমি..??  দৃষ্টি সরু করে বৃদ্ধ শুধান। কৌরব আমাদের একশতদোষ যারা নিত্য, প্রতিমুহূর্ত আমাদের ওই পাঁচ ইন্দ্রিয়কে আক্রমণ করছে। জান কখন..??  সঞ্জয় আবার মাথা নাড়েন। শ্রীকৃষ্ণ যখন তোমার রথের সারথি হন, তখন..!! বৃদ্ধ ঝকঝকে হাসি হাসেন এবং সঞ্জয় এই অন্তর্নিহিত জ্ঞান প্রাপ্তিযোগে অবাক চোখে বৃদ্ধকে দেখেন।

-শ্রীকৃষ্ণ তোমার অন্তর ধ্বনি, তোমার আত্মা, তোমার পথপ্রদর্শনকারি আলোক স্তম্ভ এবং তুমি যদি তাঁর হাতে নিজেকে সমর্পিত করে দাও, তুমি চিন্তামুক্ত থাকবে জীবনে।

সঞ্জয় বোকার মত বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু শীঘ্রই আবার সামলে নিয়ে পরের প্রশ্ন করেনঃ

-তাহলে দ্রোণাচার্য, ভীষ্মপিতামহ কেন কৌরবের হয়ে লড়াই করলেন, যদি কৌরবরা দোষী হয়..??

ধীরে মাথা সঞ্চালন করে বৃদ্ধ বলেনঃ

-ইহার মানে, যখন তুমি বড় হও, তোমার ধারণা বয়স্ক মানুষদের প্রতি বদল হতে থাকে। ছেলেবেলায় যে বয়ঃজ্যেষ্টদের মনে হত তারা সঠিক, বড় হয়ে বুঝতে পার, ততটা ঠিক নন তারা। তাদেরও দোষ আছে। এবং একটা দিন আসে যখন তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের সংগ তোমার জন্যে ভাল কি মন্দ। তারপর এটাও হয়ত তুমি উপলব্ধি কর একটা সময়, তাদের সাথে লড়াই করাই তোমার জন্যে মংগলের। বেড়ে ওঠার ইহাই সবচাইতে কঠিন পক্ষ এবং সেইজন্যেই গীতার সারমর্ম জানা দরকার।

বাকরূদ্ধ হইয়া সঞ্জয় মাটির ওপর হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়েন। ইহার কারণ এই নয় যে, এই বাণী ক্লান্তিজনিত তাঁর কাছে বরং এই দর্শনের মাত্রাধিকতায় তিনি আবিভূত হইয়া পড়েন।

-তাহলে কর্ণকে কি বলবেন..??

-আহ্, তুমি সর্বোত্তম প্রশ্ন সবার শেষে করেছ। শোনঃ

-কর্ণ তোমার ইন্দ্রিয়গণের ভ্রাতা। সে বাসনা। সে তোমারই এক অংশ কিন্তু সে সংগ দেয় দোষের। যদিও সে দোষীর সংগ দিয়ে মনে মনে পীড়া অনুভব করে কিন্তু নিজেকে ঠিক সাবস্ত্য করার জন্যে নানান যুক্তি দেয়, ঠিক যেমন তোমার বাসনা সর্বক্ষণ তোমায় যুক্তি যুগিয়ে চলে। তোমার বাসনা তোমায় মিথ্যে যুক্তি দিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা করে না কি সর্বদা..??

সঞ্জয় নিঃশব্দে মাথা নাড়ান। এক দৃষ্টিতে তিনি কুরুভুমির দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে তাঁর লক্ষ-কোটি চিন্তা তোলপাড় করে। প্রতিটি কথা গুছিয়ে তিনি সামঞ্জস্য তৈরি করার চেষ্টা করেন। খানিক বাদে যখন তিনি মাথা তোলেন, বৃদ্ধ তখন সেখান থেকে প্রস্থান করেছেন। ধুলোর স্তম্ভে আবার মিলিয়ে গেছেন। পেছনে ফেলে রেখে, এক চিলতে জীবনদর্শন

বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

শেখ সাদী (রহঃ) এর কিতাব গুলিস্তা - প্রথম অধ্যায়

বাদশাহের ঘটনাঃ
-----------------
ঘটনাঃ কবি বলেন, একদিন এক বাদশাহকে বলতে শুনলাম, যে এক বন্ধীকে হত্যা করতে আদেশ দিচ্ছেন। তখন বন্দী নিরাশ হয়ে বাদশাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে লাগলো। কথিত আছে, যে ব্যক্তি জীবনের আশা ত্যাগ করে, তার মনে যা থাকে তাই সে প্রকাশ করে দেয়।
ওয়াক্তে জরুরাত চু নামানাদ গরেজ
দস্তে বগীরাদ ছারে শামশিরে তেজ।
অর্থাৎ কবি বলেন, অসহায় অবস্থায় যখন পলায়ন করার আর পথ না পায়, তখন ধারালো তলোয়ারের অগ্রভাগ ধরতে সে দ্বিধা করে না।
ব্যাখাঃ যখন কোন ব্যক্তি শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং তার মৃত্যুর আশংকা দেখে, পালাবার পথ না পায়, তখন নৈরাশ্য অবস্থায় মনের সব সাহস অর্জন করে শত্রুর মোকাবেলা করতে উদ্যত হয়, যদি সে ধারালো তলোয়ারের আঘাত প্রতিরোধ করতে অন্য কোন কিছু না পায়, তখন সে তার নিজের কোমল হাত দ্বারা তা প্রতিরোধ করে। তাতে সে সফল হোক বা না হোক। যেমনঃ বয়াতে কবি বলেনঃ
ইযা ইয়াইসাল ইনসানু তালা লেসানুহু
কাসিন নাওরেম মাগলুবিঈ' ইয়াসুলু অালাল কালবি।
অর্থাৎ কবি বলেন, জীবনের কঠিন মুহুর্তে মানুষ যখন নিরাশ হয়ে যায় তখন তার জিহ্বা লম্বা হয়ে যায়। অর্থাৎ মুখে যা আসে তাই বলে থাকে। যেমন-বিড়াল, কুকুর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে উপায় না দেখে নিজের ছোট থাবা দ্বারা কুকুরকে আঘাত করতে চেষ্টা করে।
বাদশা নিজের অধীনে বন্দীবে কিছু বলতে শুনে তার কথা বুঝতে না পেরে উপস্থিত উজিরদের জিগ্যাসা করলেন, সে কি বলছে? উজিরদের মধ্যে সৎ উদ্দেশ্যের একজন উজির ছিল। সে বাদশাহর নিকট আরজ করলো, হে বাদশাহ নামদার! বন্দী বলছে-
উচ্চারণঃ ওয়াল কাজিমিনাল গাইযা ওয়াল আফিনা আনিন্নাসি ওয়াল্লাহু ইউহিব্বুল মুহসীনীন। অর্থাৎ রাগ দমনকারী এবং মানুষের অপরাধ ক্ষমাকারীকে আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন।
উজিরের এ কথা শুনে বাদশাহর মনে দয়া হলো। তিনি বন্দীকে হত্যা করার আদেশ বাতিল করলেন। কিন্তু দ্বিতীয় উজির তার বিরুদ্ধ ছিল। সে বললোঃ আমাদের সহকর্মীদের মধ্য হতে কারো পক্ষেই বাদশাহর দরবারে সত্য ছাড়া মিথ্যা বলা ঠিক নয়। এ বন্দী বাদশাহকে অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ করেছে। 
বাদশাহ তার কথায় কান দিলেন না। মুখ-মন্ডল অন্যদিকে ফিরিয়ে নিয়ে বললেনঃ সে যা বলেছে তা মিথ্যা। তা আমার নিকট বেশি পছন্দ হয়েছে। তুমি যে সত্য বলেছ তার অপেক্ষায়। কেননা, তার কথার উদ্দেশ্য সৎ, তোমার কথার উদ্দেশ্য অসৎ এবং পাপ। জ্ঞানী লোকেরা বলেছেন, সৎ উদ্দেশ্যের জন্য মিথ্যা বলা ভালো। অসত্যের জন্য সত্যও ভালো নয়।

