পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শনঃ – পর্ব-৭

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে) 

সুক্ষ্ম পর্যায়ে ঘনীভুত বস্তু নেই। আছে বর্ণরূপে তার অবস্থান। এক এক ধরনের বর্ণ হলঃ এক এক ধরনের ‘FREQUENCY’ দ্বারা তৈরি। ভারতীয় ‘তন্ত্র তত্ত্ব’ এজন্য সমগ্র বিশ্বজগতকে বর্ণ দ্বারা সৃষ্ট বলে মনে করেছে। এই বর্ণ ‘তন্ত্র তত্ত্ব’ মতে একান্নটি (৫১) । এক একটি বর্ণের একেকটি ‘FREQUENCY সঙ্গে একেকটি ধ্বনি সুক্ষ্মতর অবস্থা থেকে স্থুল পর্যায় পর্যন্ত। বর্ণের FREQUENCY কে প্রতীকী রেখায় ধরার জন্য সাধক জনেরা এই অক্ষর তৈরি করেছেন। 

‘তন্ত্র তত্ত্ব’ মনে করে যে, জগত মূল কেন্দ্র থেকে কোয়ান্টাম পদ্ধতি অনুসরণ করে একান্নটি বৃত্তে স্থুলতা লাভ করেছে। একেকটি বৃত্তের একেক ধরনের FREQUENCY অনুসারে একেকটি প্রতীকী অক্ষর তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে সুক্ষ্মতম বোধে অনুভুত উর্ধ্ব আদি অক্ষর বাদে পঞ্চাশটি অক্ষর নিয়ে সংস্কৃত বর্ণমালা তৈরি হয়েছে। এই কোয়ান্টাম পদ্ধতিতে জগত তৈরির সঙ্গে ‘আল্লাহু’ ও ‘ওঁ’ শব্দটি জড়িত। শুন্যস্থিত সুপ্তশক্তির স্বভাবজনিত বিস্ফোরণের প্রথম শব্দই ‘আল্লাহু’ বা ‘ওঁ’ নামে খ্যাত। 

আদি পর্বে এই ‘অ-উ-ম’ নাদ পরাশব্দ নামে পরিচিত। অর্থাৎ প্রাথমিক বিস্ফোরণাবেগ জনিত নাম যা ‘SUPERSONIC’ শব্দকেও হার মানিয়েছে। এই শব্দ শোনা যায় না। এই শব্দের সাথে একাত্ম হতে হয়। দ্বিতীয় স্তরের শব্দের নাম ‘পশ্যন্তি’। এ শব্দ বা FREQUENCY শ্রুতিগ্রাহ্য নয়। আলো আকারে দৃষ্ট। যাকেই বলা হয়েছে বিন্দু। তৃতীয় পর্যায়ে এই শব্দ ‘মধ্যমা’ নামে পরিচিত। সুক্ষ্ম শ্রুতি হলে দেহ আকাশের মধ্যম স্তরে নিজের চেতনাকে তোলা গেলে যে শব্দ শোনা যায়, সেই শব্দই ‘অ-উ-ম’ বা ‘আল্লাহু’ হিসাবে সাধকের সুক্ষ্ম কর্ণে শ্রুত হয়। শেষ শব্দ স্থুল শব্দ। যার নাম ‘বৈখরী’ যা স্থুল কর্ণে শোনা যায়। 

‘আল্লাহু’ বা ‘ওঁ’ শব্দের এই চারিটি পর্যায়কে জগত প্রকাশে ‘ASTRO PHYSICS’ এর চারিটি অধ্যায় যথাঃ - (A) HADRONIC ERA (B) LEPTONIC ERA (C) RADIATIVE ERA এবং (D)STELLAR ERA এর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। HADRONIC ERA তে পদার্থের মৌল উপাদান ‘STRONG INTERRACTION’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। LEPTONIC ERA তে নিয়ন্ত্রক শক্তি ELECTRON ও POSITRON। 

এখানে শক্তি দুটি জ্যোতির সঙ্গে সমতালে (EQUILIBRIUM) থাকে। RADIATIVE ERA তে প্রাধান্য থাকে রশ্মি বিকিরণের (বিন্দু)। STELLAR ERA তে PROTON ও ELECTRON যুক্ত হয়ে হাইড্রোজেন অণু তৈরি করে। 

