পৃষ্ঠাসমূহ

সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শন- পর্ব ২২

লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে সেই বিন্দু থেকে অজস্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরমাণু সদৃশ ফুলকি বেরিয়ে আসে। আসলে এই বিন্দু হল আত্মজগতের জ্যোতি সমুদ্রে শতদল পদ্মের মত। জ্যোতি সমুদ্রে চৈতন্য সত্তাকে ছড়িয়ে দিয়ে যে সাধক এই বিন্দু নির্গত পরমাণু কনাগুলি দেখতে পান তিনি অপার আনন্দে মুগ্ধ হন। এই বিন্দু জ্যোতি কণাই শতদল অনন্তদল পদ্মের মধু স্বরূপ। সেই অলৌকিক মধুর দৃশ্য দেখে বিহ্বল হওয়ার অর্থ হল- শতদল পদ্মের মধু পান করা।

রবীন্দ্রনাথের আরেকটি গানের কলি " কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়, জয় অজানার জয়।" এও এক অদ্ভুত হেয়ালী ভরা গান। এ গান সম্পূর্ণ মরমিয়া, অদ্ভুত এক তন্ময় অবস্থা থেকে এ বোধ আসে অর্থাৎ TRANCE থেকে। দেহতত্ত্বে ষষ্ঠ চক্রের কথা বলেছি। এই ষষ্ঠ চক্র ভেদ করে সাধক যখন বিন্দুর জ্যোতির্মণ্ডল পার হন এবং চৈতন্যলোকের স্বচ্ছতা অতিক্রম করতে যান,তখন কেন্দ্রস্থিত শুন্যতা সমস্ত বোধ লুপ্ত করে দিয়ে অদ্ভুত এক নির্বিকল্প সমাধির মধ্যে টেনে নিয়ে যেতে চায়। দেহতত্ত্বের এই পর্যায় পর্যন্ত সাধকের এক সছেতন প্রয়াস থাকে অর্থাৎ তাঁর সুক্ষ্মা অহংতত্ত্ব এই পর্যন্ত কাজ করে। কিন্তু এরপর শুন্যতার টানে তাঁর বিচারবোধ হারিয়ে যেতে চায় তখনই সুক্ষ্মা অহংবোধ সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। পাছে তাঁর ব্যাক্তি সত্ত্বা হারিয়ে যায় এই ভয়ে সে নিঃশেষে নিজেকে সেই মহাশূন্যের টানের কাছে ছেড়ে দিতে পারেনা আবার ব্যাক্তি চেতনার ভিতর ফিরে আসে। 

এই অবস্থাকে 'মোক্ষভীতি' নাম দেওয়া হয়েছে। এজন্যই ব্রহ্মন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে ব্রহ্মন হলেন 'মহদ্ভয়ম' অর্থাৎ ব্রহ্মন হলেন বিরাট ভয়ের কারণ। কিন্তু ব্রহ্মন কাউকে ভয় করেন না। ব্রহ্মন ভয় করবেন কি? তাঁর তো কোন বোধই নেই। তিনি সমস্ত কিছু আত্মস্থ করে নির্বিকল্প ও নির্গুণ হয় আছেন। বস্তুত নির্গুণ হয়ে আছেন ব্রহ্মন নয় পরব্রহ্মন, ব্রহ্মন হলেন গতিশীল-EXPANDING. বৃ = To Grow থেকে বৃহমান = স্ফীত হওয়া ব্রহ্মন। এই নির্গুণ অবস্থায় ব্যক্তিসত্ত্বার সমস্ত বোধকে ছেড়ে দেওয়া সত্যি সত্যি বহুজনের কাছেই ভয়ের হয়ে ওঠে।

 চলবে...............

মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শন - পর্ব ২১

 (পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মানব জীবের জড় প্যাঁচ খুলে সে যখন অন্তরস্থ জ্যোতিতে প্রবেশ করে,বিশ্বও বিপরীত দিকে তার প্যাঁচগুলি খুলে তার অন্তরঃস্থ জ্যোতি প্রকাশ করে। সুক্ষ্মতম ব্যবধানের মধ্যে দিয়ে এক জ্যোতি অপর জ্যোতির সঙ্গে মিশে যায়। যেমনঃ কাঁচের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে। ভগবত গীতার এই শ্লোকটির ভাবও যারা আত্মতত্ত্ব ও জগততত্ত্ব জানেন না, তাদের পক্ষে ভাষ্য পড়েও কোনদিন প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। সঙ্গে একটু বিজ্ঞান পরিচয় থাকাও প্রয়োজন। ভগবত গীতায় জগতের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে এইভাবেঃ- 