হর কে শাহ আঁ-কুনাদ কেহ উ গোয়েদ
হায়ফে বাশদকে জুয নেকু গোয়েদ।
অর্থঃ কবি বলেন, যখন বাদশাহ নামদার তাই করবেন, যা তিনি বলবেন তখন সৎ ছাড়া অসৎ বলা দুঃখের বিষয় হবে।

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭

কেন স্র্রষ্টাকে নিজের ভিতর খুঁজব?

কেন স্র্রষ্টাকে নিজের ভিতর খুঁজব?
--------------------------------
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, কারণ মানুষেরই বিবেকবোধ ও আত্মজ্ঞান লাভের ক্ষমতা আছে। মানুষ ব্যতীত অন্য কোন জীব আত্মজ্ঞান লাভ করতে পারে না। আত্ম জ্ঞান হচ্ছে নিজেকে নিজের ভিতর জানার জ্ঞান । নিজেকে জানলে জগতের আর কিছুই জানার বাকি থাকে না। নিজেকে জানলে আপনা আপনি সব কিছু জানা হয়ে যাবে। নিজেকে জানার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছেঃ-

মানুষ = মহা প্রাণ অষ্ট প্রকৃতি ( ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম, মন, বুদ্ধি, অহংকার)
পঞ্চ জ্ঞান ইন্দ্রিয় ( চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক )
পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের গুণ ( শব্দ, স্পর্শ, রুপ, রস, গন্ধ )
পঞ্চকর্ম ইন্দ্রিয় ( বাক, পানি, পদ, লিঙ্গ, উপাস্থ )
বায়ু ভেদে প্রকৃতিগত তিনগুণ (সত্ত্ব, রজঃ ,তম )
ষড় রিপু ( কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য ) ২৫ টি দৈব সম্পদ বা নিবৃত্তিমুখি গুণ বা শক্তি ১০০ আসুরী বা মন্দ প্রবৃত্তি।
বর্ণিত বিষয় সমূহের সমষ্টি হচ্ছে মানুষ।

বর্ণিত বিষয় সমূহ জানাকে আত্মজ্ঞান বলে। উপরে বর্ণিত বিষয় সমূহ সব কিছুই মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। বিদ্যমান বিষয়সমূহ জানলে মানুষ তার প্রবৃত্তিকে চিনতে পারে, নিজের ভিতর একটি সরল পথ তৈরি করতে পারে। সে পথ নিবৃত্তির প্রথম সোপান। স্র্রষ্টা অবিনাশী ও নিরাকার সত্ত্বা। তার আকার প্রকার নির্ধারণ করা সাধারণ মানব মস্তিষ্কের পক্ষে নিতান্তই অসম্ভব। তার মানে কি স্র্রষ্টাকে আমরা উপলব্ধি করতে পারব না? অবশ্যই পারব। তিনি প্রাণরুপে প্রতি দেহ ঘটে বিরাজ করছেন। অসীম সমীম হলেন দেহ ঘটে বা ভান্ডে। সাংখ্য রুপে তিনি সসীম হলেন ২১,৬০০ বার প্রাণরুপে স্পন্দিত হচ্ছেন এই দেহ ভান্ডে। দেহস্থ সব কিছু তাই বিকশিত হচ্ছে।

পিতার মস্তক হতে বিচ্যুতির পূর্বে আমরা সবাই শুন্যই ছিলাম বা মহাপ্রাণের সাথে যুক্ত ছিলাম। আদি পিতা আমাদের পিতার আজ্ঞা চক্রের সামান্য উপরে ব্রক্ষযোনি স্থানে নিক্ষেপ করলেন বাকি কাজ টা করলেন আমার বাবা ও মা। শুরু হলো প্রাণের অনন্ত পথের যাত্রা। এই যাত্রা পথে জন্ম –মৃত্যু, সুখ-দুঃখ ভোগ, কর্মফল ও ঋণদায় শোধের সমষ্টি। দেহস্থ পরম পুরুষ স্বাক্ষী স্বরুপ সব দেখে যান, তিনি শুধু থাকেন..কিছুই করেন না করান না। যেখান হতে বিচ্যুতি হয়ে এই ভবে এলাম ...সেখানে ঠিক সেই ভাবে ফিরে যেতে না পারলে জীবের মুক্তি নেই।

মুক্তি লাভের উপায় হচ্ছেঃ  দেহস্থ যে পরম পুরুষ আছেন তার স্মরণ করা। শুধু স্মরণ করলে কি হবে?
তিনি আবার ইন্দ্রিয়াতীত ও গুণাতীত...

