পৃষ্ঠাসমূহ

সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮

ইবনুল আরাবী ও হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) - ওয়াহদাতুল ওযুদ মতবাদ

ইবনুল আরাবীর ওয়াহদাতুল অযুদ মতবাদ ও হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) এর চিশতী উদ্যানে বর্ণিত কালাম এক ও অভিন্ন। যেমনঃ ইবনুল আরাবীর 'ওয়াহদাতুল অজুদ' মতবাদ অনুসারে, আল্লাহ বিশ্ব মাঝে ব্যাপ্ত আছেন। এই বিশ্ব জগৎ আল্লাহ-সত্তাময়। আল্লাহ ও বিশ্বে কোন ভেদ নাই। সমগ্র বিশ্বজগতই আল্লাহ এবং আল্লাহ.ই সমগ্র বিশ্ব জগত। 

আল্লাহ বিশ্বজগতে এবং বিশ্বজগত আল্লাহতে অবস্থিত বটে এবং সমস্ত বিশ্ব জগত আল্লাহ বটে কিন্তু সমগ্র অাল্লাহ বিশ্বজগৎ নয়। আল্লাহ বিশ্বজগতের অতিরিক্ত ও বর্হিভুত সত্তাও বটে। বিশ্বজগৎ ধারণা হিসাবে আল্লাহর জ্ঞান সত্তার মাঝে বর্তমান। আল্লাহ বিশ্বজগতের মাঝে নিজেকে প্রকাশ করেন। আল্লাহ এই বিশ্বজগতের অন্তর্ব্যাপী সত্তা হিসাবে মিশে থাকলেও আল্লাহ সমগ্র বিশ্বজগত নয়। তিনি বিশ্বজগতের অতিরিক্ত সত্তা।
সাধারণভাবে, ইবনুল আরাবীর 'ওয়াহদাতুল ওজুদ' মতবাদকে সর্বেশ্বরবাদ ও অদ্বৈতবাদ বলা হয় । এই মতবাদকে সর্বেশ্বরবাদ বলা যেতে পারে। তার মতবাদের মধ্যে আল্লাহর কয়েকটি রুপ হলোঃ -

ক. শুদ্ধ স্বরুপ বা অদৃশ্য আল্লাহ,
খ. আকার প্রাপ্ত শুদ্ধ স্বরুপ বা 'হকিকতে মুহম্ম দী, নুরে মুহম্ম দী, 'লগস' বা আদি প্রজ্ঞা রুপ,
গ. আয়ান অাস সাবিতা বা মুল আদর্শ আকার বা প্লেটোর ধারণারুপ,
ঘ. 'ওয়াহদাতুল ওযুদ' বা বিশ্বজগৎ রুপ, বিশ্বজগতই অাল্লাহ এবং আল্লাহই বিশ্বজগৎ এবং 'ইনসানুল কামিল বা পুর্ণমানব রুপ'।

পুর্ণ মানব তথা ইনসানুল কামিল ( পুর্ণমানব ) রুপেই আল্লাহর সমগ্র পরিপুর্ণ অভিব্যক্তি - তাঁর মধ্যে আল্লাহর সমগ্র গুণাবলী অবস্থিত। পুর্ণমানব ও আল্লাহ অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও ইবনুল আরাবী বলেন যে, "প্রকৃত সুফী আল্লাহর অতিবর্তিতা ও অন্তর্ব্যাপিতা উভয়েই বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মে আল্লাহকে বিভিন্নরুপে কল্পনা করা হয়েছে বা আল্লাহ বিভিন্নরুপে প্রকাশিত হয়েছেন। কিন্তু একজন সুফী বা অতীন্দ্রিয়বাদী তাঁকে সকল রুপের মধ্যেই দেখতে পান। ধর্মের মধ্যে আল্লাহ মানুষের পাপ পুণ্যের বিচারক হিসাবে চিত্রিত হয় কিন্তু একজন সুফীর অন্তরে  তিনি পরম প্রেমিকরুপে প্রকাশিত হন।"
সংক্ষেপে  এই হচ্ছে ইবনুল আরাবীর ওয়াহ্ দাতুল অযুদ মতবাদ বা সর্বশ্বেরবাদ ।

'যাহা কিছু সব তুমি, তুমি বিনা আমি নই।' 

অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ব জগতে যা কিছু দৃষ্টিগোচর হয়, সব কিছুই তিনি। 'আমি' নামক সত্তাটিও তিনি ব্যতীত নন। অর্থাৎ সকল অস্তিত্ব যদি তিনি থেকে সৃষ্ট হয়, তাহলে আমি নামক সত্তাটিও তারই সৃষ্ট বস্তু। মুলতঃ আল্লাহ সকল অস্তিত্বশীল বস্তুর সত্তা। সকল অস্তিত্বের মুল অস্তিত্ব। মানুষের অস্তিত্বের জন্য আল্লাহর অস্তিত্বের প্রয়োজন। অন্যদিকে আল্লাহর পুর্ণরুপে প্রকাশের জন্য মানুষের অস্তিত্বের প্রয়োজন। আল্লাহ নিজেকে পুর্ণ মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠরুপে প্রকাশ করেন।

পরক্ষণেই বলা হয়েছেঃ

উপহার দিব কি গো, কি আছে আমার নাথ 
তোমারইতো দেওয়া সব কোথায় কি পাব সই।

শব্দার্থঃ নাথ (বিশেষ্যপদ) স্বামী, রক্ষক, দীননাথ, প্রাণনাথ, নরনাথ। প্রভু, অধিপতি, জগন্নাথ।
বিশেষণপদঃ সনাথ, অস্বাধীন, পরাধীন।
সইঃ সখী এর কথ্যরুপ। সখা[বিশেষ্যপদ] বন্ধু, মিত্র, বয়স্য, সুহৃদ, সহচর।সখী [বিশেষ্যপদ] স্ত্রী, সখী।