“এই সংসার রূপ মায়াময় বৃক্ষের মুল (কারণ) উর্ধ্বে মায়াশক্তি বিশিষ্ট ব্রহ্মে হিরন্য গর্ভাদি শাখা নিম্ন দিক। কর্ম কাণ্ডরূপ বেদসমুহ ইহার কাণ্ড।” অর্থাৎ সংসার রূপ জগত বৃক্ষের মুল উর্ধ্বে। শাখা প্রশাখা,কাণ্ড ইত্যাদি নিচের দিকে। 

যোগদর্শনজাত গীতার এই জগত বর্ণনা যে কতটা সত্য অধুনা ASTRO PHYSICS ও তা অনুমোদন করেছে। কারণ ASTROPHYSICS এর ‘BIG BANG’ তত্ত্ব বা ‘STEADY STATE’ তত্ত্ব এ কথাই বলে যে, কোন কেন্দ্রস্থিত বস্তুকনা সমূহে শক্তির বিস্ফোরণের ফলেই গোলাকার জগতে সৃষ্টি। এই শক্তি ঘূর্ণায়মান হবার জন্য কিছুটা ‘ELLIPTICAL’ বা ‘OVAL’ মুলত গোলাকৃতি। যেখান থেকে জগত বিস্ফরিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে সেটাই তার কেন্দ্র। ছবিটি দাঁড়ায় এরকমঃ



এই গোলাকার জগতের যেদিক থেকেই কেন্দ্রের অভিমুখে যাওয়া যাক না কেন, কেন্দ্রকে উর্ধ্বমুখী মনে হবে। সুতরাং জগত (সম্প্রসারনশীল গোলক) এর মুল উর্ধ্বে ও ডালপালা অর্থাৎ সুক্ষ্মাংশ থেকে স্থুল অংশ নিচের দিকে। 

বস্তুবিজ্ঞান, আত্মজ্ঞান এবং অন্তর্জগতের স্বরূপবোধ হলে তবেই এই শ্লোকটি ব্যাখ্যা করা সম্ভবঃ “চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করবো কি?” গানটি বরং ভগবতগীতার উপরক্ত শ্লোকটি থেকেও দুরহ। কারণ দেহের অভ্যন্তরে কুল কুণ্ডলিনীকে জাগ্রত করে উর্ধ্বপর্যায়ে নিয়ে যেতে না পারলেও গানের অন্তঃর্নিহিত রহস্য কারও পক্ষে ভেদ করা সম্ভব নয়। দেহতত্ত্ব অংশে মুলাধারস্থ শক্তির উর্ধ্বগতির ফলে অন্তর্দৃষ্টিতে কিভাবে নানা রঙের খেলা দেখা যায়,  সেটা পুর্বেই ব্যক্ত করেছি। 

প্রকৃতপক্ষে অন্তরসত্ত্বা রীতিমত উজ্বল হয়ে ওঠে চেতনা কে ‘মনিপুর’চক্র অবধি ওঠালেই অনাহত চক্রের নীল আকাশে চেতনা উঠলে প্রায়শই মনে হয়, আকাশ যেন সহস্র চন্দ্র কিরণে উদ্ভাসিত। সেই স্নিগ্ধ জ্যোতি অন্তর আকাশের চন্দ্র কিরণ দেখিলে প্রাণে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করা যায়। 

গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় খোলা ছাদে দক্ষিণ সমুদ্রের ভেজা হাওয়া গায়ে লাগলে যেমন স্নিগ্ধ ও তৃপ্ত ভাব বোধ হয়, এই দর্শনজাত ভাব ও অনুভুতিও তেমনি। সাধক অন্তর আকাশে এই জ্যোৎস্নার লাবন্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। তন্ত্রে এই জন্য এই আকাশকে বলা হয়েছেঃ  ‘কোটি চন্দ্র সুশীলতম’ অর্থাৎ কোটি চন্দ্র যেন এই আকাশকে সুশীতল করে রেখেছে। এই চন্দ্র কিরন ধৌত আকাশ দেখেই দেহতত্ত্ব কবি মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন- “চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করবো কি।” ‘

আমরা ভেবে করবো কি?” কথার অর্থ হলঃ বিচার বিশ্লেষণী বুদ্ধিতে এর কারণ ধরা পড়বার নয়। রবীন্দ্রনাথের “এই জ্যোতি সমুদ্রে মাঝে যে শতদল পদ্মরাজে তারই মধুপান করেছি ধন্য আমি তাই।” এর ব্যাখ্যাও কোন বাংলার অধ্যাপক করবেন? 