সাধকজনদের সৎ+চিৎ+বিন্দু ও আনন্দকেও এই চার পর্যায়কে তিনটি দ্বারা অর্থাৎ HADRONIC ERA কে (প্রায় সৎ) LEPTONIC ERA কে (চিৎ) ও RADIATIVE ERA কে (বিন্দু বা আনন্দ) দ্বারা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শূন্যকে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি দিয়ে ভাবতে হবেঃ - “তবু শূন্য শূন্য নয়,ব্যাথাময় অগ্নিবাষ্পে পূর্ণ সে গগন” ইত্যাদি। বিজ্ঞানের ‘FIELD’ তত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের এই ধারণাকে সমর্থন করে। সেখানে দেখা যায় যে, শুন্যে চার্জ তৈরি হলে তার চতুর্দিকে শূন্য বেঁকে যায়। জগত সৃষ্টির এই যে ধারা, তা জগতের প্রতিটি অণু পরমাণুর মধ্যেই সুপ্ত রয়েছে জীবে অজীবে সর্বত্র। এইজন্য অনুর একটি ফটোগ্রাফ দেখলে জগতের অনুকৃতি তাতে লক্ষ্য করা যায়। চিত্রটি নিম্নরুপঃ 


চলবে............

ধ্যানে দেহ জগত দর্শনঃ - পর্ব ৬

(পুর্বপ্রকাশের পর হতে) 

“শব্দে সৃষ্টি – শব্দ লয় --------------------- শব্দে হয় জগৎময়”।

ধ্যানরত অবস্থায় যে মানুষটাকে ‘মানুষগুরু’ রূপে বিশ্বাস করা যায় সেই মহামানুষটিকে ছবি আকারে সামনে এনে বসিয়ে ধ্যানস্থ হতে হবে। ক্রমে সেই মহামানবের অস্পষ্ট ছবিটি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকবে এবং আলো ও শব্দ আকারে উনি সংযোগে আসবেন। আর তখনই দেহের দ্বার উদঘাটন হতে থাকবে এবং ত্রিনয়ন অর্থাৎ সুক্ষ্ম শ্রবণ ও সুক্ষ্ম দৃষ্টি চেতনা ও অনুভুতির মাধ্যমে অনুভবে আসতে শুরু করবে। 

‘বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব’ই হোক বা ‘STEADY STATE’ তত্ত্বই হোক কিংবা ভারতীয় ‘তন্ত্র তত্ত্ব’ হোক, কেন্দ্র থেকে জগতের যেভাবে উদ্ভব হয়, তার প্রথম দিকে থাকে সুক্ষ্ম অবস্থায়। যতই তা কেন্দ্র থেকে দুরে সরে আসে ততই পায় স্থুলাবস্থা। এই সুক্ষ্মাবস্থা ও স্থুলাবস্থা হয় বিস্ফোরণজনিত তরঙ্গ বা FREQUENCY এর তারতম্য অনুযায়ী। 

FREQUENCY তারতম্য অনুযায়ী যে এক-এক অবস্থা হয় রঙের তারতম্যই তা চমৎকারভাবে প্রকাশ করে। শব্দের শ্রেণীবিভাগেও এর স্বপক্ষেই প্রমান দেয়। রঙের ক্ষেত্রে লাল, হলুদ, সাদা, নীল, বেগুনী ইত্যাদি রঙ বস্তুত FREQUENCY এর তারতম্য হিসাবে শব্দ ও FREQUENCY এর তারতম্য হিসাবে সুক্ষ্ম বা স্থুল হয়। সবচেয়ে বেশি FREQUENCY এর আলো যেমন স্থুল চোখে অদৃশ্য, তেমন সবচেয়ে বেশী বা কম FREQUENCY এর শব্দও তেমনি স্থুল কর্ণে অশ্রুত। এ থেকে SUPERSONIC ও SUBSONIC শব্দতত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে। 