ইন্দ্রিয়াতীত স্থানে ও গুণাতীত হয়ে তাকে স্মরণ করতে হবে। মানব দেহই ধর্ম ও কর্ম ভূমি। জগতের যা কিছু কল্যাণ ও অকল্যাণ মানুষই করেন। জগতের পরিবর্তন মানুষের কর্মের সমষ্টি। মানবদেহে তিনি প্রাণ রুপে থেকে জগতের হিত সাধন করছেন...আবার কাউকে সায়েস্তা করার জন্য এই মানুষকেই ব্যবহার করছেন। মানব দেহস্থিত জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে মিলনের স্থল বা মোহনা হচ্ছে মানব দেহ।

তাই মানব দেহেই সাধনার স্থল এবং এটাই বিশ্ব ব্রক্ষান্ড। এখানেই সব কিছু। এখানেই পাওয়া যায় অমুল্য নিধি।
 [কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ দুলাল মহন্ত দাদা]

বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০১৭

কোরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম

হজরত আবু জর গিফারি (রা.) প্রিয় নবী (সা.) কে প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পয়গম্বরদের সংখ্যা কত? তিনি জবাব দিলেন, ১ লাখ ২৪ হাজার। তাদের মধ্যে ৩১৫ জন হচ্ছেন রাসূল। (আহমদ ও শরহে মাকাসিদ)।
তবে আল কোরআনে যেসব পয়গম্বরের নাম উল্লেখ হয়েছে, তাদের সংখ্যা মাত্র ২৫ জন। তাদের কারও কারও আলোচনা বিভিন্ন সূরায় একাধিক জাগায় স্থান পেয়েছে। আবার কারও কারও নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এর সংখ্যা মাত্র ৫টি। কোরআনুল কারিম যেহেতু হেদায়েতের বাণী ও উপদেশগ্রন্থ, তাই অতীতকালের জাতি ও সম্প্রদায়ের ঘটনাবলি, তাদের ভালো-মন্দ আমল ও তার পরিণতি বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ধারা বর্ণনাপদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। বরং সত্য প্রচারের লক্ষ্যে দাওয়াত প্রদানের মুখ্যতম পন্থাই গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে প্রাচীনকালের সম্প্রদায় ও তাদের প্রতি প্রেরিত পয়গম্বরদের আলোচনা বারবার শ্রবণ করার ফলে শ্রোতাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে যেতে পারে এবং তা শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ উপযোগীও বটে। কোরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম হলো-

১. হজরত আদম (আ.), মোট ৯টি সূরায় ২৫ জায়গায় তার নাম উল্লেখ হয়েছে।
২. হজরত ইদ্রিস (আ.), দুটি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে।
৩. হজরত নুহ (আ.), ২৮টি সূরায় ৪৩ বার উল্লেখিত হয়েছে।
৪. হজরত হুদ (আ.), তিনটি সূরায় সাতবার উল্লিখিত হয়েছে।
৫. হজরত সালেহ (আ.), চারটি সূরায় ৯ স্থানে উল্লেখ হয়েছে।
৬. হজরত ইবরাহিম (আ.), ২৫ সূরায় ৬৯ বার উল্লেখ হয়েছে।
৭. হজরত লুত (আ.), চৌদ্দটি সূরায় ২৭ বার উল্লেখ হয়েছে।
৮. হজরত ইসমাঈল (আ.), আট সূরায় ১২ জাগায় উল্লেখ হয়েছে।
৯. হজরত ইসহাক (আ.), ১২ সূরায় ১৭ বার আলোচিত হয়েছে।
১০. হজরত ইয়াকুব (আ.), ১০টি সূরায় ১৬ বার আলোচিত হয়েছে।
১১. হজরত ইউসুফ (আ.)। তিনটি সূরায় ২৭ বার উল্লেখ হয়েছে।
১২. হজরত শুয়াইব (আ.), চার সূরায় ১১ বার উলি্লখিত হয়েছে।
১৩. হজরত আইয়ুব (আ.), চারটি সূরায় চার জাগায় আলোচিত হয়েছে।
১৪. হজরত যুল কিফল (আ.), দুটি সূরায় দু’বার আলোচিত হয়েছে।
১৫. হজরত মুসা (আ.), ৩৪টি সূরায় ১৩৭ বার আলোচিত হয়েছে।
১৬. হজরত হারুন (আ.), ১৩টি সূরায় ২০ বার আলোচিত হয়েছে।
১৭. হজরত দাউদ (আ.), ৯টি সূরায় ১৬ বার উল্লেখ হয়েছে।
১৮. হজরত সুলাইমান (আ.), সাতটি সূরায় ১৭ বার উল্লেখ হয়েছে।
১৯. হজরত ইলিয়াস (আ.), দুটি সূরায় তিনবার উলি্লখিত হয়েছে।
২০. হজরত ইয়াসা (আ.), দুটি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে।
২১. হজরত ইউনুস (আ.), দুটি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে।
২২. হজরত জাকারিয়া (আ.), চারটি সূরায় সাতবার উল্লেখ হয়েছে।
২৩. হজরত ইয়াইয়া (আ.), চারটি সূরায় পাঁচবার উল্লেখ হয়েছে।
২৪. হজরত ঈসা (আ.), ১১টি সূরায় ২৫ বার উল্লেখ হয়েছে।
২৫. হজরত মুহাম্মাদ (সা.), চারটি সূরায় মাত্র চার জাগায় তাঁর নাম উল্লিখিত হয়েছে। অন্যান্য স্থানে তাঁর গুণবাচক নাম উলি্লখিত হয়েছে। অথবা আইয়ুহান নবী কিংবা আইয়ুহান রাসূল বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এটা বিশ্বনবীর সম্মান ও মর্যাদার পরিচয় বহন করে।

শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৭

তুমি র'বে নীরবে-শেষ পর্ব

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)
আজানের শব্দ শুনে মুসল্লীগণ মসজিদের পানে ছুটছে। অনেকেই তাড়াহুড়ো করছে জামাত ধরার জন্য। মুসল্লীদের জন্য নামাজের আহব্বান যেন মহান প্রভুর সান্নিধ্য পাবার জন্য নির্ধারিত। যাদের অন্তরে প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা আছে, আছে ভক্তি - বিশ্বাস, কেবল তারাই জানেন, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল অালামিন কতোটা দয়া পরবশতঃ হয়ে এই নামাযের ব্যবস্থা করেছেন। অামি তেমন একটা নামায পড়ি না। অধিকাংশ সময়ই শুক্রবার দিন জু্ম্মাার নামায পড়তে চেষ্টা করি। আর ঈদের নামাজতো আছেই। কাজেই এই অামার সালাত হলো সালাতুল বছর। 

অামি দেখলাম, শ্বেতা তার ওড়না টেনে মাথায় ঘোমটা দিয়েছে। অাজান শুনলে কেন জানি না, অনেক মেয়েকেই দেখি, মাথায়ঘোমটা টেনে দেয়। কিন্তু কোন পুরুষকে মাথায় টুপি পড়তে দেখা যায় না...বিষয়টা কেমন যেন মনে হলেও বাস্তব।

ঘোমটা দেয়া শ্বেতাকে বেশ লাগছে। কপালে লাল রংয়ের টিপ দেয়ায় কেমন যেন একটা হিন্দুয়ানীর মতো লাগছে। মনে হচ্ছে শ্বেতা যেন হিন্দুঘরানার কোন কুল বধু। আমি শ্বেতাকে বললামঃ

-চলো ওঠা যাক।

-কোথায় যাবে?

-বললাম না...যেদিকে দু'চোখ যায়...নিজের ইচ্ছে মতো চালাব। অজানার উদ্দেশ্যে। কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা...মনে মনে...

-এ্যাই বলো না কোথায় যাবে?

-জানি না। কেন? তুমি কোথাও যেতে চাও?

-নাহ্। আজ আমি তোমার সাথেই থাকতে চাই। তবে অবশ্যই রাত আটটার মধ্যেই আমাকে বাড়ী যেতে হবে।

-ঠিক আছে। অামি তোমাকে সাতটার মধ্যে ছেড়ে দেব। ইচ্ছে করলে তোমাকে বাড়ী পর্যন্ত পৌছে দিতে পারি? যদি তুমি রাজী থাকো?

-না বাবা। অামাকে যদি দেখে তোমার সাথে বাইকে চড়ে বাড়ীতে অাসছি, তাহলে বাবা আমাকে অাস্ত রাখবে না....

-আরে বাবা, কেউ দেখতেও পারবে না....তোমাকে তোমার বাড়ীর কাছাকাছি একটা স্থানে নামিয়ে রিক্সা ধরিয়ে দেব। সেটাতে চড়ে তুমি বাড়ী চলে যেও....এখনতো সবে মাত্র সন্ধ্যা হলো। মাত্র বাজে ছ'টা দশ। এখনো অনেক সময় বাকী আছে...তুমি দেরী করো নাতো....তাড়াতাড়ি বাইকে চড়ে বসো। 

-কোথায় যাবে?

-এই শ্যুটিং ক্লাবের দিকে। একটা চক্কর দিয়েই তোমাকে বাড়ী পৌঁছে দেব।

আমার কথা শুনে শ্বেতা কিছু বললো না। সে নীরবে আমার সাথে হাঁটা আরম্ভ করলো। আমরা রাস্তাটা পার হয়ে পার্ক করা স্থানে গেলাম। সেখানে গিয়ে বাইকে চেপে বসলাম। পিছন ফিরে শ্বেতাকে দেখলাম, সে যেন মোবাইলে কি যেন খুঁজছে। হয়তো কোন গান হবে। দেখলাম হেড ফোন লাগিয়ে মোবাইলটা তার পার্সে রেখে দিল। মোবাইলের তারটি বের হয়ে কানের নিচে ঝুলে রইলো। দু'কান হতে গলার নিম্নভাগে বুকের কাছে সেটা সমতা বিধান করে নিচের দিকে নেমে গেছে। অামি শ্বেতাকে বললামঃ

-প্লিজ, একটু তাড়াতাড়ি করো না...অাকাশটা হটাৎ কেমন যেন বদলে গেছে...মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে।

-অারে বাবা আসছি তো... 

শ্বেতার আমার বাইকে চড়ে বসলো। আমি বাইক স্ট্যাট দিয়ে শুটিং ক্লাবের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। সেই চিরচেনা নিয়মে মাঝে মাঝে ব্রেক কষছি। আর শ্বেতার নরোম বুকের স্পর্শ আমার পিঠে আঘাত করছে। শ্বেতা কিছুটা ভয় পেয়েছে কি-না কে জানে? সে হটাৎ করেই আমাকে জাপটে ধরলো। তার বুকের স্পর্শ আমাকে মাঝে মাঝেই অন্যমনস্ক করে দিচ্ছে। সে আমার ঘাড়ের দিকে নোখ দিয়ে আঁচড় কাটছে। আবার জপটে ধরে মাথাটা এলিয়ে দিয়ে ঘুমানোর মতো ভংগী করছে...আমি মাঝে মাঝেই অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ছি। শ্বেতাকে বললামঃ

-একটা বিষয় খেয়াল করেছো?

-কি?

-আজ আমরা কোন ছবি তুলিনি। কোন সেলফিও তুলিনি...মনে হয় যেন সব ভুলে বসে আছি...

-তাহলে এখন তুলি....

-নাহ থাক্....তুমি কি গান শুনছো?