বাস্তবিক জীবনে আমরা দেখিঃ আশেক (প্রেমিক পুরুষ) তার মাশুক (প্রেমাস্পদকে)-কে সন্তুষ্ট করার জন্য নানান প্রকার চেষ্টা তদবীর করে থাকেন। এর মধ্যে কোন কিছু উপহার দেয়া প্রেমাকর্ষণের এক পরম উৎকর্ষ বটে। ঠিক, তদ্রুপ সুফীবাদে, মহান জাত পাককে পরম প্রেমিকারুপে [এখানে সই রুপে ] কল্পনা করে তাঁকে এক অতীন্দ্রিয়বাদীতে রুপান্তরিত করা হয়েছে। এখানে সেই কথাই বলা হচ্ছেঃ  হে প্রভু, তোমাকে আমি কি উপহার দিব। সব কিছুই তো তোমার। প্রতিটি সত্তাই তোমার সাক্ষ্য দিচ্ছে। সেখানে আমি কোথা থেকে তোমার পছন্দের বিষয়টি উপহার দেব? সবকিছুই তো তুমি, তুমিই তো সব। এর বাইরে তো কিছুই নাই। কাজেই, উপহার দেবার মতো কোন বস্তুই অবশিষ্ট নাই। যদি থাকতো, তাহলে সেই বস্তুটিকেই তোমাকে উপহার স্বরুপ পেশ করা হতো বা করতাম।  যেহেতু নেই সেহেতু সেই প্রশ্ন তোলাই অবান্তর।

ইবনুল আরাবী এও বলেছেন, আল্লাহ বিশ্বজগতের অতিরিক্ত ও বর্হিভুত সত্তাও বটে। 

এ সর্ম্পকে হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) বলেনঃ  তুমি যেখানে নাহি সেখানে সর্বস্ব তুমি কাহার ছায়া।

মোল্লাগণ পাপ-পুণ্যের হিসাবে আল্লাহ পাককে বিচারকের আসনে বসিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা মনে করে থাকে যে যিনি আরশের অধিপতি, তিনি একটি সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে বসে আছেন। একজন একজন করে তার সামনে আসছে। তার পাপ পুণ্য বিচার আচার করে তাকে বেহেস্ত দোযখ যা দেবার দিচ্ছেন। কিন্তু সুফীদের কাছে এই আল্লাহ অর্থহীন। তারা বেহেস্ত দোযখের ধার ধারেন না। তারা মহান সত্তাকে ধারক ও বাহককে আশেক এবং মাশুক নাম দিয়ে থাকেন। এই ক্ষেত্রে রুহ্ হচ্ছে সেই বর্হিজগত থেকে আগত সত্তা। যাকে লক্ষ্য করে হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) বলছেনঃ "সর্বস্ব তুমি কাহার ছায়া"।

অন্য আরেকটি গজলে তিনি বলেছেনঃ

চাওয়া চাই ফাঁকা ফাঁকি পঞ্চভুতে তুমি বাকী
শাহাপীর নহে মাটি তোমাতে তোমারি রই।।

শব্দার্থঃ
পঞ্চ [বিশেষ্য পদ] বিশেষণ পদ/ ৫ সংখ্যা বা সংখ্যক, পাঁচ। পন্ চ + অ।
ভুত বা আত্মা[বিশেষ্য পদ] জীবাত্মা, পরমাত্মা, ব্রহ্ম।
ব্রহ্ম[বিশেষ্যপদ] র্নিগুণ, ঈশ্বর, পরব্রহ্ম, সগুণ, বিধাতা। ব্যক্তিবাচক শব্দ ব্রাহ্মণ।
পঞ্চভুত অর্থঃ পাঁচটি দেহ বুঝায়। পঞ্চ মানে পাঁচ আর ভুত অর্থ আত্মা বা দেহ। পঞ্চভুত বলতে পঞ্চ আত্মা বা দেহ বুঝায়। যা ক্ষিতি, অব, তেজ, মরুৎ, ব্যোম নামে পরিচিত। এবং এর প্রতিটিরই একটি করে দেহ আছে। আরবীতে বলা হয় খামছা আনাছের। যা আব, আতস, বাদ, খাক, নুর নামে কথিত আছে। জগতে এই ভুত সমুহ বিস্তৃত আছে।

একজন কুমার যখন এই ভুত সমবিহারে পুতুল তৈরী করে, কিংবা নানা প্রতিমা তৈরী করে তাতে আমরা প্রাণের সঞ্চার হতে দেখি না। কারণ, এর চালিকা শক্তিরুপে রুহ [নাফাক্ তু ফিহে মিররুহী। কুল্লির রুহ্ মিন আমরি রব্বি] না থাকা। এই রুহ্ হচ্ছে বহিঃজগত থেকে আসা মুল সত্তা। ইবনুল আবারী এই সত্তাটিকেই বলেছেনঃ আল্লাহ বিশ্বজগতের অতিরিক্ত ও বর্হিভুত সত্তা। যাকে হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) পণ্চভুতস্থ তুমি [ রুহ্ ] বাকী রুপে চিহ্নিত করেছেন এবং তিনি তাঁর মুল সত্তাকে মুল্যহীন মনে করতে নিষেধ করে বলেছেনঃ শাহাপীর নহে মাটি, তোমাতে [প্রভুতে] তোমারি রই [অর্থাৎ তিনি তার সত্তার মধ্যেই লীন হয়ে আছেন]।

সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৮

খায়রুল মাজলিশ - দ্বিতীয় পর্ব

 


















-------------------------------------------------
খায়রুল মাজলিশ - দ্বিতীয় পর্ব
-------------------------------------------------
স্থানঃমোমিনুল ইসলাম চিশতী সাহেবের বসত বাড়ী
ওয়াপদা রোড, পশ্চি ম রামপুরা,
ঢাকা-১২১৯।
---------------------------------------
রমজান মাস। বাদ আসর। সালঃ ২০১১ইং।

বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজে। চারদিকে রোজাদারদের ইফতারের আয়োজন চলছে। ঠিক সেই মুহুর্তে হযরত খাজা চেরাগে চিশতী (রহঃ) তসরীফ রাখলেন শাহ্ ফকির মোহাম্মাদ রতন মিয়া চিশতী নিজামীর বসত বাড়িতে। বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) যখন চিশতী সাহেবের বাড়ীতে আসেন, সে সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ আহ্ মদ চিশতী (খাদেম-বাবা চেরাগে চিশতী)।
[ উল্লেখ্য যে,  বাবাজান ছিলেন শান্তিবাগ আমার নানাবাড়ীতে। শান্তিবাগ থেকে রিক্সাযোগে আমাদের বাড়ীতে আসেন ]

বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) - কে এর ইফতারের দাওয়াত দেয়া হয়েছিল আমাদের এক পীর ভাই মোমিনুল হক চিশতীর বাড়ীতে। মোমিন ভাইয়ের বাড়ী ওয়াপদা রোড। আমাদের বাড়ী থেকে রিক্সাযোগে গেলে ১০/১৫ টাকা ভাড়া। হেঁটেই যাওয়া যায়। 
আমাদের বাড়ীতে অতিথি হয়ে  এলেন আবদুর রহমান ভাই [প্রায়ত - সাংবাদিক রহমান ভাই হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত। বাড়ীঃ গোপালগঞ্জ।] এবং সাথে শহিদ ভাই। আমরা সবাই বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) - এর পাক চরণে তাজিম বাদ আরজ পেশ করলামঃ মোমিন ভাইয়ের বাড়ীতে যাবার জন্য। তিনি আর্জি মন্ঞ্জুর করলেন এবং আমাকে আদেশ করলেনঃ 

- এই মিয়া, তুমি এখানে থাকো। আরো যারা আসবে, তাদের নিয়ে তুমি ঐ মিয়ার (মোমিন ভাইয়ের দিকে ইংগিত করছেন) বাড়ীতে ইফতারের আগে নিয়ে আসিও। 

আমিও বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) আজ্ঞাবহ হয়ে তাঁদেরকে রিক্সাযোগে উঠিয়ে দিলাম এবং অপেক্ষা করলাম ইফতারের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। সে সময়ও আরো চার-পাঁচজন পীর ভাই অামাদের বাড়ীতে আসলেন। এর মধ্যে জিন্নাহ ভাইও উপস্থিত হলেন। তার সাথে পুর্ব পরিচয় থাকায় আমার বেশ সু্বিধা হলো। অতঃপর আমরা ইফতারের দশ মিনিট পুর্বে সেখানে উপস্থিত হই। দেখলাম, বাবা চেরাগে চিশতী মোনাজাত করছেন। আমরাও শামিল হলাম।

মাগরিবের আজান হলো। আমরা একসাথে সবাই ইফতার করছি। ইফতার শেষ করে মাগরিবের নামাজ আদায় করা হলো। নামায  শেষ হলে অনেকেই সেখান থেকে বের হয়ে যান। শুধু থাকি আমি এবং জিন্নাহ ভাই। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শেখ আহমদ ভাই। আমি বাবা জানের কাছে জানতে চাইছিলাম - চিশতী উদ্যান এবং বোরহানুল আশেকীন সর্ম্পকে। 
তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেনঃ 
- কি জানতে চাও?
-বাবাজান, চিশতী উদ্যান সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছি?

তৎউত্তোরে তিনি বললেনঃ

- তুমি কি জানো, সেটা আগে বলো? [একটু স্মীত হাসি দিয়ে]বাবাজানের সেই রুপ দেখে নিজের ভেতর কেমন যেন করে উঠলো। হায়! এ রুপ কি কখনো কোনো মানুষের হয়....
অামি বললামঃ
- বাবাজান আমি দেখলাম যে, একজন সাধক যখন সারাজীবন সাধনা করেন, তখন তাঁর ভেতর পাক কালাম প্রকাশ পায়। এরপর সেই পাক কালামগুলো লিপিবদ্ধ করলে সেগুলো কিতাব আকারে আসে। যা আমরা পুস্তক আকারে দেখে থাকি। বাবা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) যত রেযাজত [কঠোর তপস্যা] করেছেন, তাঁর ভেতর যে পবিত্র বাণী উঠে অাসছিলো, তা-ই চিশতী উদ্যান।

এরপর বাবা চেরাগে চিশতী  (রহঃ) - এর কাছে আল্লামা ইকবালের একটি শায়ের পেশ করি, যা ছিলঃ
‘তেরে যমির পে যব তক না হো নুজুলে কিতাব
গেড়াহ কুশাহ  না রাজী না সাহেবে কাশ্বাফ’।।
অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তব অন্তরে ঐশী প্রেরণা অবতীর্ণ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর রহস্য প্রখ্যাত তফসীরকার  ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীই হোন, বা তফসীরকার কাশশাফের লেখক আল্লামা যমখশরীই হোন, কেউ এর মর্ম গ্রন্থী খুলতে পারবে না।

এ কথা বলার পর তিনি আমার দিকে তাকালেন। এমন ভাবে তাকালেন, যেন আমার ভেতরটা জ্বলে পুড়ে খাক্ হয়ে যাচ্ছে। এমন আগুন জ্বললো বুকের ভেতর, যা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। আমার সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গেল। অার চোখ থেকে অবিরাম পানি পড়তে লাগলো। ভয়ে অামি প্রকম্পিত ছিলাম। কতোক্ষণ ছিলাম বলতে পারবো না। তবে হুঁশ আসলো...বাবাজান যখন বললেনঃ

-তুমি ঠিকই বলেছো মিয়া...তুমি কি আসরারের [ আমাদের শ্রদ্ধেয় বড়ো ভাইজান-যাকে আমি দাদাজান বলে ডাকি। তিনি হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) এর চিশতী উদ্যান এত সুন্দরভাবে দার্শনিক দৃষ্টিভংগীতে আলোচনা করেন, যা না শুনলে মনে হবে চিশতী উদ্যানের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ কিছুই শোনা হয়নি। ] কাছে যাও নি...তার সাথে বসে কথা বলবে...বুঝছো নি মিয়া...যাও...

এরপর বাবাজানকে তাজিম করে বের হয়ে আসি।

আসার পর জিন্নাহ্ ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেঃ

- ভাইজান, আপনার কারণে বাবাজানের কাছে চিশতী উদ্যানের হাকীকাত সর্ম্পকে কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারলাম। 
জিন্নাহ ভাইয়ের কথা শুনে আমি বললামঃ
- জিন্নাহ্ ভাই, আপনিতো আমারই ভাই। আমি বাবাজানের কাছে যা জানতে চেয়েছি, অাপনিও তা জানতে পেরেছেন। এরচেয়ে বড় সৌভাগ্য কার কি হতে পারে? সবাইতো চিশতী উদ্যান পড়ে। কিন্তু এর মর্মার্থ কতোজন জানতে পেরেছে...সেটা হলো বড়ো কথা

বাদ সালাম। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।

শুক্রবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৮

খায়রুল মাজলিশ-প্রথম পর্ব

------------------------------
খায়রুল মাজলিশ।
স্থানঃ বারাহিগুনী দরবার শরীফ
বিষয়ঃ চিশতী উদ্যান
-----------------------------

হযরত খাজা চেরাগী চিশতী (রহঃ) এর বেছালে হক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে প্রথম উরশ শরীফে লক্ষাধিক ভক্তপ্রাণ আশেকানে চিশত উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করেরহাটের মাওলানা সাহেব। যার নামঃ হযরত মাওলানা শাহ্ ফজলুল হক চিশতী। তিনি করেরহাটের মাওলানা সাহেব নামেই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন এবং লোকজন তাঁকে সে নামেই সমধিক চেনেন।