স্থুল যন্ত্রে যে আলো ধরা পড়ে না, সুক্ষ্ম যন্ত্রে সে আলো ধরা পড়ে। তেমনি স্থুল যন্ত্রে যে শব্দ ধরা পড়ে না, সুক্ষ্ম যন্ত্রে সে শব্দ ধরা পড়ে। অনুরূপভাবে স্থুল দৃষ্টিতে যা দেখা যায় না, সুক্ষ্ম দৃষ্টি হলে তা দেখা যায়। বরং এই সুক্ষ্ম দৃষ্টি বা শ্রুতি মানুষের মধ্যে আসা কিভাবে সম্ভব? তা দেহতত্ত্ব বিশ্লেষণ করার সময় বুঝাচ্ছি। এখন ‘তন্ত্র তত্ত্বে’ জগতের সুক্ষ্মতা ও স্থুলতা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রথম দিকের বৃত্ত গুলিতে সুক্ষ্ম অবস্থা থাকে। অণু সৃষ্টি হয়ে সে সুক্ষ্মতা স্থুলতা প্রাপ্ত না হলে স্থুল চোখে কিছু ধরা পড়ে না। কিন্তু সুক্ষ্ম যন্ত্রে সেই সুক্ষ্মতা ধরা পড়ে। 

যেমন মানুষের দেহের উপর সুক্ষ্ম নানা বর্ণের যে আলো আছে, স্থুল চোখে তা ধরা পড়ে না। কিন্তু বৈজ্ঞানিকেরা এক ধরনের ফটো তুলে সেই আলো ধরে ফেলেছেন। এই ফটোগ্রাফি ‘কিরিলিয়ান’ বা ‘কারলিয়ান’ ফটোগ্রাফি নামে পরিচিত। এই কারলিয়ান ফটোগ্রাফির মত জগতেরও প্রাথমিক বৃত্ত পর্যায়গুলি সুক্ষ্ম। প্রান্তভাগের বৃত্তই একমাত্র স্থুল। বীজের মধ্যে মহীরুহের মত এই সুক্ষ্ম পর্যায়ে দেহ জগতের ও বিশ্ব জগতের উপাদান লুকিয়ে থাকে। জগতের সুক্ষ্ম ও স্থুল পর্যায় এই ধরনেরঃ



 চলবে............

বুধবার, ২ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শনঃ -পর্ব ৫

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে) 

শূন্য শক্তি – শব্দ সৃষ্টি – মানব কৃষ্টি 
 _______________________ 

এই ‘STEADY STATE THEORY’কেই স্বীকার করে নিতে হবে। কারন এর পক্ষে এসে দাঁড়ায় ‘বিন্দু তত্ত্ব’। যে সাধক ‘বিন্দু’র ধ্যান করেন তিনি ‘বিন্দু’র অন্তঃস্থিত শূন্যতায় চেতনাকে নিস্তরঙ্গ না করা পর্যন্ত অনবরত চোখের সামনে এই বিন্দু অথবা জ্যোতি দেখতে পান এবং আমাদেরও এই বিন্দুর ধ্যান করতে হবে। এই ‘বিন্দু’ আর কিছুই নয় শূন্যস্থিত সুপ্তশক্তির স্বভাবে বিস্ফোরিত হওয়া জনিত তেজদীপ্তি, যা নূরের বা জ্যোতির্ময় ফুঁৎকার দিয়ে আল্লাহ্‌ মানবদেহে সুন্দরভাবে ধারন করেছেন। যা কুণ্ডলিনীতে পাথর আকারে ধারন করে আছে এবং ধ্যানের মাধ্যমে এই বিন্দুকে (জ্যোতির্ময় বাতাস) বিস্ফোরিত করে গলিত পারদ আকারে শূন্যতায় পৌঁছাইয়া দিতে হবে। কারন আমরা জানি যে, বিস্ফোরণ হলেই আলো ফুটে ওঠে। এই বিন্দু সেই বিস্ফোরণজনিত জ্যোতির্ময় আলো অথবা নূর। 

ধ্যানে একে এত ছোট দেখা যায় এই কারণে যে, বিন্দু থেকে বহু দুরে সাধক অবস্থান করেন। কিন্তু মুলত এই বিন্দু অনেক বড়। ছোট দেখা যায় এই কারণে যে, আমরা এর কেন্দ্র থেকে অনেক দুরে থাকি। যেমন সূর্য অনেক বড় হলেও তাকে ছোট দেখি। কারণ তার থেকে আমরা অনেক দুরে বাস করি (EIGHT LIGHT MINUTES DISTANCE) কিন্তু কেউ যদি সূর্যের বৃত্তের মধ্যে প্রবেশ করেন, তাহলে আর সূর্য দেখবেন না। দেখবেন শুধু আলো বা জ্যোতি। সাধকও যদি তার চেতনাকে বিন্দু পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে বিন্দু দেখেন না। দেখেন শুধু জ্যোতি, জ্যোতি আর জ্যোতি এবং আরও এগোলে বিন্দুস্থিত শুন্যতার মধ্যে সমস্ত চেতনা হারিয়ে ফেলেন। 