-রবীন্দ্র সংগীত। মোনালি ঠাকুরের গাওয়া....কেন? তুমি শুনবে? 
একথা বলেই শ্বেতা তার কানের একটা হেড ফোন লাগিয়ে দেয় আমার ডান কানে। আমি ও শ্বেতা দু'জনেই শুনছি-

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম
নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম॥
মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন
তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম॥
জাগিবে একাকী তব করুণ আঁখি,
তব অঞ্চলছায়া মোরে রহিবে ঢাকি।
 মম দুঃখবেদন মম সফল স্বপন
 তুমি ভরিবে সৌরভে নিশীথিনী-সম॥

হটাৎ করেই বৃষ্টি পড়ার মাত্রাটা বেড়ে গেল। আমি বাইকটার স্প্রীড বাড়িয়ে দিলাম। সামনে যে ব্রীজটা আছে সেটা তাড়াতাড়ি পাড় হতে হবে। ঝুম বৃষ্টিতে কাক ভেজা হলে হয়তো জ্বর আসতে পারে। তাছাড়া শ্বেতা ভিজে গেলে আরো বিপদ। আমি তখন স্প্রীড তুলে দিয়েছি প্রায় ৬০ এর কাছাকাছি...যখন ব্রীজটা পার হলাম ঠিক সেই মুহুর্তে কোথা হতে একটা প্রাইভেট কার সামনে এসে পড়লো। আমি টাল সামলাতে না পেরে সরাসরি প্রাইভেট কারের সংগে লাগিয়ে দিলাম। একটা বিকট শব্দ হলো। এরপর আমার কিছু মনে নেই।

দুদিন পর আমার জ্ঞান ফিরলো। নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের বেডে। আমার বাঁ পা'টা ভেংগে গেছে। মাথায় ব্যান্ডজ। মুখের বাঁ দিকটা মনে হয় প্রচন্ড ব্যাথায় কাতর হয়ে যাচ্ছি। কথা বলার শক্তি পাচ্ছি না। ডানে বামে তাকালাম। শ্বেতা কোথায়? তাকে তো দেখছি না? দেখছি কেবল আমার মা-বাবা ভাই বোনকে। আত্মীয়-স্বজন সবাই ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছে। আমি চোখ খুলতেই সবাই কেমন যেন চমকে উঠলো। আমার ছোট বোনটা চিৎকার করে কেঁদে ফেললো।

-দাদা, তুই বেঁচে আছিস?

আমি ফিসফিস করে বললামঃ

-শ্বেতা কোথায়?

-ও আছে। বেঁচে আছে। এই হাসপাতালেই ইনটেনসিভ কেয়ারে আছে।

-আমাকে নিয়ে চল। অামি ওকে দেখবো?

-তুই কিভাবে যাবি? তোরতো পা তো.......একথা বলেই মুন্নি কেঁদে ফেললো।

মুন্নি আমার ছোট বোন। ছোট হলেও সে ইঁচড়ে পাকা...আমার আর শ্বেতার ব্যাপারটা ও জানে। আমি আমার পরিবার থেকে সম্পুর্ণ পৃথক থাকি। তারা থাকে বনানীতে। আর আমি হাজিপাড়ার একটা এপার্টমেন্ট ভাড়া করে থাকি। পড়া শোনা করার জন্য। আমি একসিডেন্ট করেছি শুনে তারা সবাই এসেছে। কিন্তু খবর পেলো কিভাবে? কে তাদের খবর দিল? আর কে-ই বা হাসপাতালে নিয়ে এলো? এ সমস্ত প্রশ্নগুলো যেমন ঘুরপাক খাচ্ছে, তেমনি ঘুরপাক খাচ্ছে শ্বেতা কেমন আছে? তাকে দেখতে মন চাইছে....আমি বললাম 

-একটা হুইল চেয়ার নিয়ে আয়...

একটা হুইল চেয়ারে আমাকে বসানো হলো। আমি সেটাতে চড়ে বসলাম। সাথে আমার ছোট বোন। আর আমার এক খালাতো ভাই মানিক। মানিক ঠেলে ঠেলে হুইল চেয়ারটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ইনটেনসিভ কেয়ারের রুমটার দিকে। যেখানে শ্বেতাকে রাখা হয়েছে। অামি সেখানে ঢুকতে চাইলাম। কিন্তু ডাক্তার আমাকে ভেতরে ঢূকতে দিলো না। অামি বাহির থেকে শ্বেতাকে দেখছি। পুরো মাথায় ব্যান্ডেজ। ডান কাত হয়ে শুয়ে আছে। পুরো শরীরটা সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা। পাশের মেশিনটাতে একটা সবুজ রেখা আপ-ডাউন করছে। সু-সান নীরবতা চারদিকে। কেউ কোন কথা বলছে না। শ্বেতার পাশে বসা একজন মহিলাকে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শ্বেতার মা। আমি ওর মা-বাবাকে কখনো দেখিনি। কথাও হয়নি কোন দিন। অার কোনদিন হবেও না। মানিকের কাছে শুনলামঃ শ্বেতাকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেছে ডাক্তাররা। যে কয়দিন বেঁচে থাকবে,এভাবেই থাকতে হবে ওকে। 

ডাক্তার যা-ই বলুক, শ্বেতা বেঁচে থাকবে চিরদিন চির জীবন। যতো দিন আমি বেঁচে থাকবো, ততোদিন শ্বেতাও বেঁচে থাকবে। আমি মানিককে বললামঃ

-তোরা চলে যা। আমাকে একটু একা থাকতে দে..

ওরা সবাই চলে গেল।আমি কান্নায় ভেংগে পড়লাম। চোখের দু'ধার দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে অজস্র্র জলরাশি। সেই জলস্র্রোত যেন শ্বেতাকে স্পর্শ করছে না...হৃদয়ের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে আমার মন-প্রাণ। কিন্তু তাতেও সাড়া মিললো না শ্বেতার। আমি আবারো আস্তে আস্তে করে ডাকলাম......শ্বেতা। নাহ্ ওর ঘুম কিছুতেই ভাঙ্গছে না...ও ঘুমাক। 

অামি ইনটেনসিভকেয়ারের সামনের কাঁচের দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি আমার শ্বেতাকে। শ্বেতাকে স্পর্শ করতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে আমি এক পালক ভাংগা কপোত হয়ে আমার কপোতীর কাছে যেতে পারছি না। 

কেন আমি বেঁচে রইলাম? কেন আমি শ্বেতার মতো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারলাম না...যমদুত কেন আমাকে দেখলো না...স্র্রেফ আমার ভুলের কারণেই কি আজকে শ্বেতার এই অবস্থা....এর জন্য কি আমি দায়ী.....না আমার গতি...কোন টা....যেটাই হোক শ্বেতা...তুমি আমার। কেবলই আমার। আমার নিঃশ্বাসে, আমার বিশ্বাসে। আমার প্রাণে...আমার হৃদয়ে....তুমি র'বে নীরবে।

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭

তুমি র'বে নীরবে-দ্বিতীয় পর্ব

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

ছিপছিপে শরীরের সাব-ইন্সপেক্টরকে দেখে শ্বেতা ভ্রুু কুঁচকে বললোঃ 

-তোমার মামার শরীরে তো পুষ্টির অভাব আছে। দ্যাখো না, কেমন ছিপছিপে? ইয়া লম্বা...