তিনি চিশতী উদ্যান শরীফ থেকে এতো সু্ন্দর ও মনোমুগ্ধকর বক্তৃতা করছিলেন যে, উপস্থিত আশেকানে চিশতগণ একাগ্রচিত্তে তা শ্রবণ করছিলেন। প্রসংগক্রমে তিনি বললেনঃ সুফী সদরউদ্দিন চিশতী ভাই সাহেব, একদিন আমাকে ডেকে বললেনঃ
-ভাই সাহেব, বাবাজান কিবলা আমাকে দিয়ে কোরআন দর্শন লিখিয়েছেন। অথচ 'চিশতী উদ্যান' তাঁর কালাম শরীফের একটা ব্যাখ্যাও আমাকে দিয়ে লিখাননি। আর আপনি কি অবলীলাক্রমে তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দিয়ে যাচ্ছেন।
শুনে তিনি বললেনঃ

-ভাই সাহেব, বাবা শাহ্পীর চিশতী (রহঃ) বলেছেনঃ - আরে মিয়া, তুমিতো দেখছি ভাতের হাঁড়ির ঢাকনাটা উদলা করে দিচ্ছো..অর্থাৎ আমার সব রহস্য ব্যক্ত করে দিচ্ছো। ভাই সাহেব, তাঁর অনুমতিক্রমেই আমি এই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিচ্ছি। এটা আমার মন গড়া কথা নয়। তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন বলেই আমি বলতে পারছি।

সুধী আশেকানে চিশতগণ,

এ ব্যাপারে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) এর সারা জীবনের ধ্যান সাধনার ফসল হলো চিশতী উদ্যান। মুলতঃ এটি গজলের বই হলেও এর মধ্যে রয়েছেঃ অফুরন্ত জ্ঞানভান্ডারের রহস্যাবলী। এর মধ্যে রয়েছে হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) - এর ঐশ্বরিক প্রেমগাঁথা এবং খাজা গরীব নওয়াজ (রাঃ) এর শানে রচিত কালামে পাক। যা পারস্য দেশের আদলে রচিত হলেও বাংলাতে এমন উর্দ্দু, ফার্সী ভাষার সংমিশ্রণে লিখিত গজলের বহিঃপ্রকাশ কদাচিৎ দেখা যায় না। এতে যেমন রয়েছে মাওলানা রুমীর দর্শন তেমনি রয়েছে ইবনুল আরাবীর দর্শন। 

তেরে ইশক্ নে মুঝে এ্যায়ছা মাস্তি কর দিয়া
হার পাল হার ধরকন মে তুহি তু দেখা দিয়া।।

#স্বপন #চিশতী

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

কবর ও মাজারঃ মনা পাগলার ভাবনা - তৃতীয় ও শেষ পর্ব

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মনা বিরবির করে পড়ে যেতে লাগলো। আর মাওলানা সাহেব তার কথার কোন আমল না দিয়েই হড় হড় করে হেঁটে যেতে লাগলো। সেটা দেখে মনা আরো ক্ষেপে গিয়ে বললোঃ

কিছু্ ইলিয়াস মেওয়াতীর ভক্তরা আমাদের বলছে আমরা না কি মাজার পূজারী। তারা বিভিন্ন ছবি এডিট করে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই তাদের উদ্দেশ্য বলছিঃ

কবর আরবী শব্দ ও মাজার ফার্সী শব্দ। মাজারের কথা শুনলেই ওহাবীদের শরীরে তিন কেজি পরিমানে এলার্জি উঠে। মানুষ যেন মাজার শরীফ জিয়ারতে না যেতে পারে সেজন্য তারা বিভিন্ন চক্রান্তরে জাল বুনছে। তারা মাজার জিয়ারত করা, মাজারে ফুল দেয়া, ইত্যাদিকে শিরক ফতোয়া দিচ্ছে।

যেমুন ধরেনঃ

১. জিয়ারতের উদ্দেশ্য নবীজির রওজা মোবারকে হাজির হওয়া শিরক।
(ফতোয়ায়ে কোররা, ফতোয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া)

২. সম্মাানের উদ্দেশ্য হুজুর (দঃ) এর রওজা সামনে দাঁড়ানো শিরক।
অথচ মাজার তথা কবর জিয়ারত বিষয়ে হুজুর (দঃ) অনুমতি রয়েছে। যেমনঃ সুনান ইবনে জাজাহ-তে ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ "নিশ্চ য় রাসূল্লাল্লাহ (দঃ) বলেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম। এখন এগুলোর যিয়ারতে যাও। কারন কবর যিয়ারত, পৃথিবীতে সংযম ও আখেরাতের স্মরণ আনয়ন করে।
(সহীহ মুসলিম,হাদীস-৯৭৭, সূনানে ইবনে মাজাহ খন্ড-১,পৃ-৫০০,৫০১, সুনানে আবু দাউদ,হাদীস-৩২৩৫, মুয়াত্তা-এ-মালেক খন্ড ২,পৃ-৪৮৫)

উক্ত হাদীস হতে প্রমানিত হল যে, কবর বা মাজার যিয়ারত করা ইসলাম সম্ম ত তথা শরীয়ত সম্ম ত।

নবীজির রওজা মোবারক জিয়ারত করার ফজীলত বিষয়ে হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছেঃ
"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল্লাল্লাহ (দঃ) এরশাদ করেন, যে আমার রওজা মুবারক যিয়ারত করবে, তাঁর জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব।

(শুয়বুল ঈমান,৬/৫১পৃ, শিফা শরীফ ২/৮৩ পৃ,নাওয়ারিদুল উসুল ফি আহাদিসুর রুসুল, ২/৬৭পৃ, তারগীব ওয়াত তারহীব,২/২৭পৃ, জামিউল আহাদিস,২০/৩৪৮পৃ, জামিউস সগীর,২/৬০৫পৃ,কানজুল উম্মাল,১৫/৬৫১ পৃ, মিজানুল ইতিদাল,২/৪৩৫পৃ) ইমাম সুবকী (রহঃ) উক্ত হাদিসের ব্যাপারে বলেন, উক্ত হাদিস হাসান।(শরহুল মাওয়াহেব,১২/১৮০পৃ) এমনকি মুহাদ্দিস হক দেহলবী (রঃ) ও উক্ত হাদীসকে সহীহ বলেছেন।