উপরে যে দেহতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেছি তাতে কোথায় জ্যোতিসমুদ্র তার কথা বলেছি। আসল জ্যোতিসমুদ্র হল ‘বিন্দু’। কিন্তু এই জ্যোতিদর্শন আরম্ভ হয় ‘মনিপুর চক্র’ থেকেই। মনিপুর চক্র থেকে সহস্রারের মুল জ্যোতি পর্যায় পর্যন্ত ওঠাকালে জ্যোতির মধ্যভাগে সাধকরা “বিন্দুর” অস্তিত্ব দেখতে পান। 

চলবে............

সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগৎ দর্শনঃ পর্ব - ২০

''যে রত্ন প্রাণের শান্তি, তাতে কি আসে ক্লান্তি ? 
একবার বললে বাবা, নিভে যায় দোজখ হাবা ।" 

মুলাধারে এসে স্থির হয়ে যাওয়া এই শক্তিকে যদি সুহ্মা বায়ু দ্বারা উত্তপ্ত করা যায় তাহলে ব্যারোমিটারের রন্ধ্রপথে ঊর্ধ্বমুখী পারার মত এই শক্তি উল্টো গতিতে উৎপত্তি স্থান অর্থাৎ ব্রহ্মারন্ধ্রের দিকে ফিরে চলে। ব্রহ্মারন্ধ্রের শূন্যতার মধ্যে তাকে লুপ্ত করে নিতে পারলেই জগৎলীলা শেষ। জগৎ মানেই মায়ার বাঁধন,জন্ম-মৃত্যু এবং সুখ দুঃখের বৃত্তাকার খেলা। শূন্যে এই শক্তি লয়প্রাপ্ত হলেই জগত লীলারও শেষ অর্থাৎ মুক্তি । মুলত যে সব যোগী ব্রহ্মারন্ধ্রের এই শূন্য তাদের চেতনাকে নিয়ে যেতে পারেন- তাঁরা পরম এক প্রশান্তি বোধ করেন। এরপর জীবদেহে বেচে থাকলেও সুখ-দুঃখ কোনটাই তাদের উদ্বেলিত করতে পারে না। 

ব্রহ্মারন্ধ্রের শূন্যতাকে বলা হয় “পরমান্তন” বা “আন্তন”। সেখানে শক্তি লুপ্ত হওয়া মানে আত্মস্থ হওয়া । এই আত্মস্থ করাকেই বলে খেয়ে ফেলা। যিনি শক্তিকে এইভাবে আত্মস্থ করতে পারেন তিনি পরম প্রশান্তি প্রাপ্ত হন। কারন এই আত্মার স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে “ শান্তো ইয়মাত্মা” অর্থাৎ এই আত্মা অত্যন্ত শান্ত, নিবিড় নিদ্রায় যে প্রশান্তি অনুভব করা যায় এই প্রশান্তি সেই রকম। চঞ্চলা শক্তিকে এইভাবে আত্মস্থ করা গেলেই তাকে খেয়ে ফেলা হয়। সাধকের মূল লক্ষ্য এই শক্তিকে আত্মস্থ করা। সুতরাং গভীরতর এক ভাববোধ থেকেই রামপ্রসাদ সেন এই গানটি রচনা করেছেন। 

মীরার- “ জ্যোতি যে জ্যোতি মিলাও”- এ দেহতত্ত্বের গভীরতর পর্যায়ের গান। মুলাধার শক্তিকে যখন বিন্দুর জ্যোতির্মণ্ডলে নিয়ে যাওয়া যায় তখন মানুষের চেতনাতে সঙ্গস্কারের স্থুল বন্ধন এতটাই সূক্ষ্ম হয়ে যায় যে, জ্যোতিপূর্ণ সুক্ষাতম কাঁচের মত হয়ে যায় তা। বিন্দু পর্যায়ে পৌঁছালে সেই সূক্ষ্ম জ্যোতির্ময় কাঁচস্বরূপ জীবাত্মার আত্মসত্তার বিশ্বের বিন্দুসত্তার জ্যোতি এসে মিশে যায়। ব্যবধান থাকে অথচ তাকে একাত্মা বলে বোধ হয়। তখন দ্বৈতে থেকে অদ্বৈত এক মিলনের বর্ণনাতীত আনন্দ উপলব্ধি হয়। যারা প্রেমিক সাধক তাঁরা এই আনন্দ ত্যাগ করে নির্বিকল্প প্রশান্তির মধ্যে সকল বোধ হারিয়ে ফেলতে চান না, সাধক বা সাধিকা তখন কেবল সেই ভাবমূখে থাকতে চান। এই জন্যই মীরা নিজে স্থুলসত্ত্বার বহু আবরণ খুলে ফেলে আত্মজ্যোতির মধ্যে বিশ্বজ্যোতির অনুপ্রবেশ উপলব্ধি করে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেয়ে উঠেছিলেন- “জ্যোতি যে জ্যোতি মিলাও”। 