-শুন শ্বেতা, এই মামাকে কিছুদিন পর তুমি দেখলে চিনতে পারবে না...দেখবে ইয়া মোটা সোটা হয়ে গেছে...

-কেন? সে কি প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খাবে? কিংবা ব্যালেন্স ডায়োট করবে?

শ্বেতার কথা শুনে আমার এমন হাসি আসলো যে, নিজেকে সামলাতে কষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের পুলিশ যে কি পরিমাণ কষ্ট করে, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর। তাছাড়া সারাদিনমান যে কনেস্টবল কিংবা ট্রাফিক পুলিশ এই রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে  তার কার্য পরিচালনা করে, সেটা সত্যিই কষ্টসাধ্য। আমি যখন মনে মনে একথা চিন্তা করছিলাম, তখন দেখলাম, সেই পুলিশ সার্জেন্ট জ্যামটা মুহুর্তের মধ্যেই ক্লিয়ার করে দিল। সত্যিই বেশ করিৎকর্মা লোক....

আমি বাইকটি চালিয়ে মোল্লা টাওয়ারকে পাশ কাটিয়ে হাতির ঝিলে প্রবেশ করলাম। যে সময়টাতে হাতির ঝিলের দিকে প্রবেশ করি, সে সময় হাল্কা ইলশে গুড়ি টাইপের বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা দুজনেই এই বৃষ্টিটা বেশ উপভোগ করছিলাম। আর মাঝে মাঝে হাল্কা ব্রেক কষছিলাম যাতে শ্বেতা আমার পিঠের উপর ঝাপটে পড়ে। উদ্দেশ্য হলো ওর নরোম তুলতুলে দেহটার উত্তাপ নেওয়া। আমার এই দুষ্ট বুদ্ধিটা শ্বেতা বুঝতে পারছে কি-না জানি না, তবে ব্রেক কষার সাথে সাথে সত্যিই শ্বেতা দেহটা এলিয়ে দিতো। মাঝে মাঝে শ্বেতাকে দেখছি সে ইচ্ছে করেই হোক আর অনিচ্ছাই হোক, আমাকে জড়িয়ে ধরছে...আমি সেটা বেশ উপভোগ করছি।

বাইকটা টান দিয়ে সোজা চালিয়ে যাচ্ছি। শ্বেতা জানতে চাইলোঃ আমরা  কোথায় যাচ্ছি? আমি বললামঃ কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা...আজ যে দিকে মন চায়, সেদিকেই যাবো। শ্বেতা বললোঃ

-এ্যাই আমার ক্ষিদে পেয়েছে...চল না কিছু খাই ?

-কি খাবে?

-যা ইচ্ছে তোমার...

আমি বাইকটা একটা জায়গায় দাঁড় করিয়ে শ্বেতাকে নিয়ে একটা বারে ঢুকলাম। জায়গাটা ইষ্টার্ণ হাউজিং সোসাইটির হাতির ঝিলের প্রবেশ মুখে। সেখানে বেশ কিছু ছোট খাটো বার আছে। একটা স্মাার্ট ছেলে এসে জিগ্যেস করলোঃ 

-স্যার কি খাবেন?

- কি কি আছে?

-স্যার গ্রিল, বার্গার, পিৎজা, হটডগ, সেন্ডউইচ....

আমি শ্বেতার দিকে তাকিয়ে বললামঃ

-কি খাবে?

-একটা পিৎজা নাও....

আমি সেই ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বললামঃ 

-একটা পিৎজা আর...সাথে কোক দাও

ছেলেটি কিছুক্ষণ পর পিৎজা এবং কোক দিল। পিৎজাটা দেখতে বেশ। গরম । খেতেও বেশ। বেশ আরাম করে শ্বেতা খাচ্ছে। আমি শ্বেতার দিকে তাকিয়ে দেখছি। শ্বেতা খেতে খেতে বললোঃ

-এ্যাই তুমি খাবে না....

-তোমার ক্ষিদে লেগেছে...তুমি খাও

-তাই? ঠিক আছে। তুমি হা করো। আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি...

-এই নাও হা করছি...হা..........হা...........হা

-আরে আমি তোমাকে ওভাবে হা করতে বলিনি...এই নাও...প্লিজ একটু খাও...

শ্বেতা একটুকরো পিৎজা হাতে নিয়ে আমাকে খাইয়ে দিল। আমি খেতে খেতে ভাবলাম, ইশ! শ্বেতা যদি আমাকে এভাবে রোজ খাইয়ে দিত। আমি পিৎজা চিবুতে চিবুতে শ্বেতার দিকে তাকালাম। পড়ন্ত বিকেলে শ্বেতার মুখটা বেশ উজ্জল দেখাচ্ছে। বারটির কাঁচের দেয়াল ভেদ করে একটুকরো রোদ্দুর এসে ভিতরে প্রবেশ করেছে। সেই রোদ্দুরটা পড়েছে শ্বেতার উপর। উজ্জল শ্যামলা গায়ের রং যেন আলো চকচক করছে। আমি কবি হলে বলতামঃ

তোমার প্রেমে পুড়ে আমার অন্তর হলো ছাই
ওগো প্রেমিকা, ওগো প্রিয়সী, বলো তুমি
এ জ্বালার ঔষধ কোথা পাই।।

তোমার দেহের বল্লরী যেন ধারালো কোন ছোড়া
ছুঁইলেই যেন মোর হৃদয় কেটে হবে ফালা ফালা।
শোন হে সুন্দরী, তনুমন,
প্রেম দিয়েছি, ভালোবেসেছি তোমায় আমি অণু ক্ষণ।।
কাটার ভয় আমি করি না করো, দেহ বল্লরীর
কেটে যেতে দাও হৃদয় মোর
সন্ঞ্চরী, আখেরির।।