হাশীয়াতুল সানাদী আলা সুনানে ইবনে মাজাহ,২/২৬৮পৃ) এছাড়া ইমাম মুলাক্কন (রহঃ) বলেন,  উক্ত হাদীসটির সনদ শক্তিশালী।(আল বদরুল মনীর,৬/২৯৬পৃ)

হযরত ফাতেমা (সাঃঅাঃ) রাসূল (দঃ) এর চাচা হযরত আমির হামজা (রাঃ) এর মাযার প্রতি প্রতিবার জুমার দিন জিয়ারত করতেন। সেজন্য উনি মদীনা থেকে ৩ মাইল দূরে অবস্থিত ওহুদের প্রান্তরে যেতেন।

১.ইমাম বায়হাকী (রহঃ) আসসুনুনুল কোবরা, ৪র্থ খন্ড-পৃ: ৭৮,হাদীস ৪৯৯৯)
এখন বন্ধুরা আপনারাই বলুন যেখানে হযরত ফাতেমা (রা:) এর স্বয়ং মাজার জিয়ারত করেছেন, আর আজকালের ইয়াজীদের বংশধররা মাজার যিয়ারত করতে কিভাবে নিষেধ করে।

ওহাবীরা মাজার শরীফে ফুল দেওয়াকে শিরক বলে, অথচ তাদের শ্রদ্ধাভাজন ইবনে তাইমিয়া যেদিন ইন্তেকাল করেন, তার লাশ বহনের সময় রাস্তার দুধারে বাড়ী ছাদে লক্ষাধিক মহিলা ফুল ছিটিয়ে শেষবারের মত শোক প্রকাশ করেছিল। (সূত্র: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল্লামা আবু মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন, পৃ-২০৭)।

এবার নিচের লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং ভাবুন, দেখবেন সত্য আপনার সম্মু খে প্রকাশ হয়ে যাবে।
মাজার জিয়ারতকারী ও ভক্তিকারী গনই সঠিক, কারন
--মাজার নাই ফেরাউনের।
-- মাজার নাই নমরুদের।
-- মাজার নাই আবু জেহেলের।
-- মাজার নেই ইয়াজীদের।
-- মাজার নেই মোহাম্মদ বিনআব্দুল ওহাবের।
-- মাজার নেই মওদুদীর।

এখন লক্ষ্য করুন, কিন্তু

-- পৃথিবীতে যত নবী- রাসূলের সন্ধান আছে তাদের সকলের মাজার আছে।
-- মাযহাবের ইমাম গণের মাযার আছে।
-- আউলিয়া কেরাম এর মাজার শরীফ আছে।
-- জামানার মুজাদ্দেদগনের মাজার আছে।
-- হাদীস শরীফের ইমাম গনের মাজার আছে।
-- তাফসীরের ইমামগনের মাজার আছে।
-- তরিকতের ইমামগনের মাজার আছে।
-- যারয় ভারত বর্ষে ইসলাম এনেছেন তাদের মাজার শরীফ আছে।
-- এমনকি মাজার বিরোধী গুরু ইবনে তাইমিয়ার ও মাজার আছে।
 কিন্তু মনার কথা কেউ শুনছে বলে মনে হচ্ছে না। তারা যেভাবে অাসছিল, ঠিক সেভাবেই চলে গেল। মনা তাদের বুঝাতে চেষ্টা করলো কিন্তু একটা পাগলের কথার কোন মুল্যই তারা দিতে চাচ্ছিল না। তারা মনার দিকে এখন ফিরেও তাকাচ্ছে না। মনা মাথায় হাত দিয়ে বললোঃসত্যের কুন দাম নাইক্ক্যা....দুর হালার মোল্লা....এই হালার লগে প্যাচাল পাইর‌্যা লাব নাইক্ক্যা। অন্য দিকে যাই গ্যা......এ কথা বলে মনা হাঁটতে শুরু করলো...

বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

কবর ও মাজারঃ মনা পাগলার ভাবনা - দ্বিতীয় পর্ব

(পুর্ব প্রকাশের পর হতে)

মাথা খারাপের কথা শুনে মনা বিগড়ে যায়। সে বলেঃ

-মাওলানা সাব, মাতা তো আমার খারাপ অয় নাই। মাথা খারাপ হইছে তাগো, যারা কইতাছে অলি আউলিয়াদের মাজার জিয়ারত করা হারাম। তাদের মাজারে সালাম দেওন জায়েজ নাই। কোন মানত করা যাইবো না...অথচ কোরআনে বলতাছেঃ

"ওয়ালা-তাহ্সাবান্নাল্লাযীনা কূতিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি আমওয়া-তা; বাল আহ্ইয়া উন ইন্দা রাব্বিহিম ইউরযাকূন (সূরা, আলে ইমরান আয়াত : ১৬৯)। অর্থঃ যারা আল্লাহর মহব্বতে জীবনকে উৎসর্গ করেছে; তাদেরকে মৃত মনে করো না, তারা বরং জীবিত, নিজের রবের নৈকট্যপ্রাপ্ত, নিজের রবের পক্ষ থেকে রিযিকও প্রাপ্ত। 

ওয়ালা-তাকুলূ লিমাই ইউক্বতালু ফী সাবীলিল্লা-হি আম্ওয়া-তা; বাল আহইয়া উওঁ ওয়ালা-কিললা -তাশ’উরূন (সূরা বাক্বারা, আয়াত : ১৫৪) অর্থঃ যারা আল্লাহর মহব্বতে জীবনকে উৎসর্গ করেছে; তাদেরকে মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা জানো না।

"আলা ইন্না আওলিয়া আল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহ্‌য্বানূন। আল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া কা-নূ ইয়াত্তাকূন। লাহুমুল্ বুশ্‌রা-ফিল্ হায়া-তিদ্ দুন্ইয়া ওয়াফিল্ আ-খিরাতি; লা-তাব্‌দিলা লিকালিমা-তিল্ লা-হি; যা-লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল  ‘আজীম। (সূরা ইউনুস, আয়াত, ৬২-৬৪)"। সর্তক হও! জেনে রাখো, আল্লাহর বন্ধু অলি-আউলিয়াদের কোন ভয় নেই এবং তাঁরা চিন্তাযুক্তও হন না। যাঁরা বিশ্বাস করেন এবং সাবধানতা অবলম্বন করেন, তাঁদের জন্য ইহকাল ও পরকালের জীবনে সুসংবাদ আছে, আল্লাহর বাণীর কোন পরিবর্তন নেই, এটিই মহা সাফল্য।

-হারামজাদা কিয়ের লগে কি মিলাইতাছে? মনডা কয় দেই একটা কানাপট্রির মইদ্যে... 