ঘটনাটি কিভাবে ঘটে? এজন্য দেহতত্ত্ব আলোচনা প্রসঙ্গে তা বুঝানোর চেষ্টা করছি মাত্র। যিনি সাধক ধ্যানে বসেন তিনি চোখ বন্ধ করে মনটা শুধু কপালের দিকে মনোনিবেশ করে দুনিয়ার সব চিন্তাকে মুছে ফেলে একমনা হয়ে এক বিন্দুর দিকে খেয়াল করে দেহের সমস্ত চেতনা দিয়ে জ্যোতির্ময় ঐ বিন্দুকে মনস্থির করবেন। এটা একদিনে সম্ভব নয়। ধীর স্থিরভাবে ‘পদ্ম আসন’ অথবা ‘যোগ আসন’ অবস্থায় বসবেন। ধ্যানরত অবস্থায় নিজের ছবি, মায়ের ছবি অথবা পৃথিবীতে সবচেয়ে যে মানুষটিকে ভালোবাসেন তার ছবি মনের চোখে কপালে নিয়ে এসে ধ্যানে মগ্ন হতে হবে অথবা বিন্দুকে স্থিত রাখতে হবে। কারণ এই বিন্দুই আপনাকে সিন্ধুতে নিয়ে যাবে। বর্তমানে সাধক ও বিন্দুর অবস্থান কি ধরনের – ডায়াগ্রাম এঁকে তা দেখান হলঃ 



চলবে............

মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শনঃ - পর্ব-৪

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)


এই ‘বিগ ব্যাঙ’ তত্ত্ব অনুসারে, বিস্ফোরিত গোলাকার জগত বিজ্ঞানেরই আরেক নিয়ম ‘কোয়ান্টাম তত্ত্ব’ অনুসারে ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হচ্ছে। যতদিন বিস্ফোরিত জনিত এই আবেগ থাকবে,ততদিন কেন্দ্র থেকে জগতের বৃত্তমণ্ডল ক্রমশই দুরে সরে যাবে। কিন্তু বিস্ফোরণজনিত বেগ কমে এলেই যখন উল্টা টান পড়বে তখন প্রচণ্ড গতিতে ছড়িয়ে পড়া বিশ্বজগতের গ্রহ-নক্ষত্র, উল্কাপিণ্ড, চাঁদ-সূর্য ইত্যাদি েন্দ্রের দিকে ধাবমান হবে। মুহূর্তের মধ্যে প্রলয় ঘটে যাবে ভীষণ আকারে।
বস্তুজগত ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। কিন্তু সবেগে কেন্দ্রে গিয়ে জড় হয়ে অভিকর্ষের টানে যখন তা বেশি রকম ঘনীভুত হতে থাকবে, তখন আবার হবে কম্প্রেশন। ফলে সেই প্রচণ্ড চাপে কেন্দ্র উত্তপ্ত হয়ে আবার নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটাবে। আবার জগত সৃষ্টি হবে। এটাকে বলা হয় ‘সংস্কারের অভিঘাত’। সংস্কার অর্থাৎ বস্তুজগতের সুক্ষ্ম উপাদান কেন্দ্রীভূত হয়ে আবার ইচ্ছার উত্তাপে বিস্ফোরিত হয়ে নতুন জগত সৃষ্টি করবে।
কিন্তু ‘বিগ ব্যাঙ’ তত্ত্ব দুটি কারনে এখন অস্বীকৃত হচ্ছে। একটি হল এই - যদি কেন্দ্রস্থিত কোন ঘনীভূত বস্তুকণা কম্প্রেশন জনিত তাপে বিস্ফোরিত হয় এবং কেন্দ্র থেকে ক্রমশ দুরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রের যে শূন্যতা তার পরিধি ক্রমশ বাড়তে থাকবে। কিন্তু সেরকমটি ঘটছে না বলে বিজ্ঞানীরা প্রমান পেয়েছেন। তাছাড়া ইদানিংকালে সমীক্ষা করে দেখা গেছে যে, কেন্দ্রীভূত কোন বস্তুকণা সমুহ (Masses) ছাড়াই শূন্যের বুকে বিস্ফোরণ হতে পারে। যদি বস্তুপুঞ্জ থেকে থাকে এবং  তা এত ক্ষুদ্র যে প্রায় অদৃশ্য। এই বস্তুকণা এত ক্ষুদ্র মাত্রায় যে, বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়ঃ  ‘SEEMINGLY INVISIBLE MATTER’তাছাড়া বিজ্ঞান এখন মনে করে যে, নির্ভেজাল দেশ কাল থেকেই জগত আবির্ভূত হয়েছে। সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ‘VACUUM FLUCTUATION’ থেকে এসেছে। এতে তেজের পরিমান যথার্থই শূন্য। শূন্যের মধ্যে অতি ক্ষুদ্র বৃত্তাকারে থাকা শক্তি স্বভাব গুনে নড়ে উঠে জগত সৃষ্টি করে। আবার স্বভাবগুনেই লয় প্রাপ্ত হয়। মহাশূন্যের বুকে অনবরত খেলা চলছে। তাছাড়া ‘VACUUM FLUCTUATION IN QUANTUM FIELD’ তত্ত্ব একথাই বলে।
ফলে নতুন এক তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে, যাকে বলে ‘STEADY STATE THEORY’তত্ত্বের মতে, বিশেষ কেন্দ্র অনবরতই সৃষ্টি হচ্ছে। অনবরতই তা ছড়িয়ে পড়ছে, এজন্য সম্প্রসারণশীল জগতে কেন্দ্র ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে না।
             