-কি হলো? কি ভাবছো? চলো উঠা যাক।

শ্বেতার কথায় আমি ধাতস্থ হলাম। আমি ছেলেটাকে ডেকে বিল দিয়ে বেরিয়ে আসলাম। শ্বেতা আমার সামনেই আছে। তার হাত দুটো টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলাম। বাইকটা সেই বারটির পাশেই পার্ক করা। আমরা রাস্তাটা পার হয়ে পশ্চি ম দিকটায় নরোম ঘাসের উপর বসলাম। ঝকঝকে আকাশটা বেশ লাগছে। বৃষ্টিটা থেমে গেছে। কিন্তু দিয়ে গেছে একটা চমৎকার আকাশ। একফালি নরোম রোদ্দুর। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম পাঁচটা পনেরো বাজে। আছরের নামাজ শেষ করে মুছল্লীরা মসজিদ থেকে বের হচ্ছে। কেউ কেউ ডায়াবেটিস রোগীর মতো হাঁটার অভ্যাস করছে। আর ডায়বেটিস রোগীরা তাদের মতো করে লেফট-রাইট ভংগীতে হাঁটছে। আর আমাদের মতো আরো অনেক জুটি এখানে ওখানে বসে কথোপকথন করছে। কেউ কেউ খুনসুটি করছে। হাসতে হাসতে ইচ্ছে করেই শরীরের উপর পড়ছে। জানি অামি। সেটা কেবল সান্নিধ্যটাকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করার জন্য। একটা স্মৃতি চিন্হ এঁকে দেবার জন্য। 

মুরুব্বী গোছের একটা লোককে বলতে শুনলাম। সে বলছে - "আধুনিকতার নামে আজকাল ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বেল্লাপনা বেশ বেড়ে গেছে। আমরা যতটাই আধুনিক হচ্ছি ঠিক ততোটাই বেহায়া হয়ে যাচ্ছি। আমাদের লাজ-লজ্জা বেশ কমে গেছে।"

লোকটির কথা শুনে মনে হলোঃ সত্যিই আমরা বেহায়া হয়ে যাচ্ছি? আমাদের কি একটুও লজ্জা শরম নেই? এই যে, শ্বেতা নামের মেয়েটি আমার পাশে বসে আছে সেই সকাল থেকে, তারও কি লজ্জা শরম নেই? প্রেমের জায়গায় কি লজ্জা শরম থাকতে নেই? আরে বাবা, লজ্জা শরম থাকলে কি কেউ প্রেম করতে পারে? অামি শ্বেতার দিকে তাকিয়ে বললামঃ

-এ্যাই শ্বেতা, আচ্ছা সত্যি করে বলোতো, আমাদের কি লজ্জা শরম নেই?

-এটা কি ধরণের কথা হলো? আর হটাৎ ই বা তুমি এ কথা কেন বলছো?

-নাহ্ ...ঐ যে মুরব্বীকে দেখছো, সে বলছে আজকাল ছেলে-মেয়েদের মধ্যে না-কি বেল্লাপনা বেড়ে গেছে?

-বেল্লাপনা বেড়ে গেলে তার কি? তাকে কি আমরা কোন ক্ষতি করেছি...না-কি তাকে দেখিয়ে তোমাকে কিস দিয়েছি?

-ঠিক আছে। সে তো চলে গেছে। এখন না হয় কিস টাই দাও...

-কি বলছো তুমি?

-আরে বাবা, তুমিইতো বলছো? তাকে দেখিয়ে তুমি কিস দাও না..সে তো কাছেই নেই...প্লিজ দাও না...

-ধুর...তুমি কি সব পাগলের মতো কথা বলছো?

-প্লিজ...একটা...ওয়ান মোর

শ্বেতা আমাকে অবাক করে দিয়ে সত্যি সত্যিই একটা কিস দিল। আমি এমন একটা অনুভুতি পেলাম..আমার সারা শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল। আমার পঁচিশ বছরের জীবনে এমন একটা উপহার পাবো, তা স্বপ্নেও ভাবিনি...আমার পাশে বাইশে পা দেয়া একটা জ্বলজ্যান্ত ঊর্বশী বসে আছে। যার দেহে আগুন জ্বলছে। যার উত্তাপ এই পৃথিবীও পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া কথা। যার দেহের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে বিধাতা কি নিপুণ হাতে শিল্পীর তুলির আঁচড়ে এঁকে দিয়েছেন বিশেষ ধরণের আল্পনা। এ আল্পনার রেখা খুব কম প্রেমিকই দেখতে পায়। অথবা এমনও হতে পারে এ আল্পনার ভাঁজটি দেখার জন্যই প্রেম প্রেম খেলা। কিংবা মধুবনের মধু আহরণের জন্যই মধুকরের উপস্থিতি। সে যাই হোক, আমি বেশ উপভোগ করছি।

মাগরিব নামাযের আজান শোনা যাচ্ছে। মাইকে ভেসে আসছে....হাইয়্যা আলাস সালা
(চলবে)

শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭

তুমি র'বে নীরবে-পর্ব এক

অাজ সকাল থেকেই মেঘ আসবো আসবো করছে কিন্তু আসছে না। আকাশটাও মেঘের আনা-গোনায় ভেলা ভাসিয়েছে। এই আসছে, আবার যাচ্ছে। মাঝে মাঝে হিম শীতল ঠান্ডা বাতাস মুহুর্তেই শরীরে শিহরণ ধরিয়ে দিচ্ছে। অামি পাঁচ তালার যে রুমটাকে থাকি, সেখান থেকে জানালা খুলে দিলেই পুরো আকাশটাই দেখা যায়। রুমের গ্লাসগুলো হাল্কা রঙিন। তাই রুমের ভেতর থেকে প্রকৃতির সেই রুপ ভালো ভাবে দেখা যায় না। প্রকৃতি দেখতে হলে অবশ্যই খালি চোখে তাকিয়ে দেখতে হবে। উপভোগ করার জন্য চাই একটা মন। সুন্দর মন। কিন্তু আজকের প্রকৃতি একটু ভিন্ন ধাঁচের।

সাদা নরোম তুলতুলো মেঘ গুলো বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে এদিক সেদিক উড়ে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টির ঝপটা এসে পড়ছে বারান্দায়। 