-অহনতো দিবেনই...উচিত কতা কইলেই ফাল দেন।

-ওই তুই কি জানস..ক....খালি উল্টা-পাল্টা কইলেই মনে করছে হেয় সব পারে...পারঅইন্যার পো পারঅইন্ন্যা... 

মাওলানা সাহেবের ভেংচি কাটাটা মনার মনঃপুত হয়নি। মনা মনে মনে দুঃখিত হলেও নিজেকে সামলে নিয়ে বলতে লাগলোঃ

আমি যা কইছি কোরআনই তার দলিল। কোরআনে যা আছে, তাই কইছি। আপনে তো মাওলানা....আপনে কন যেই আয়াত গুলি কইছি তা-কি কোরআনের বাইরে...তাইলে আরো কই হুনেন......

এ কথা বলেই মনা বলতে শুরু করে দিয়েছে। সে বলছেঃ

ওয়ামাই ইউত্বি‘ইল্লা-হা ওয়ার রাসূলা ফাউলাইকা মা’আল্লাযীনা আন’আমাল্লা-হু আলাইহিম মিনান নবিয়্যীনা ওয়াছ্‌ছিদ্দীকিনা ওয়াশশুহাদাই ওয়াছ্ ছালিহীনা, ওয়া হাসুনা উলা-ইকা রাফীক্বা। (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৯)

অর্থঃ সত্যবাদী, শহীদ ও সিদ্দীকগণ আল্লাহ ও রসুল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আশেক। তাঁরা বেহেশতে নবী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গী হবেন, তাঁরা কতই না সুন্দর।

হযরত আলী (আ.) ইরশাদ করেন যে, আমার অন্তরে ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, মাতা-পিতা এমনকি শীতল পানি অপেক্ষাও মহানবী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা অধিক প্রিয় (হাদিসঃ মাদারেজুন নবুয়্যত)। 
নিশ্চ ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো মৃত্যু নেই, বরং তাঁরা স্থানান্তরিত হয়, ধ্বংসশীল ইহজগৎ থেকে স্থায়ী পরজগতে (আল হাদিস)। নিশ্চ য়ই আমার বন্ধুগণ আমার জুব্বার অন্তরালে অবস্থান করেন। আমি এবং আমার আউলিয়াগণ ব্যতীত তাদের পরিচিতি সম্বন্ধে কেউ অবগত নয় (আল হাদিস)। 

আলা ইন্না আওলিয়া আল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহ্‌য্বানূন। আল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া কা-নূ ইয়াত্তাকূন। লাহুমুল্ বুশ্‌রা-ফিল্ হায়া-তিদ্ দুন্ইয়া ওয়াফিল্ আ-খিরাতি; লা-তাব্‌দিলা লিকালিমা-তিল্ লা-হি; যা-লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল  ‘আজীম। (সূরা ইউনুস, আয়াত, ৬২-৬৪)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতা’লা সবাইকে সর্তক করে বলেন, সর্তক হও! জেনে রাখো, আল্লাহর বন্ধু অলি-আউলিয়াদের কোন ভয় নেই এবং তাঁরা চিন্তাযুক্তও হন না। যাঁরা বিশ্বাস করেন এবং সাবধানতা অবলম্বন করেন, তাঁদের জন্য ইহকাল ও পরকালের জীবনে সুসংবাদ আছে, আল্লাহর বাণীর কোন পরিবর্তন নেই, এটিই মহা সাফল্য।
(চলবে)

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

বাউলদের সাধনা

ধর্ম দর্শনের নামে মিথ্যা বাউলিকরণ হয়েছে বাংলায়। বৈষ্ণব ধর্ম, সহজিয়া মতবাদ, সূফী মতবাদের মিলনে বাংলার বাউল ভাবধারা।

★ বাউলরা দেহের ভিতর দেহাতীতের সন্ধান করেন নরনারীর যুগল সাধনার মাধ্যমে। দেহের সাথে দেহের মিলন না হলে মাধুর্য ভজন হয় না। মাধুর্য ভজন না হলে মানুষ হয়ে জন্মানোর স্বার্থকতা কোথায়? এই হলো বাউলদের মৌল জিজ্ঞাসা। এই জিজ্ঞাসার উত্তর তারা খোঁজেন বিকৃতরুচি কাম সাধনায়। এই কারণে বাউলরা জোড়ায় জোড়ায় থাকেন। বাউল সাধনা একাকী পুরুষের বা একাকী নারীর সাধনা নয়। একে এক ধরনের পাশ্চাত্যের 'লিভিং টুগেদারের' সাথেও তুলনা করা চলে। লালনের ধর্মমতের 'চারিচন্দ্রভেদ', 'ষড়চক্র', 'দ্বিদলপদ্ম', 'মূলধারাচক্র', 'সহস্রদলপদ্ম', 'অধর মানুষ', 'ত্রিবেণী', 'সাধনসঙ্গিণী', 'প্রেমভজা' প্রভৃতি কাম আরাধনার ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দের তাৎপর্য জানলে বা শুনলে যে কোনো মানুষের লালনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাবে।

★ দেখুন বাউলগন কিভাবে পুরুষ-প্রকৃতি (নারী-পুরুষ) বিভক্ত হ'ল এবং কিভাবে দুই দেশে না থেকে একত্রে রইল। পদ্ম কোথায় প্রস্ফুটিত হয়, পদ্ম পুস্পের রসে কিভাবে সাধন হয় এবং সহস্রদল হতে রজঃস্রোতের সঙ্গে রসরাজ লীলা করতে করতে অগ্রসর হয়ে তিন দিন তিন রূপ ধারণ করে শেষে 'সহজ মানুষ' রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। অর্থাৎ একটি মেয়ের মাসিকের সময় বাউল সাধুগন সাধনার নামে ধর্ষন করে তিন দিন কারন তারা মনে করে মাসিকের সময় স্বয়ং প্রভু উপর থেকে নারীর যৌনিতে নেমে আসে আর এই আসার সময় নারীর দেহের অধর চাঁদ নামক নীর অর্থাৎ নারীর সাথে সেক্স করতে করতে রস বের হবার পরে একটি সাদা বস্তুু আসে তারা তাকে অধর চাঁদ নামে অভিভূত করে এর পর তারা সেটা পান করে। এবং তারা মনে করে আমরা স্বয়ং প্রভু কে পেয়ে গেলাম।

★ প্রমান দেখুন কি বলে?