চলবে............  

সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগৎ দর্শনঃ - পর্ব-৩

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)


মানব দেহতত্ত্ব বুঝতে হলে আগে বিশ্বতত্ত্ব বা জগৎতত্ত্ব জানা প্রয়োজন। যেভাবে জগৎ সৃষ্টি হয়েছে ঠিক সেই ভাবেই মানুষের দেহ সৃষ্টি হয়েছে। সারা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে যে ভাবে আল্লাহ্‌ তালা যা যা সৃষ্টি করেছেন, মানব দেহের মধ্যেও অনুরূপ ভাবে সমস্ত কিছু দিয়ে দিয়েছেন। বিশ্ব জগতে আকাশ, বাতাস, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, চাঁদ, উল্কা পিণ্ড, তারা, আগুন, পানি, মাটি, বাতাস, পাহাড়-পর্বত সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু আছে - একটা মানব দেহও পরিপূর্ণভাবে একই রুপে সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিশ্ব জগতকে বলা হয় বড় জগত ( বিগ কমস বা আলমে কবির ) আর মানবদেহকে বলা হয় ছোট জগত ( লিটিল কমস বা আলমে ছগিরা ) । শুধু মানুষ কেন জন্তু-জানোয়ার, কীটপতঙ্গ, জড়-অজড় সবাই এই একই পদ্ধতিতে সৃষ্ট। আল্লাহ্‌ তালা কোরআনে ঘোষণা দেন “আমি বিজ্ঞানময়”।

বিজ্ঞান জগত উৎপত্তির বিশেষ স্বরূপ কি? সে বিষয়ে মানুষ আজও ওয়াকিবহাল নয়। এই নিয়ে আজকাল দুটি অভিমত খুবই জোরদার- যেমন ‘বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব’ ও ‘Steady State’ তত্ত্ব। 

বিগ ব্যাঙ (Big Bang) তত্ত্বের মূল কথাঃ দেশে (Space) কোথাও একত্রে ঘনীভূত হয়ে থাকা বস্তুকণা ছিল (Masses)। সম্ভবত সেই বস্তুকণাতে অতিরিক্ত সঙ্কোচনের ফলে কেন্দ্রে উত্তাপের সৃষ্টি হয় অর্থাৎ ঘনীভূত বস্তুকণার মধ্যে কম্প্রেশনের ফলে উত্তাপ সৃষ্টি হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণের ফলে কেন্দ্র থেকে বস্তুকণাগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়ে গোলাকার ভাবে। এইভাবেই গোলাকার জগতের সৃষ্টি হয়েছে। একটা কেন্দ্রে সেই বিস্ফোরণের ফলে বিস্ফোরণ জনিত বেগের ফলে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে এর স্বপক্ষে প্রমান মেলে যদি জগতের গতি-প্রকৃতি লক্ষ করা যায়। কারণ বর্তমানে প্রমানিত হয়েছে যে, কোন এক বিশেষ কেন্দ্র থেকে বস্তু জগত ক্রমশ দুরে সরে যাচ্ছে। সেই সরে যাওয়া গতিও প্রচণ্ড।  প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার মাইল। বস্তু জগত এই ক্রমশ ব্যপ্তির জন্য কেন্দ্র এবং পরস্পর থেকে যে ভাবে সরে যাচ্ছে তা একটি সুন্দর উদাহরন দিয়ে বোঝানর চেষ্টা করেছেন বিজ্ঞানীরা। যেমন একটা ব্লাডার।  ব্লাডারের গায়ে অনেক গুলি ফুটকি দিয়া তাকে ফুলালে যেমন ফুটকি গুলি কেন্দ্র ও পরস্পরের কাছ থেকে দুরে সরে যায়, জগতও তেমনি কেন্দ্র থেকে ক্রমশ দুরে সরে যাচ্ছে। ফুটকিগুলি যেমন পরস্পর পরস্পরের থেকে সরে যায়, তেমনি জগতের গ্রহ নক্ষত্রও সরে যাচ্ছে। চিত্রটি নিম্নরূপ......