আত্ম ও বিশ্ব গঠনের দিক থেকে একই ধরনের। দুইই সুক্ষা থেকে স্থুলে এসেছে। দুইয়েরই সুক্ষা অংশ পরতে পরতে স্থুলতার আবরণে আবদ্ধ। কিন্তু দুইজনের অবস্থান ঘূর্ণনের দিক থেকে ঠিক বিপরীত মুখে, যেমন বিজ্ঞানে “ MATTER ও ANTI-MATTER”। MATTER এর চার্জ যদি POSITIVE হয় ANTI-MATTER এর চার্জ হয় NEGATIVE । MATTER যদি বায়ে ঘোরে ANTI-MATTER ঘোরে ডানে । জীবাত্মা ও বিশ্বের গতিও ঠিক সেইরকম । জীবাত্মা বা দিকে স্থুল আবরণের এক প্যাঁচ খুললে বিশ্বও ডান দিকে স্থুল আবরণের এক প্যাঁচ খুলে ফেলে । জীবাত্মা তার প্যাঁচ খুলে যখন আত্মস্থ জ্যোতিতে প্রবেশ করে বিশ্বও তখন তার প্যাঁচ খুলে নিজস্ব জ্যোতিতে প্রকাশ পেতে থাকে । তার উভয়ের শেষ প্যাঁচটুকু খুলে গেলে অন্তরস্থ দুই শূন্য এক হয়ে যায় । দ্বৈত অদ্বৈত হয়ে একাকার হয় । চিত্রটি নিম্নরুপঃ












 চলবে...............

শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শন- পর্ব ১৯

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে) 

“ এই সবই তো প্রহেলিকা,তবু মনে জোর আকাঙ্ক্ষা, 
সঙ্গে থাকো সর্বক্ষণ, তাই নমি অনুক্ষণ”। 

অন্তর্জগতের এই যে রহস্যময় ক্ষেত্র এটা শুধু রহস্যময় অনুভুতিই নয়, বাস্তব বিশ্লেষণী বুদ্ধিতেও এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। এ নিয়ে আজকাল রীতিমত রিসার্চ হচ্ছে প্যারাসাইকোলজী ডিপার্টমেন্টে। প্যারাসাইকোলজী বা অধিমনোবিজ্ঞানে একটি জিনিস ধরা পড়েছে যে, বহিরিন্দ্রিয় বন্ধ করলে মানসিক কার্যকলাপের ক্ষমতা বেড়ে যায়। মণি তখন ইন্দ্রিয়ের কাজগুলির দায়িত্ব গ্রহন করতে পারে। শুধু পারে তা নয়,এমন সব অদ্ভুত কাজ সে করতে পারে, যাকে বলা যায় অতিন্দ্রিয় দর্শন। 

প্যারাসাইকোলজীর ভাষায় E.S.P অর্থাৎ ‘EXTRA SENSORY PERCEPTION’। প্যারাসাইকোলজীতে সমীক্ষা করে দেখা গেছে যে, বহিরিন্দ্রিয় বন্ধ হলে অতিন্দ্রিয় দর্শনের ক্ষমতা বেড়ে যায়। চর্মচক্ষে না দেখা গেলেও অনেক কিছুই দৃষ্টিগোচর হয়। অদ্ভুত ধরনের এক টেলিপ্যাথিক ক্ষমতা জন্মে যায় মনের। কিন্তু কিভাবে এই ক্ষমতা জন্মে, কিভাবে এই অতিন্দ্রিয় দর্শন হয়, সে বিষয়ে এরা তেমন ওয়াকিবহাল হতে পারেন না। বহিরিন্দ্রিয় বন্ধ করে চোখ বুজে মনের মধ্যে যে ছবি তারা দেখেন, সে ছবি কোথায় কিভাবে প্রতিফলিত হয়,এ নিয়ে তারা তেমন বিচার বিশ্লেষণ করতে পারেননি। এই যোগ ধ্যানে পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে বিশ্লেষণ করে এর যথার্থ ব্যাখা দেওয়া যায়। 