★ বাউল-ফকিরেরা ঈশ্বরের সর্বোচ্চ রূপ মানবদেহের প্রাণের ধারার সাথে কিভাবে মিশে থাকে সে রহস্য উৎঘাটনে সচেষ্ট ছিলেন। বীজ-রজঃ মিলিত হয়ে মানবের জন্ম। আর এই দু'য়ের উৎপত্তি সঙ্গমকালে। উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে সহজ মানুষ উপস্থিত হয়। বাউলরা এই স্তরে পৌঁছে স্থির থেকে সাধন করতে চায়। কাম নদীর নিন্মমূখী ধারাকে ঊর্ধমূখী করে যারা সহজ মানুষ সাধন করতে পারে, তারা হলো সিদ্ধ পুরুষ। লালন তার গানে বলছেঃ-

আমি কি সন্ধানে যাই সেখানে
মনের মানুষ যেখানে।
আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি
দিবা রাতি নাই সেখানে।
যেতে পথে কাম নদীতে
পারি দিতে ত্রিবিণে
কত ধনীর ধারা যাচ্ছে মারা
পইড়ে নদীর তোড় তুফানে।
রসিক যারা চতুর তারা
তারাই নদীর ধারা চিনে
উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে
তারাই স্বরূপ সাধন জানে।
লালন বলে মইলাম জ্বলে
মইলাম আমি নিশি দিনে
আমি মনিহারা ফণির মতো
হারা হলাম পিতৃধনে।

★লালনের গানে বলা হয়েছে "গুরুরতি সাধন কর"। অর্থাৎ নারীর রতি বা মাসিকের সাধনা। যদিও অনেক বাউল বলে নিজ দেহের বীর্যের সাধনা মুলত নারীর।

মাসিকের প্রতি বাউলদের এই যে মনোভাব তা বুঝতে হলে আমাদের রাধাকৃষ্ণের কাহিনীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেতে হবে। বলা আছে, একবার কৃষ্ণ রাধা ও অন্যান্য গোপীদের সাথে অবস্থানকালে রাধার মাসিক শুরু হয়। কৃষ্ণ তা টের পেয়ে রাধাকে যেন লজ্জার মুখে পড়তে না হয় এজন্য সে মুহুর্তেই গোপীদের নিয়ে রং বা দোল খেলা শুরু করে। আর এই রং খেলা পরবর্তীকালে সনাতনী হিন্দু দাদা ও দিদিগন হলি খেলা শুরু করেছে আর আমি নাম দিয়েছি মাসিকের লাল রক্তের এর পুজা অর্চনা করন।
দোলপূর্ণিমা বাউলদের প্রধান উৎসবগুলোর একটি। মূলত বাউলরা বৈষ্ণব। বৈষ্ণবদের সাথে বাউলদের প্রধান পার্থক্য বাউলরা ইসলামের ভেক বা ছদ্মবেশ ধরে থাকে। যেমন তারা লুঙ্গি এবং পাগড়ি পরে। কিন্তু খাঁটি বৈষ্ণবরা পরে না। বাউলদের খাদ্যাভাস মূলত হিন্দু বৈষ্ণবদের দেহতত্ত্ব হতে আগত। বাউলরা পান করে মূত্র ও মল তো বটেই সাথে মাসিকের রক্ত ​​ও বীর্য। এর মূলে রয়েছে রাধা ও কৃষ্ণের পরকীয়া প্রেমের কাহিনী। আর আমরা তো জানিই পরকীয়া প্রেমে দেহ ব্যতীত কিছুই নেই। আর তাদের পরকীয়া প্রমিকার নিকট হতে মাসিকের রক্ত ​​চাই।

★ আর সেই জন্য বাউলদের নিকটে কোন নারী বেড়াতে গেলে বা কোন বাউলের নিকটে ফোন নাম্বার থাকলে সেই নারীকে বলে মা তুমি দেবি, মা তুমি জননী তুমি সাক্ষাৎ দেবি দূর্গা তুমি মা লক্ষি তুমি জগত জননী মা তোমার পায়ে ভক্তি মা তোমাকে প্রনাম মা তোমাতেই আমাদের মানব মুক্তি মা গো। বাউলদের এই চতুরতায় নারীগন ধরা খেয়ে যায়য় এবং এই ভাবে তারা বিভিন্ন কাহিনি তৈরী করে কারন মুলত তাদের উদ্দেশ্য সেই নারীর মাসিকের রক্ত ​​পান করা আর সেক্স করা।

★বাউলগন, "ব্রাহ্মণ্য, শৈব ও বৌদ্ধ সহজিয়া মতের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি মিশ্রমত যার নাম নাথপন্থ। দেহতাত্ত্বিক সাধনাই এদের লক্ষ্য। (নাথপ্নথ এবং সহজিয়া) এ দুটো সম্প্রদায়ের লোক একসময় ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়, কিন্তুু পুরনো বিশ্বাস-সংস্কার বর্জন করা সম্ভব হয়নি বলেই ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মের আওতায় থেকেও এরা পুরনো প্রথায় ধর্ম সাধনা করে চলে, তার ফলেই হিন্দু-মুসলমানের মিলিত উল মতের উদ্ভব। তাই হিন্দু গুরুর মুসলিম সাগরেদ বা মুসলিম গুরুর হিন্দু সাগরেদ গ্রহণে কোন বাধা নেই

★ বাউলদের মধ্যে রজঃপান অর্থাৎ মেয়েদের মাসিকের রক্ত ​​পান করা একটি সাধারন ঘটনা। এছাড়া, তারা রোগমুক্তির জন্য স্বীয় মুত্র ও স্তনদুগ্ধ পান করে। সর্বরোগ থেকে মুক্তির জন্য তারা মল, মুত্র, রজঃ ও বীর্য মিশ্রণে প্রেমভাজা নামক একপ্রকার পদার্থ তৈরি করে তা ভক্ষণ করে। একজন বাউলের ​​একাধিক সেবাদাসী থাকে এদের অধিকাংশই কমবয়সী মেয়ে