অামার মনের কোণেও আকাশের মতোই মেঘ জমেছে। যে কোন মুহুর্তে বৃষ্টি হওয়ার আশু সম্ভাবনা আছে। মনটা খারাপ থাকায় ভেবেছিলাম বিছানায় শুইয়ে বই পড়ে কাটিয়ে দেব। কিন্তু সেটা আর হলো কোথায়? হটাৎ কলিং বেলের অাওয়াজে বিছানা থেকে উঠতে হলো। বিছানা হতে নেমে দরজা খুলতেই চোখ কপালে উঠলো।
দেখলাম শ্বেতা দরজায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। আজ শ্বেতা শাড়ী পড়েছে। কপালে দিয়েছে লাল টিপ। শ্বেতা এম্ম নিতেই সুন্দর। তার উপর মানান সই শাড়ি, লাল টিপ....চোখ দুটো টানা টানা হরিণীর মতোন। বেশ অবাক করা দৃষ্টি। একবার তাকালে তাকে ঠিক মতো অনুভব করা যায় না। বার বার তাকাতে হয়। অামি তাকিয়েই ছিলাম...
আমাকে হেবলার মতো তাকাতে দেখে শ্বেতা বললোঃ

- কি হলো? ভেতরে আসতে বলবে না? না-কি এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখবে?

শ্বেতার কথায় আমি সম্বিত ফিরিয়ে পেলাম । তারপর তাকে ভেতরে আসতে বললাম। শ্বেতা ঘরে ঢুকেই নাকে আংগুল চেপে বললোঃ

- উফ্। সিগারেটের উৎকট গন্ধে ঘরটা পুরো ভরে গেছে...কতো সিগারেট খাও তুমি...

- বেশি না। এই ধরো সারা দিনে এক প্যাকেট যায়...আর রাতে প্রায় অর্ধেক...

- তার মানে তুমি দেড় প্যাকেট সিগারেট খাও...

আমি হাসলাম। কোন উত্তর দিলাম না। আমি খেয়াল করলাম, শ্বেতার গা থেকে মিষ্টি একটা পারফিউমের গন্ধ আসছে। সেই গন্ধটা কেন যেন আদিম প্রবৃত্তিটাকে জাগিয়ে দিতে চাইছে। সিগারেটের গন্ধটা আমি পাচ্ছি না। আমি পাচ্ছি একটা ভালো লাগার শিহরণ। একটা অনুভুতি। অামি সহসাই বলে উঠলামঃ
- চলো। বাহিরে যাব। আজ সারাদিন তোমাকে নিয়ে বাইকে ঘুরবো। যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব। 'কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা' মার্কা গানের মতো।
এ কথা বলেই আমি শ্বেতার হাত ধরে টানতে টানতে নিচে গ্যারেজের কাছে এসে দাঁড়ালাম। আমাকে দেখে দারোয়ান সফিক চাচা একটা বিকট হাসি দিয়ে স্যালুট দিল।  বললোঃ

- ভাইজান, কি বাইরে যাইতাছেন?
আমি হোন্ডাটার তালা খুলে সেটাতে চেপে বসলাম। পাশেই শ্বেতা বসলো। তারপর আমি হোন্ডা স্ট্যাড দিতে দিতে বললামঃ

- জ্বি চাচা। বাইরে যাচ্ছি। আসতে দেরী হতে পারে। খেয়াল রাখবেন। আমি পেছন ফিরে  শ্বেতার দিকে তাকিয়ে  বললামঃ শক্ত করে চেপে ধরো। হোন্ডা কিন্তু টান দেব। সে সময় কিন্তু পড়ে যেতে পারো...
আমার কথা শুনে শ্বেতা আমাকে পেছন থেকে জোরে চেপে ধরে। শ্বেতার বুকটা আমার পিঠের সাথে লেপ্টে থাকে। আমি ভেতরে ভেতরে একটা নরোম উষ্ণতার ছোঁয়া পাই। শ্বেতা আমাকে এমন শক্ত করে ধরেছে যে, আমার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। তবুও আমি কিছু বললাম না। কেবল মুচকি হাসলাম।
সফিক চাচা পুরো গেটটাই খুলে দিয়েছে। আমার কোন অসুবিধাই হলো না। আমি নির্দ্দিধায় হোন্ডাটা মুল রাস্তায় নিয়ে আসলাম। তারপর সাঁই করে টান দিয়ে এগিয়ে চললাম।  আমি যে দিকে থাকি, সেখান থেকে হাতির ঝিল মিনিট পনেরো দুরত্ব। হেঁটে গেলে বড়ো জোর অাধা ঘন্টা লাগতে পারে। সেই পনেরো মিনিটের রাস্তাটা বানিয়ে ফেললাম পাঁচ মিনিটের রাস্তা। রাস্তা ফাঁকাই ছিল। তাই হোন্ডা টান দিতে কোন অসুবিধাই হলো না। কিন্তু মোল্লা টাওয়ারের সামনে একটা জ্যামে পড়ে গেলাম। জ্যামটা বেশ বড়ো সড়ো। পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। তারা রিক্সাওয়ালাদের বেদম পেটাচ্ছে। রিক্সাওয়ালারা পরি মরি করে তাড়াতাড়ি ছুটতে গিয়েই একটার সাথে আরেকটার চাকা লাগিয়ে জ্যামের সৃষ্টি করেছে। অবশ্য সেই জ্যামটা ছুটতে কতোক্ষণ লাগতে পারে, আমি মনে মনে সেটা চিন্তা করছি আর হোন্ডাটা আস্তে আস্তে টানছি। অার একটু একটু করে সামনের দিকে এগুচ্ছি......
রামপুরা টিভি সেন্টারের পাশ দিয়ে রাস্তা গিয়েছে মৌচাক-মগবাজারের দিকে, সেই রাস্তার পাশেই একটা যাত্রী ছাউনির মতো জায়গায় গোটা কয়েক পুলিশ বসে ছিল। তারা শ্বেতার দিকে বার বার তাকাচ্ছিল। শ্বেতা বেশ অপ্রস্তুত হয়েই মুখটা ঘুরিয়ে নিল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ 
- এ্যাই জোরে চালাও না...

- আরে বাবা...যাচ্ছি তো....বেশি জোরে টানা যাবে না। টানলে মামারা আটকাবে?

- মামা পেলে কোথায়...

- ঐ যে, সামনে যে ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছে সেই হলো মামা। 
অামি দাঁড়িয়ে থাকা সাব ইন্সপেক্টরকে দেখিয়ে দিলাম।
(চলবে)