এই অতিন্দ্রিয় দর্শন হয়ত দেহের ভিতরে যে স্বচ্ছ অবস্থা আছে সেই স্বচ্ছ দর্পণ থেকে হয়, যাকে লালন বাবা ‘আরশী নগর’ বলে উল্লেখ করেছেন। পশ্চিমী অধিমনোবিজ্ঞানে এই অতিন্দ্রিয় দর্শন সম্পর্কে সমীক্ষা করা হয় ‘টেলিপ্যাথির’ আকারে। যেমন একটি SOUND PROOF ঘরে কাউকে বসিয়ে দেওয়া হল- তাঁর চোখ এবং কান বন্ধ করে দেওয়া হল, পাশের ঘরে একজন কতগুলি ছবির উপর মনোনিবেশ করলেন। তিনি যে বিশেষ ছবিটির উপর মনোনিবেশ করলেন রুদ্ধকক্ষে চোখ কান বন্ধ অবস্থায় পরীক্ষার্থী ব্যক্তিটিকে দেখা গেল ঠিক সেই ছবিটির বর্ণনাই দিচ্ছেন। পরে যখন তাকে অনেকগুলি ছবি দেখানো হল তার মধ্যে থেকে ঠিক সেই ছবিটিই তিনি নির্ভুলভাবে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিলেন। এধরনের দর্শনকে প্যারাসাইকোলজীতে ‘টেলিপ্যাথি’ বলে অর্থাৎ একজনের চিন্তা তরঙ্গ আরেকজনের মস্তিষ্কে আঘাত করে অনুরূপ ছবি ফুটিয়ে তুলেছে। পশ্চিম জগত একে মনের একটি বিশেষ ক্ষমতা বলে ধরে নিয়েছে। মনের এই বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই আছে। তবে বিষয়ের দর্শন যে সবসময় যথাযথ হয়,তা নয়। অনেক সময় প্রতীকের মধ্য দিয়ে পরীক্ষার্থী নিরীক্ষামূলক বিষয়টিকে দেখতে পান, বস্তুত অতিন্দ্রিয় দর্শন কখনও কখনও প্রতীকের মধ্যে দিয়ে সেকথা বলে। ঐশ্বরিক জগতের ভাষা এই প্রতীকময়তা দিয়েই তৈরি, যেকথা পরে বলব। 

এবার আমরা রামপ্রসাদ সেনের গানটির যথার্থ স্বরূপ ব্যাখ্যা করছি যা তথাকথিত পণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষে বিশ্লেষণ দ্বারা ধরা সম্পূর্ণ অসম্ভব। রামপ্রসাদ লিখেছেন ‘এবার কালী তমায় খাবো।” বাহ্য অর্থে এতো একটি রাক্ষুসে ক্ষুধার পর্যায়ে পড়ে। এ যেন আফ্রিকার নরখাদক কোন কবির লেখা গান। অন্তর্জগতে যার প্রবেশাধিকার নেই এমন পশ্চিমী বিদ্যায় শিক্ষিত ব্যক্তির কাছে এই গানটি ‘NONSENSE VERSE’ এর চাইতেও Absurd প্রমানিত হতে পারে। কিন্তু দেহতত্ত্ব জ্ঞাত হবার পর এ গানের লাইনটির দিকে একটু যদি বিশ্লেষণী মানসিকতা নিয়ে তাকানো যায় তাহলে গভীরতর এক দর্শন এর মধ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করে। ‘মা কালী হলেন আদি শক্তি,যাকে বলে আদ্যাশক্তি PRIMAL ENERGY KINETIC IN NATURE’। শূন্যে সুপ্তাকারে স্থিত এই শক্তি স্বভাব গুনে নড়ে চড়ে ওঠা মাত্র সময় বা কালের (TIME)উদ্ভব হয়েছে। কালের জন্মদাত্রী বলেই তিনি ‘মা কালী’। এই শক্তিই গোলাকার ব্রহ্মাণ্ডরূপে জগত হয়েছেন। কিছুটা শক্তির ঘূর্ণনের ফলে ‘ELLIPTICAL’ কিংবা ‘OVAL’।মানুষের দেহের মধ্যে এই জগতের ক্ষুদ্র সংস্করণ কাজ করছে ব্রহ্মরন্ধ্র থেকে মুলাধার পর্যন্ত। চলবে............

শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শন - পর্ব ১৮

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে) 

“বলছ সব অগণন, কালে কি তা হবে পুরন ?
 তাইতো তব শত ধন্য, তুমি যে গো বিশ্ব বরেণ্য”...... 