★ সাধারণ বাউলরা নাড়ার ফকির নামে পরিচিত 'নাড়া' শব্দটির অর্থ হল শাখাহীন অর্থাৎ এদের কোন সন্তান হয়না। তারা নিজেদের হিন্দু মুসলমান কোনকিছু বলেই পরিচয় দেয়না। লালন শাহ ছিলেন বাউলদের গুরু। লালনকে বাউলরা দেবতা জ্ঞানে পূজা করে। তাই তার 'ওরসে' তাদের আগমন এবং ভক্তি অর্পণ বাউলদের ধর্মের অঙ্গ। (বা.বা পৃঃ 14) লালন শাহের অনুসারীদের একটি অংশ 1986 সালের মার্চ মাসে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একজন মুসলমান অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, "আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা। আমরা না-মুসলমান, না-হিন্দু। আমাদের নবী সাঁইজি লালন শাহ । তাঁর গান আমাদের ধর্মীয় শ্লোক। সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি .. ... আমাদের গুরুই আমাদের রাসুল। ... ডক্টর সাহেব [অর্থাৎ উক্ত মুসলিম অধ্যাপক] আমাদের তীর্থ ভূমিতে ঢুকে আমাদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেন। কোরান তেলাওয়াত করেন, ইসলামের কথা বলেন ... এই সবই আমাদের তীর্থভূমিতে আপত্তিকর। আমরা আলাদা একটি জাতি, আমাদের কালেমাও আলাদা -লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ। "(দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২ য় সংস্করণ, আগস্ট 1998 পৃঃ 4-95)

★ উপরের কথা গুলো কোন মুসলিম। যদি ভাল ভাবে বুঝে তাহলে কখনো বাউলবাদ তথা বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহন করবে না আর এই বাউলবাদ তথা বৈষ্ণববাদ মুসলিম ও সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলি দের ও ক্ষতি করে চলছে দিনের পর দিন । দেখুন মহান রাব্বুল আলামিন আল কোরআনে কি বলে,

★83 - তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? । আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে

★ সূরা আল ইমরান। 85 - যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত

★ সূরা আল ইমরান: 101 - আর তোমরা কেমন করে কাফের হতে পার, অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াত সমূহ এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রসূল। আর যারা আল্লাহর কথা দৃঢ়ভাবে ধরবে, তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে সরল পথের

★ সূরা আল ইমরান: 102 - হে ঈমানদারগণ। আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না

★ সূরা আল ইমরান। 104 - আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম

★ সূরা আল ইমরান: । 105 - আর তাদের মত হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শন সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে-তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।

★ এই আয়াত গুলো একটু গভীরতম ভাবে পড়ে তার পরে আপনারা বাউল তথা বৈষ্ণবধর্ম গ্রহন করিয়েন।

★বাউলবাদ সুফিবাদ এর মাঝে প্রবেশ করে কলঙ্কিত করে ফেলেছে দিনের পর দিন তাই আসুন বাউলবাদ না বলুন।

★ বিঃদ্রঃ বৈষ্ণব মতবাদে সবচে বাজে জঘন্যতম কাজটি হলো এদের মাঝে মা বোন মাসি কাকি বলে কিছু নেই। তারা মনে প্রানে বিশ্বাস করে আমাদের সকল আত্মায় একই। তাই আমাদের মাঝে ভেদাভেদ থাকতে পারে না। আর বৈষ্ণব মতাদর্শ হতে এই রস রতি অর্থাৎ সেক্স এর সাধনা ঢুকে পরেছে লালনবাদে। তাই তাদের মাঝে সেক্স এর সাধনা করে সমস্যাদি নেই।

[ বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ  দি ফিলোফোসি অফ লাভ ]

বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৭

জীবনের দৌড়

স্পার্ম যাকে আমরা শুক্রানু বলি। যা প্রতি বারে আনুমানিক ২০-৩০ কোটি স্পার্ম নির্গত হয়। এই ২০-৩০ কোটি স্পার্ম, ওভামের দিকে পাগলের মত ছুটতে ছুটতে পৌঁছায় মাত্র ৩০০-৫০০ মাত্র আর বাকিরা এই "ছুটে চলার" দৌড়ে ক্লান্ত, শ্রান্ত অথবা পরাজিত হয়ে মারা যায়,বিলীন হয়ে যায়।

এই ৩০০-৫০০ স্পার্ম, যেগুলো ডিম্বানুর কাছে যেতে পেরেছে তাদের মধ্যে মাত্র একটি, স্পার্ম ডিম্বানুকে ফার্টিলাইজ করে। সেই ভাগ্যবান স্পার্মটি হচ্ছেন আপনি কিংবা আমি।

কখনও কি এই রিয়ালিটি মাথায় এনেছেন?

আপনি তখন দৌড়েছিলেন,যখন আপনার চোখ,হাত পা মাথা ছিল না! তবু আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার কোন সার্টিফিকেট ছিল না! মস্তিষ্ক ছিল না, তবুও আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার কোন শিক্ষা ছিল না, দৌড়েছিলেন কারও সাহায্য ছাড়া, তবু আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়ছিলেন,যখন আপনার একটি গন্তব্য ছিল এবং সেই গন্তব্যের দিকে উদ্দেশ্য ঠিক রেখে একা একাগ্র চিত্তে দৌড়িয়ে ছিলেন এবং শেষ অবধি আপনি জিতেছিলেন।

আর আজ!

আপনি কিছু একটা হলেই ঘাবড়ে যান।  নিরাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু কেন? কেন আপনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন।
এখন আপনার বন্ধু বান্ধব, ভাই বোন, সার্টিফিকেট সবকিছু আছে। হাত-পা আছে, শিক্ষা আছে, প্ল্যান করার মস্তিষ্ক আছে, সাহায্য করার মানুষ আছে, তবুও আপনি আশা হারিয়ে আশা ছেড়ে নিরাশায় দুলছেন।

যখন আপনি জীবনের প্রথম দিনে হার মানেন নি, ৩০ কোটি স্পার্মের সাথে মরণপণ যুদ্ধ করে ক্রমাগত দৌড় প্রতিযোগিতায় কোন কিছুর অবলম্বন ছাড়া শুধু একা একাই জিতেছেন।

সেখানে আজ! আপনি কেন হারবেন? কেন হার মানবেন? আপনি শুরুতে জিতেছেন, শেষে জিতেছেন, মাঝপথেও আপনি জিতবেন। সবচাইতে বেশী কি চান?  মূল্য দিন, বিরামহীন লেগে থাকুন- আপনি জিতবেন।কারন,আপনার জন্ম সৃষ্টির লক্ষেই!!
এগিয়ে চলুন!

হ্যাঁ আমি এগিয়ে যাব। পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে যাব। কোন বাঁধাই আর আমাকে আটকাতে পারবে না।

[ বিশেষ ধন্যবাদঃ দি ফিলোসোফি অফ লাভ নামক পোষ্টের এডমিনকে ]