  
চলবে.........

রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগৎ দর্শনঃ - পর্ব ২

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)


আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন মানুষকে সৃষ্টি করে বলেন “মানুষ আমার রহস্য”। এই মানুষকে নিয়ে যত আমার লীলা। এই লীলাতেই আমি বাস করি। আমি সৃষ্টি করি মানুষকে বারাম খানায় বসে (Uterus অথবা মাতৃ গর্ভকে বারাম খানা বলা হয়) এই মাতৃগর্ভ অথবা বারামখানা পবিত্র স্থান।
আমাদের পিতা-মাতার আনন্দময়ী প্রেম-ভালবাসার যত্নের ফসল আমরা মানব, শুক্রকিট ডিম্বাণুর প্রক্রিয়ায় আমরা সৃষ্টি। যখন আমরা মাতৃগর্ভে রক্ত পিণ্ড হয়ে আসি, তখন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে একটা নূরের ফুঁৎকার দেন এবং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন জ্যোতির্ময় ফুঁৎকার দিয়ে বারাম খানায় বসে আমাদের লালন পালন করতে শুরু করেন। তখন আমরা মাংস পিণ্ড রূপ ধারন করি এবং পরিপূর্ণ একটা মানুষ অবয়বে সৃষ্টিতে আসি, অনেক আদর করে উনি আমাদের অবয়বকে উনার শিল্পমনা দিয়ে যত্ন করে আমদের অবয়বের হাতের যায়গায় হাত, চোখের যায়গায় চোখ, সমস্ত ইন্দ্রিয় গুলিকে উনি সুন্দর অবস্তায় অবস্থান করে দেন। আর দেহের ভিতর যকৃত, প্লীহা, হৃদপিণ্ড - এইভাবে সমস্ত দেহ যন্ত্র সাজিয়ে দেন। তখন আমি পরিপূর্ণভাবে একটি মানব আকৃতিতে গঠনপ্রাপ্ত হই। যখন উনি উনার নূরের ফুঁৎকারটা দেন তখন থেকে শুরু হয় আমাদের দেহের গঠন প্রণালী। এই ফুঁৎকার মাথার তালুর থেকে এসে ঘাড়ের পিছন থেকে একটি রগ নালীর ভিতর দিয়ে মলদ্বার এবং জলদ্বার এর মাঝখানে একটা গর্ত আছে, সেই গর্তে এসে জ্যোতির্ময় নূরটি অবস্থান নেয়। আর এই গর্তের নামই “কুণ্ডলিনী”


উনি আমাদের দেহের জীবাত্মা হয়ে আছেন। (ফ্যানের সুইচ যেমন অন করলে পাখা ঘোরা শুরু করে, তেমনি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন যখন ঐ নূরের ফুঁৎকারটা মানব দেহে প্রবেশ করান তখন থেকেই আমাদের দেহের রক্ত-সঞ্চলন, কোষ সঞ্চলন, হৃদস্পন্দন শুরু হয়। এইভাবে আল্লাহ্‌ পালনকর্তা হয়ে লালন পালন শুরু করেন।


সৃষ্টিতে এসে মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে ততই কুণ্ডলিনীর গর্তের ঐ নূরের ফুঁৎকারটা পাথর আকার ধারন করতে থাকে। এই ফুঁৎকারটি পাথর আকার থেকে কোমল আকারে ধারন করাতে আমাদের কি করতে হবে???? ধ্যান ধ্যান ধ্যান............ 


চলবে.........