এই মস্তিষ্ক স্নায়ু হইল তৃতীয় নয়ন অর্থাৎ অন্তর চক্ষু। অসীম নীলিম আকাশই হইল নজরুলের গানের উৎস – যখন তিনি লিখেছেনঃ 

“ভাবিস তুই ক্ষুদ্র কলেবর, ইহাতেই অসীম নীলাম্বর।” 

যে পর্যায়ে নীলাভ অনন্তবিস্তার আকাশে এই সব রহস্যময় দর্শন হয় তাকেই দেহতত্ত্বে অনাহত চক্র ( দেহের যে স্তরে শক্তি পৌঁছালে মানুষের চেতনাতে সুখ-দুঃখ বোধ থাকে না অর্থাৎ মানুষ সুখ-দুঃখ দ্বারা আহত হয় না।) বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আত্মমগ্নতা আরও তীব্র হলে জ্যোতির্ময় এক নীলাভ ব্যপ্তি চোখে পড়ে। এখানে নানা অলৌকিক দর্শন হয়। দেহতত্ত্বে এই পর্যায়কে বিশুদ্ধ চক্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রান্ত ভাগ থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রত্যাবর্তন কালে এই রঙ গুলি চোখে পড়ে। কারন সৃষ্টির কেন্দ্রে বিস্ফোরণ হলে ক্রম পর্যায়ে যতই বিশ্ব জগৎ কম উষ্ণ হতে থাকে, ততই শক্তি তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সির তারতম্য হেতু রঙের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ASTROPHYSICS এ তাই বলা হয়েছে বিশ্বের আদি পর্যায়ে দেশ (SPACE) প্রচণ্ড ভাবে আলোকিত ছিল। 

আত্মমগ্নতা আরও তীব্রতর হলে এমন এক পর্যায়ে যাওয়া যায় সেখানে আকস্মাৎ বিস্ফোরণে নানা রঙের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হতে থাকে। দেহতত্ত্বে এই পর্যায়ের নাম দেওয়া হয়েছে আজ্ঞাচক্র। এই আজ্ঞাচক্রই হল দেবী জগতে অর্থাৎ সপ্ততলে প্রবেশের ছাড়পত্র। নিম্ন ষট চক্রের সকল রঙ ও স্বচ্ছতার এখানে তন্মাত্র অভিনয় হয়ে থাকে। স্বচ্ছ আয়নায় ফুটে থাকা প্রতিবিম্বের মত নানা রহস্যময় দর্শন এখানে হয়। বিন্দুমণ্ডলে কোন দর্শন হয় না কিন্তু আরও ঊর্ধ্বে উঠলে শাশ্বত স্বচ্ছস্তরে অর্থাৎ চৈতন্যমণ্ডলে সমস্ত বিশ্বব্রক্ষ্মাণ্ডকেই ফুটে থাকতে দেখা যায়। মানুষ নিজেই ঈশ্বর তুল্য হয়। সে তখন বলতে চায় – “আমিই সেই”। অর্থাৎ আমার মধ্যেই সমগ্র বিশ্বব্রক্ষ্মাণ্ড প্রতিবিম্ব হয়ে আছে। এই দর্পণ সদৃশ জগৎ যা মানুষের নিজের মধ্যেই আছে। 

সাধনার অভাবে মানুষ তা দেখতে পায় না। রামপ্রসাদের সেই গানের মত – “মানব জীবন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলতো সোনা”। কর্ষণের অর্থাৎ কৃষ্টি বা চর্চার অভাবে মানুষ নিজের অভ্যন্তরের সত্যকে জানতে পারে না। যা আছে নিজের মধ্যে লুকিয়ে, তাকে পাবার জন্য বাইরে ঘুরে বেড়ায়। ইদানিংকালে বিজ্ঞানীরা মহাকাশ অভিযান করেন। এত কাছে সত্য লুকিয়ে আছে যে, সে খবরটাই তারা রাখেন না। এ জন্যই লালন বাবা লিখেছেন – “ঘরের কাছে আরশি নগর, সেথায় এক ঘর পড়শি বসত করে, আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”।

 চলবে....................................

বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ধ্যানে দেহ জগত দর্শন- পর্ব ১৭

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে) 

“প্রভু যদি সবই দেখেন, অন্যায় তবে করি কখন ? 
প্রভু বার্তা বহেন যিনি, তিনিই তো মাথার মনি”। 

এবার এই দেহতত্ত্বের ভিত্তিতে মরমিয়া গানগুলি ব্যাখ্যা করা যাক। মরমিয়া শব্দের ইংরেজি হলঃ ‘MYSTIC’- গ্রীক শব্দ ‘MYEN’ অর্থাৎ রুদ্ধ করা। বহিঃ ইন্দ্রিয় রুদ্ধ করা থেকে ‘MYSTIC’- মরমিয়া। যিনি ইন্দ্রিয়াতীত মর্ম দ্বারা বোধ করেন - শব্দের উৎপত্তি । মর্ম দ্বারা বোধ করার সময় মানুষের চেতনার মাত্রা (DIMENSION) বৃদ্ধি পায়। ফলে Astrophysicist Carl Sagan এর মতে, INSIDE TURNS OUT বা মানুষ নিজের মধ্যে অনন্ত বিশ্ব দেখতে পায়। যে গানের ধাঁধা তুলে প্রকৃতপক্ষে বর্তমান গ্রন্থে সাধক তাঁর অন্তঃধ্যানে লালন বাবার গানটি ব্যাখ্যা করেছেনঃ “বাড়ির কাছে আরশী নগর, সেথায় এক ঘর পড়শি বসত করে,আমি একদিনো না দেখিলাম তারে।” 

উপরের গানটির যদি দেহতত্ত্ব না জেনে বাক্যর্থ করা যায় - তাহলে অর্থ দাঁড়ায় বাড়ির কাছে অর্থাৎ যে আচ্ছাদনের নিচে আমরা বাস করি তাঁর কাছে আরশি নগর অর্থাৎ আয়না বা দর্পণ নগর আছে। সেই নগর আমরা দেখতে পাইনি। এই বাক্যার্থের কোন মুল্যই নেই। কিন্তু দেহতত্ত্ব সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এবং এ বিষয়ে ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকলে আধ্যাত্ম জগতের এক বিরাট রহস্যময় ক্ষেত্র ধরা পড়ে যায়। এর ভাবার্থ এই রকমঃ ঘর হল মানুষের দেহ - যে দেহের মধ্যে জীবাত্মা ও পরমাত্মা দুইই বাস করে। বাইরে থেকে দেখলে এই দেহ একটি স্থুল পদার্থের রূপরেখা মাত্র। কিন্তু চোখ বুঁজে নিজের মধ্যে মনোনিবেশ করলে দেখা যায়। এখানে নানা স্তরের বিস্তৃত পরিধির একটি স্বচ্ছ জগত। সেই স্বচ্ছতা স্বাধিষ্ঠান চক্র থেকেই ফুটতে আরম্ভ করে। কিন্তু নিচের দিকে সে বেশি রকম অস্বচ্ছ এবং উপরের দিকে ক্রমশঃ বেশি স্বচ্ছ। চৈতন্য মণ্ডলে সে স্বচ্ছতম। সেই স্বচ্ছতম একটি দর্পণের মত। যেখানে বহির্জগতের নানা দৃশ্য প্রতিবিম্বের মত ফুটে আছে। মুলাধারস্থ শক্তি দেহ পর্যায়ের যে স্তরে উঠে যে তরঙ্গ মণ্ডলে বিরাজ করে - সম পর্যায়ের তরঙ্গ মণ্ডলের সব ছবিই সেখানে প্রতিবিম্ব হয়। অর্থাৎ EQUAL WAVE LENGTH CASTS THE PICTURE OF EQUAL WAVE LENGTH অর্থাৎ টি.ভি তে যেরকমটি হয়ে থাকে সেরকম। 

স্বাধিষ্ঠান মণ্ডলের স্বচ্ছতায় যে ছবি ফুটে ওঠে তা অস্বচ্ছ। কারণ, এখানকার স্বচ্ছতা ধুলা জমা আয়নার মত। চৈতন্য শক্তি আরও উপরে উঠলে অর্থাৎ আত্ম মগ্নতা আরও বেশি গভীরে প্রবেশ করলে স্বচ্ছতার এক নতুন পর্যায় লক্ষ্য করা যায়। মনিপুর চক্র এই স্বচ্ছতা হালকা মেঘে ঢাকা নিদাগের মধ্যাহ্ন গগনের মত। আত্মমগ্নতা আরও গভীর হলে নিজের দেহের মধ্যে নীলাভ স্বচ্ছ এক আকাশ চোখে পড়ে। অনন্ত পরিধি এই নীলিম আকাশে নানা দৃশ্য চোখে পড়ে। চোখ বুঁজেও এসব কিছু দেখা যায় অর্থাৎ মস্তিস্ক স্নায়ুতে তরঙ্গের সামঞ্জস্যহেতু অনুরূপ সব ছবি ফুটে ওঠে। দেহের ভিতরে বহির্বিশ্বের অনন্ত আকাশ দেখা যায়। কুলকুণ্ডুলিনীর ঊর্ধ্বগতি হেতু মানুষের ‘DIMENSION’ বৃদ্ধির ফলে ত্রিমাত্রিক মানুষ যদি চতুর্মাত্রিক বা অধিক মাত্রা লাভ করে তবে নিজে ভেতরকে বাইরে দেখবে। বিজ্ঞানে বলা হয়েছে “If a fourth dimensional creature existed in our three dimensional universe it could also turn us inside out. There are several ways in which we can be turned inside out, the least pleasant would result in our VISCERA and internal organs being on the out side and the entire COSMOS- Glowing Intergalactic gas, Galaxies, Planets everything on the inside” চলবে..................

ধ্যানে দেহ জগত দর্শন- পর্ব ১৬

(পুর্বপ্রকাশের পর হতে)

“আশা তো পাওনা থোওনা 
জাতে আসে বঞ্চনা কল্পনা।” 

শক্তি যখন আরও এগিয়ে যায় তখন দেহভার আর থাকেই না। দেহ শূন্যে ভাসমান হয়, জিহ্বা নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করে- কুম্ভক হয়। পার্থিব জগত লুপ্ত হয়ে শুধু মাত্র স্বচ্ছ দর্পণতুল্য এক দেশ বিরাজ করে। সেই দর্পণে জগত ব্রহ্মাণ্ড প্রতিবিম্ব হিসাবে বিরাজ করে, ব্যক্তি সর্বদ্রষ্টা হন। ইচ্ছাশক্তি করায়ত্ত হয়। ইচ্ছামাত্র সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের ক্ষমতা জন্মে। শক্তি এই চিৎ পর্যায়ে পৌঁছাবার অনেক আগেই মানুষের মধ্যে আত্মিক শক্তি জন্মায়, যাকে ইংরাজি তে বলে ‘PSYCHIC POWER’ এই আত্মিক বলে বহু লোক রোগ নিরাময় ইত্যাদি করে থাকে। চিৎ পর্যায়ে স্থিত হলে মৃতকেও জীবন দান করা যায়,পঙ্গুকে গিরিলঙ্ঘন করানো যায় অর্থাৎ ইচ্ছাশক্তি করায়ত্ত হয়। কারন এই চিৎ পর্যায়ে থেকেই শক্তি আত্মপ্রকাশ করে- এইজন্য শক্তির নাম ‘চিন্ময়ী’ ও বটে। এর উপর শক্তি যখন আরও এগোয় তখন ক্রমশ বোধশক্তিও লোপ পায় এবং একসময় সবকিছুই হারিয়ে যায়। কোনকিছুই বোধের মধ্যে থাকে না। এই হল শুন্যস্থিত শক্তির জগৎরূপ,গতিশীল রূপ ত্যাগ করে পুনরায় শূন্যে সুপ্ত হওয়া- যাকে বলা হয় ‘সমাধি’-‘মরার আগে মরো’। 

শক্তিকে বিপরীত মুখে ফিরিয়ে নিয়ে এই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা যায় বলে আচারকে ‘বাম (বিপরীত) আচার’ বা ‘বামাচার’ নাম দেওয়া হয়েছে। 

বিশ্বজগৎ তখন তার। জ্যোতির্ময় ধোঁওয়ার মত যে মেঘরূপ পাল্টে যে ছবি এঁকে তাঁর সঙ্গে কথা বলে।সেই মেঘই বা কি? আধ্যাত্ম পুরুষেরা বলেন, ইশ্বরের বিভূতি। সত্যিই কি তাই? এই জ্যোতির্ময় বিন্দুমণ্ডলের ঊর্ধ্বে যখন স্বচ্ছ কাঁচের মত জগত ভেসে ওঠে,সাধক সেখানে তখন বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিবিম্ব লক্ষ্য করেন। আরও অবাক হন যখন নিবিড় নিদ্রার মত একটা গভীর প্রশান্তির মধ্যে কিছুক্ষণ হারিয়ে যান। ফিরে এসে দেহ মনকে মনে করেন স্নিগ্ধ, স্নিগ্ধ, স্নিগ্ধ। অপূর্ব এক ভালবাসায় তখন তাঁর সমগ্র চৈতন্যসত্ত্বা ভরে যায়। তখন সাধকের মনে হয়,’এই শেষ লাভটুকুই যথার্থ লাভ,আর সবই মিথ্যা’। 

সুখ,সম্পদ,নাম-যশ, ভোগ সবার চাইতে বড় হল প্রশান্তি। শোনা যায় ইশ্বর মানুষকে সবকিছু দিয়ে শুধু এই প্রশান্তিটুকু নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। নির্বিকার নীরবতায় সেখানে হয়ত ইশ্বরের কোলে বসে তাঁর সঙ্গে সেই প্রশান্তিটুকুই ভাগ করে নেন সাধক। 
(চলবে)